| বিশ্লেষণ
চন্দন নন্দীর পুরনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পুনরাবৃত্তি: পরেশ বড়ুয়াকে ঘিরে তথ্যপ্রমাণহীন ‘সংবাদ’ আনন্দবাজার ও এই সময় অনলাইনে
২০ জানুয়ারী ২০২৬
ভারতের আসামের সশস্ত্র সংগঠন আলফা (স্বাধীন)-এর প্রধান পরেশ বড়ুয়া ঢাকায় এসেছেন দাবিতে এমন দাবি করে তথ্যসূত্রহীন ও কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা। পরে ওই সংবাদের অনুকরণে একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই সময় অনলাইন নামক একটি পোর্টাল। এসব সংবাদে দাবি করা হয়, আলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া মিয়ানমার থেকে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন, এবং জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন।
সংবাদ দুটিতে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দেয়া হয়নি। সূত্র হিসেবে কেবল অস্পষ্টভাবে “গোয়েন্দা সংস্থা” ও “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তা”র কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তাদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা দাবির পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়, কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ঢাকায় পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এদের একজনের নাম আনন্দবাজার-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে “রেজাউল হায়দার করিম” হিসেবে, আর এই সময় অনলাইন-এ তাকে বলা হয়েছে “মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী”।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান করে দেখেছে, নর্থ ইস্ট নিউজের চন্দন নন্দী প্রথম এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অবতারণা করেছেন। এ বছর জুনের ১৯ তারিখ চন্দন নন্দী নর্থ ইস্ট নিউজে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করেন, বাংলাদেশের সাবেক সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী “ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য চলতি মাসের ৬ থেকে ১৭ জুন চীন সফর করেছেন”। কোনোরকম সূত্রের বরাত ছাড়াই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী তখন দৈনিক আমার দেশকে জানিয়েছিলেন, মুক্তি পাওয়ার পর তিনি অন্য কোনো দেশে ভ্রমণই করেননি।
চন্দন নন্দীর ওই ভুয়া দাবিই এই সময় অনলাইন-এ পুনরাবৃত্তি করা হয়। সেখানে বলা হয়, “রেজ্জাকুল চিনে গিয়ে বাংলাদেশের জঙ্গিদের জন্য আবার অস্ত্রশস্ত্র আনার ব্যবস্থা করতে গিয়েছিলেন বলে খবর পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা”, এর পক্ষেও কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে, চন্দন নন্দী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের অংশ হিসেবে রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে কেন্দ্র করে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অবতারণা করেছিলেন, আনন্দবাজার ও এই সময় অনলাইন-এর পরেশ বড়ুয়াকে নিয়ে প্রকাশিত তথ্যপ্রমাণহীন প্রতিবেদনগুলো তারই ধারাবাহিকতা।
আরও পড়ুন: যৌথ মহড়া নিয়ে চন্দন নন্দীর অপপ্রচার
Topics:
ভারতীয় গণমাধ্যম
বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা স্থগিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র
দাগনভূঞায় সমীর দাসের লাশ উদ্ধার: পরিবার বলছে সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নেই,
ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যু: আর্থিক লেনদেনের কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার
“গুম হওয়া রাজনীতিকদের ৭৫%”-কে “জীবিত ফেরাদের ৭৫%” হিসেবে খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি স্টার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
বিশ্লেষণ
চন্দন নন্দীর পুরনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পুনরাবৃত্তি: পরেশ বড়ুয়াকে ঘিরে তথ্যপ্রমাণহীন ‘সংবাদ’ আনন্দবাজার ও এই সময় অনলাইনে
২০ জানুয়ারী ২০২৬
ভারতের আসামের সশস্ত্র সংগঠন আলফা (স্বাধীন)-এর প্রধান পরেশ বড়ুয়া ঢাকায় এসেছেন দাবিতে এমন দাবি করে তথ্যসূত্রহীন ও কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা। পরে ওই সংবাদের অনুকরণে একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই সময় অনলাইন নামক একটি পোর্টাল। এসব সংবাদে দাবি করা হয়, আলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া মিয়ানমার থেকে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন, এবং জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছেন।
সংবাদ দুটিতে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দেয়া হয়নি। সূত্র হিসেবে কেবল অস্পষ্টভাবে “গোয়েন্দা সংস্থা” ও “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তা”র কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তাদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা দাবির পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়, কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ঢাকায় পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এদের একজনের নাম আনন্দবাজার-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে “রেজাউল হায়দার করিম” হিসেবে, আর এই সময় অনলাইন-এ তাকে বলা হয়েছে “মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী”।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান করে দেখেছে, নর্থ ইস্ট নিউজের চন্দন নন্দী প্রথম এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অবতারণা করেছেন। এ বছর জুনের ১৯ তারিখ চন্দন নন্দী নর্থ ইস্ট নিউজে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করেন, বাংলাদেশের সাবেক সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী “ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য চলতি মাসের ৬ থেকে ১৭ জুন চীন সফর করেছেন”। কোনোরকম সূত্রের বরাত ছাড়াই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী তখন দৈনিক আমার দেশকে জানিয়েছিলেন, মুক্তি পাওয়ার পর তিনি অন্য কোনো দেশে ভ্রমণই করেননি।
চন্দন নন্দীর ওই ভুয়া দাবিই এই সময় অনলাইন-এ পুনরাবৃত্তি করা হয়। সেখানে বলা হয়, “রেজ্জাকুল চিনে গিয়ে বাংলাদেশের জঙ্গিদের জন্য আবার অস্ত্রশস্ত্র আনার ব্যবস্থা করতে গিয়েছিলেন বলে খবর পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা”, এর পক্ষেও কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে, চন্দন নন্দী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের অংশ হিসেবে রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে কেন্দ্র করে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অবতারণা করেছিলেন, আনন্দবাজার ও এই সময় অনলাইন-এর পরেশ বড়ুয়াকে নিয়ে প্রকাশিত তথ্যপ্রমাণহীন প্রতিবেদনগুলো তারই ধারাবাহিকতা।
আরও পড়ুন: যৌথ মহড়া নিয়ে চন্দন নন্দীর অপপ্রচার