| বিশ্লেষণ
জান্নাতারা রুমীর মৃত্যু: ক্রমাগত সাইবার বুলিং ও হত্যা হুমকি পাচ্ছিলেন আওয়ামীপন্থী অ্যাকাউন্ট থেকে
১৫ মে ২০২৬
রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকার জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (ধানমন্ডি থানা) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী জান্নাত আরা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
হাজারীবাগ থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে বলছে, জান্নাত আরা রুমী আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ আরও জানায়, পারিবারিকভাবে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ থেকে জান্নাত আরা রুমীকে ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাফ্যাক্ট।
যেভাবে শুরু হয় জান্নাত আরা রুমীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি প্রদান
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে। সেদিন কথিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ। একই দিনে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় এক নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর থেকেই ইন্টারনেটে জান্নাত আরা রুমীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি প্রদান করা হয়।
জান্নাত আরা রুমীকে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার তেমন কিছু পোস্টের নমুনা উল্লেখ করা হলো।
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ নামে একটি ফেসবুক গ্রপে গত ১৩ নভেম্বর রাত ১০টা ৯ মিনিটে ‘চেতনায় ৭১’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জান্নাত আরা রুমী “লিস্টেড” হয়েছেন বলে হুমকি দিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনের শুরুতে রুমীর পরিচয় ও সম্পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। শেষের দিকে এক পর্যায়ে লিখা হয়, ‘পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিসমিল্লাহ হোটেলের পেছনে বাসা উপজেলার নজিপুরে, বাকীটা ও জানাতে হবে। হয়তো জানাও হয়ে গেছে, মোট কথা তুই লিস্টেড। তোর বিচার আমাদের বোনেরা করবে।’
‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রপে গত ১৪ নভেম্বর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে Arshad Achadur Jaman নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জান্নাত আরা রুমীকে নিয়ে একই পোস্ট করা হয়।
পাশাপাশি, ‘Supporters of Bangladesh Awami League’ নামে একটি ফেসবুক গ্রপে গত ১৫ নভেম্বর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ‘Md Hasan 71’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই পোস্ট করা হয়।
শুধু আওয়ামীপন্থী ফেসবুক গ্রুপ থেকেই নয়, ব্যক্তিকেন্দ্রীক আওয়ামীপন্থী অ্যাকাউন্ট থেকেও জান্নাত আরা রুমীকে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার নজির পাওয়া গিয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন ফেসবুকে নিয়মিত অপতথ্য ছড়ান।
এদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন ‘Telent Kanti Das (টেলেন্ট কান্তি দাস)। তিনি গত ১৩ নভেম্বর জান্নাত আরা রুমীর পরিচয় ও ঠিকানা উল্লেখ করে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দেন।
একই বিষয়ে পোস্ট দিয়েছেন এমন আরেকজন হচ্ছেন কবীর চৌধুরী তন্ময়। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে উল্লেখ আছে, তিনি বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ) সভাপতি। তবে এর আগেও তিনি আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন গুজব ও অপতথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন। তখন সেসব অপতথ্য দেশের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম শনাক্ত করে সত্যতা প্রকাশ করেছিল। কবীর চৌধুরী তন্ময় গত ১৫ নভেম্বর জান্নাত আরা রুমীকে নিয়ে পোস্ট দেন। এই পোস্টে তিনি রুমীকে সাইবার বুলিং এবং পরোক্ষভাবে হত্যার হুমকি দেন।
এদিকে,জান্নাতারা রুমীর মৃত্যুর পরে আওয়ামীপন্থী অনেককে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাঁর দেয়াফেসবুক পোস্টের কমেন্টে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এই মৃত্যু নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি, বাপ্পাদিত্য বসুকে উল্লাস করে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) একটি পোস্ট দিয়েছেন। মৃত্যুর সংবাদ পোস্ট করে বাপ্যাদিত্য লিখেছেন, "ওদের একটারও স্বাভাবিক মৃত্যু হবে না।
ফোকাস থাকবে একটার উপর। আর নন ফোকাসড একেকটা মরবে।"
Topics:
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির জয়ে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বয়ানের প্রভাব
সীমান্তের কাল্পনিক চিত্র আর ভুল তথ্য দিয়ে বানানো গেরুয়া-সবুজ ম্যাপ
সীমান্তের কোনোদিকেই কোনও দল একচেটিয়া আসন পায়নি
আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা
কালের কণ্ঠের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উদ্বেগ’
যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২%
অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে তথ্য সচিবকে জুলাইবিরোধী হিসেবে অপপ্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
বিশ্লেষণ
জান্নাতারা রুমীর মৃত্যু: ক্রমাগত সাইবার বুলিং ও হত্যা হুমকি পাচ্ছিলেন আওয়ামীপন্থী অ্যাকাউন্ট থেকে
১৫ মে ২০২৬
রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকার জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (ধানমন্ডি থানা) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী জান্নাত আরা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
হাজারীবাগ থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে বলছে, জান্নাত আরা রুমী আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ আরও জানায়, পারিবারিকভাবে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ থেকে জান্নাত আরা রুমীকে ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাফ্যাক্ট।
যেভাবে শুরু হয় জান্নাত আরা রুমীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি প্রদান
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে। সেদিন কথিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ। একই দিনে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় এক নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর থেকেই ইন্টারনেটে জান্নাত আরা রুমীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি প্রদান করা হয়।
জান্নাত আরা রুমীকে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার তেমন কিছু পোস্টের নমুনা উল্লেখ করা হলো।
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ নামে একটি ফেসবুক গ্রপে গত ১৩ নভেম্বর রাত ১০টা ৯ মিনিটে ‘চেতনায় ৭১’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জান্নাত আরা রুমী “লিস্টেড” হয়েছেন বলে হুমকি দিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনের শুরুতে রুমীর পরিচয় ও সম্পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। শেষের দিকে এক পর্যায়ে লিখা হয়, ‘পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিসমিল্লাহ হোটেলের পেছনে বাসা উপজেলার নজিপুরে, বাকীটা ও জানাতে হবে। হয়তো জানাও হয়ে গেছে, মোট কথা তুই লিস্টেড। তোর বিচার আমাদের বোনেরা করবে।’
‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রপে গত ১৪ নভেম্বর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে Arshad Achadur Jaman নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জান্নাত আরা রুমীকে নিয়ে একই পোস্ট করা হয়।
পাশাপাশি, ‘Supporters of Bangladesh Awami League’ নামে একটি ফেসবুক গ্রপে গত ১৫ নভেম্বর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ‘Md Hasan 71’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই পোস্ট করা হয়।
শুধু আওয়ামীপন্থী ফেসবুক গ্রুপ থেকেই নয়, ব্যক্তিকেন্দ্রীক আওয়ামীপন্থী অ্যাকাউন্ট থেকেও জান্নাত আরা রুমীকে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার নজির পাওয়া গিয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন ফেসবুকে নিয়মিত অপতথ্য ছড়ান।
এদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন ‘Telent Kanti Das (টেলেন্ট কান্তি দাস)। তিনি গত ১৩ নভেম্বর জান্নাত আরা রুমীর পরিচয় ও ঠিকানা উল্লেখ করে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দেন।
একই বিষয়ে পোস্ট দিয়েছেন এমন আরেকজন হচ্ছেন কবীর চৌধুরী তন্ময়। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে উল্লেখ আছে, তিনি বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ) সভাপতি। তবে এর আগেও তিনি আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন গুজব ও অপতথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন। তখন সেসব অপতথ্য দেশের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম শনাক্ত করে সত্যতা প্রকাশ করেছিল। কবীর চৌধুরী তন্ময় গত ১৫ নভেম্বর জান্নাত আরা রুমীকে নিয়ে পোস্ট দেন। এই পোস্টে তিনি রুমীকে সাইবার বুলিং এবং পরোক্ষভাবে হত্যার হুমকি দেন।
এদিকে,জান্নাতারা রুমীর মৃত্যুর পরে আওয়ামীপন্থী অনেককে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাঁর দেয়াফেসবুক পোস্টের কমেন্টে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এই মৃত্যু নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি, বাপ্পাদিত্য বসুকে উল্লাস করে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) একটি পোস্ট দিয়েছেন। মৃত্যুর সংবাদ পোস্ট করে বাপ্যাদিত্য লিখেছেন, "ওদের একটারও স্বাভাবিক মৃত্যু হবে না।
ফোকাস থাকবে একটার উপর। আর নন ফোকাসড একেকটা মরবে।"