| বিশ্লেষণ
যশোরের রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ড:রাজনৈতিক কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
৬ জানুয়ারী ২০২৬
যশোরের মনিরামপুরে গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) রানা প্রতাপ বৈরাগী নামে এক বরফকল ব্যবসায়ী ও সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আজতাক বাংলা একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের শিরোনামে তাঁরা লিখেছে, ‘ভারতীয় এজেন্ট বদনাম দিয়ে Bangladeshi Hindu Journalist Rana Pratap Bairagi কে নলি কেটে তারপর গুলি।’
সংবাদ প্রতিবেদনের ভেতরের অংশে বলা হয়েছে, ‘Hindu ব্যক্তির আবার দাম কী? যেখানে পাও সেখানেই মারো, এই নীতিতে চলছে Bangladesh এ। Jessore র Monirampur এ প্রকাশ্যে গুলি করে এক হিন্দু যুবককে হত্যা করা হলো এবার।…’
এমন তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এই প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, রানা প্রতাপ বৈরাগী হিন্দু ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে, যশোরের মনিরামপুরে বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় বা সাম্প্রদায়িক ইস্যু নেই। এটি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার সম্পর্কিত ঘটনা।
এই বিষয়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দ্য ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গতকাল (৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলার মনিরামপুর উপজেলার কোপালিয়া বাজারে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে এসে রানা প্রতাপ বৈরাগীর মাথায় কয়েকবার গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে এসব প্রতিবেদনে তাঁর হত্যাকাণ্ড ধর্মীয় কারণে হওয়ার তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিষয় আছে কিনা তা জানতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, রানা প্রতাপ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকান্ডে সাম্প্রদায়িক বিষয় নেই। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
পরবর্তীতে বাংলাফ্যাক্ট দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের যশোর জেলা প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম মিঠুর সাথে যোগাযোগ করে। তিনিও জানান, ‘রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’
অর্থাৎ, রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আজতাক বাংলার প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
Topics:
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির জয়ে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বয়ানের প্রভাব
সীমান্তের কাল্পনিক চিত্র আর ভুল তথ্য দিয়ে বানানো গেরুয়া-সবুজ ম্যাপ
সীমান্তের কোনোদিকেই কোনও দল একচেটিয়া আসন পায়নি
আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা
কালের কণ্ঠের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উদ্বেগ’
যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২%
অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে তথ্য সচিবকে জুলাইবিরোধী হিসেবে অপপ্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
ডিভি লটারির তালিকা থেকে বাদ পড়া নতুন নয়, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের নাম নেই
'Greater Bangladesh' rumor: India's Foreign Minister's Remarks in Light of BanglaFact and Bangladeshi Media
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির জয়ে ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বয়ানের প্রভাব
ফেনীকে বাংলাদেশের ‘চিকেন নেক’ আখ্যা দিয়ে
ভারতীয় এক্স হ্যান্ডেল থেকে আক্রমণাত্মক প্রচার
বিশ্লেষণ
যশোরের রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ড:রাজনৈতিক কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
৬ জানুয়ারী ২০২৬
যশোরের মনিরামপুরে গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) রানা প্রতাপ বৈরাগী নামে এক বরফকল ব্যবসায়ী ও সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আজতাক বাংলা একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের শিরোনামে তাঁরা লিখেছে, ‘ভারতীয় এজেন্ট বদনাম দিয়ে Bangladeshi Hindu Journalist Rana Pratap Bairagi কে নলি কেটে তারপর গুলি।’
সংবাদ প্রতিবেদনের ভেতরের অংশে বলা হয়েছে, ‘Hindu ব্যক্তির আবার দাম কী? যেখানে পাও সেখানেই মারো, এই নীতিতে চলছে Bangladesh এ। Jessore র Monirampur এ প্রকাশ্যে গুলি করে এক হিন্দু যুবককে হত্যা করা হলো এবার।…’
এমন তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এই প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, রানা প্রতাপ বৈরাগী হিন্দু ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে, যশোরের মনিরামপুরে বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় বা সাম্প্রদায়িক ইস্যু নেই। এটি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার সম্পর্কিত ঘটনা।
এই বিষয়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দ্য ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গতকাল (৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলার মনিরামপুর উপজেলার কোপালিয়া বাজারে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে এসে রানা প্রতাপ বৈরাগীর মাথায় কয়েকবার গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে এসব প্রতিবেদনে তাঁর হত্যাকাণ্ড ধর্মীয় কারণে হওয়ার তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিষয় আছে কিনা তা জানতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, রানা প্রতাপ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকান্ডে সাম্প্রদায়িক বিষয় নেই। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
পরবর্তীতে বাংলাফ্যাক্ট দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের যশোর জেলা প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম মিঠুর সাথে যোগাযোগ করে। তিনিও জানান, ‘রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’
অর্থাৎ, রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আজতাক বাংলার প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।