| বিশ্লেষণ

অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার

৭ জানুয়ারী ২০২৬


অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার

সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যম সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার দিচ্ছে। মিথ্যা তথ্যের ওপর তৈরি করা এসব বয়ানে বলা হচ্ছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনাগুলোর সাথে সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো সম্পর্ক মেলেনি। 



১. চরমপন্থি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার রানা প্রতাপ বৈরাগী


বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী  (৩৮) নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।  ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত তাঁকে ডেকে নিয়ে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। 


বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান:


যশোরের মনিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় বা সাম্প্রদায়িক ইস্যু নেই। এটি আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার সম্পর্কিত। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, রানা প্রতাপ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় নেই।


পরবর্তীতে বাংলাফ্যাক্ট দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের যশোর জেলা প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম মিঠুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনিও জানান, ‘রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’ বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক দেখুন এখানে।



২. মুদী দোকানী শরৎ চক্রবর্তী (মণি)


৫ জানুয়ারি নরসিংদীর পলাশে শরৎ চক্রবর্তী (মণি) নামে এক মুদী দোকানীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।


বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান:


মুদী দোকানী শরৎ চক্রবর্তী (মণি) হত্যাকাণ্ডের সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কোনো সাম্প্রদায়িক কারণে নয়, বরং পারিবারিক ইস্যুতে এই ঘটনা ঘটেছে।


শরৎ চক্রবর্তীর ছোট ভাই রনি চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো যোগ নেই বলে জানান। তিনি বলেন, “আমাদের সাথে সবার ভালো সম্পর্ক। কারো সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো সমস্যা নেই।”




৩. ছিনতাইয়ের শিকার খোকন চন্দ্র দাস


শরীয়তপুরের ডামুড্যায় গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তিনি মারা যান।


বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান: 


সাম্প্রদায়িক কারণে নয়, বরং টাকা ছিনতাইয়ের পর চিনে ফেলায় কুপিয়ে আহত করা ও শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস নিহত হয়েছেন। নিহতের বাবার বরাতে এবং মামলার এজাহার সূত্রে হত্যাকাণ্ডের এই কারণ জানা গেছে। খোকন চন্দ্র দাসের বাবা এজহারে লেখেন, “আমার ছেলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করিলে আসামীরা তাদের হাতে থাকা চাকু/খোড়া দিয়ে আমার ছেলেকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করিয়া টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। আসামীদের এলোপাথারি ছুরিকাঘাতে আমার ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আসামীদেরকে চিনে ফেলায় আসামীরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ছেলের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।” পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও অনুরূপ চিত্র উঠে এসেছে। বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক দেখুন এখানে।



৪. বিধবা হিন্দু নারী 


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু নারীকে (৪০) ধর্ষণ করে গাছের সাথে বেঁধে মাথার চুল কেটে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার দুই বখাটের বিরুদ্ধে। গত ৩ জানুয়ারি রাতে উপজেলার নদীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন



ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে চাননি, তবে পুলিশের সাথে কথা বলতে বলেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জেল্লাল হোসেন বাংলাফ্যাক্টকে বলেন, “ঘটনাটির সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই।” 


প্রতিদিনের বাংলাদেশের স্থানীয় সাংবাদিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, এটির সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো কিছুর সম্পর্করনেই।


৫.  সহকর্মীর গুলিতে নিহত আনসার সদস্য বজেন্দ্র বিশ্বাস 


গত ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় সহকর্মীর শটগানের গুলিতে বজেন্দ্র বিশ্বাস (৪২) নামে এক আনসার সদস্য নিহত হন। উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় লাবিব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। সূত্র: সময় নিউজ


বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান:


ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, মূলত অন্য এক আনসার সদস্য দুষ্টুমির ছলে বন্দুক তাক করলে অসাবধানতাবশত গুলি বের হয়ে বজেন্দ্র বিশ্বাস গায়ে লাগে। আমরা ইতিমধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। এটির সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই।


কালের কন্ঠের প্রতিনিধি মুখলেছুর রহমান মনিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ঘটনাটির সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বলে জানান।


৬. চাঁদাবাজির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার শিকার অমৃত মণ্ডল


গত ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট (২৯) নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট পুলিশের তালিকাভুক্ত সম্রাট বাহিনীর প্রধান।


পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে প্রথম আলো জানায়, অমৃত মণ্ডল নিজের নামে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে আশপাশের এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজি করতেন। তিনি হোসেনডাঙ্গা পুরাতন বাজার এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গতকাল সম্রাট বাহিনীর অন্য সদস্যদের নিয়ে ওই বাড়িতে যান। এ সময় বাড়ির মালিককে না পেয়ে তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাড়ির লোকজন ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন গিয়ে সম্রাটকে পিটুনি দেন। এতে ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্য সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও সেলিম স্থানীয় জনতার হাতে আটকে পড়েন। সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গানসহ আটক করে পুলিশ।এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি পড়ুন এখানে






Topics:

ভারতীয় গণমাধ্যম

বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা স্থগিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র
১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা স্থগিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

দাগনভূঞায় সমীর দাসের লাশ উদ্ধার: পরিবার বলছে সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নেই,
ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
বিভ্রান্তিকর
১৩ জানুয়ারী ২০২৬

দাগনভূঞায় সমীর দাসের লাশ উদ্ধার: পরিবার বলছে সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নেই, ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার

সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যু: আর্থিক লেনদেনের কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
বিভ্রান্তিকর
১১ জানুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যু: আর্থিক লেনদেনের কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার

“গুম হওয়া রাজনীতিকদের ৭৫%”-কে “জীবিত ফেরাদের ৭৫%” হিসেবে খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি স্টার
৭ জানুয়ারী ২০২৬

“গুম হওয়া রাজনীতিকদের ৭৫%”-কে “জীবিত ফেরাদের ৭৫%” হিসেবে খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি স্টার

যশোরের রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ড:রাজনৈতিক কারণকে  ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
৬ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরের রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ড:রাজনৈতিক কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার

বিশ্লেষণ

অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার

৭ জানুয়ারী ২০২৬

<p>অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার
<br /></p>

সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যম সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার দিচ্ছে। মিথ্যা তথ্যের ওপর তৈরি করা এসব বয়ানে বলা হচ্ছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনাগুলোর সাথে সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো সম্পর্ক মেলেনি। 



১. চরমপন্থি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার রানা প্রতাপ বৈরাগী


বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী  (৩৮) নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।  ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত তাঁকে ডেকে নিয়ে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। 


বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান:


যশোরের মনিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় বা সাম্প্রদায়িক ইস্যু নেই। এটি আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার সম্পর্কিত। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, রানা প্রতাপ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় নেই।


পরবর্তীতে বাংলাফ্যাক্ট দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের যশোর জেলা প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম মিঠুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনিও জানান, ‘রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’ বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক দেখুন এখানে।



২. মুদী দোকানী শরৎ চক্রবর্তী (মণি)


৫ জানুয়ারি নরসিংদীর পলাশে শরৎ চক্রবর্তী (মণি) নামে এক মুদী দোকানীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।


বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান:


মুদী দোকানী শরৎ চক্রবর্তী (মণি) হত্যাকাণ্ডের সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কোনো সাম্প্রদায়িক কারণে নয়, বরং পারিবারিক ইস্যুতে এই ঘটনা ঘটেছে।


শরৎ চক্রবর্তীর ছোট ভাই রনি চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো যোগ নেই বলে জানান। তিনি বলেন, “আমাদের সাথে সবার ভালো সম্পর্ক। কারো সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো সমস্যা নেই।”




৩. ছিনতাইয়ের শিকার খোকন চন্দ্র দাস


শরীয়তপুরের ডামুড্যায় গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তিনি মারা যান।


বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান: 


সাম্প্রদায়িক কারণে নয়, বরং টাকা ছিনতাইয়ের পর চিনে ফেলায় কুপিয়ে আহত করা ও শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস নিহত হয়েছেন। নিহতের বাবার বরাতে এবং মামলার এজাহার সূত্রে হত্যাকাণ্ডের এই কারণ জানা গেছে। খোকন চন্দ্র দাসের বাবা এজহারে লেখেন, “আমার ছেলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করিলে আসামীরা তাদের হাতে থাকা চাকু/খোড়া দিয়ে আমার ছেলেকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করিয়া টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। আসামীদের এলোপাথারি ছুরিকাঘাতে আমার ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আসামীদেরকে চিনে ফেলায় আসামীরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ছেলের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।” পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও অনুরূপ চিত্র উঠে এসেছে। বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক দেখুন এখানে।



৪. বিধবা হিন্দু নারী 


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু নারীকে (৪০) ধর্ষণ করে গাছের সাথে বেঁধে মাথার চুল কেটে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার দুই বখাটের বিরুদ্ধে। গত ৩ জানুয়ারি রাতে উপজেলার নদীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন



ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে চাননি, তবে পুলিশের সাথে কথা বলতে বলেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জেল্লাল হোসেন বাংলাফ্যাক্টকে বলেন, “ঘটনাটির সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই।” 


প্রতিদিনের বাংলাদেশের স্থানীয় সাংবাদিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, এটির সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো কিছুর সম্পর্করনেই।


৫.  সহকর্মীর গুলিতে নিহত আনসার সদস্য বজেন্দ্র বিশ্বাস 


গত ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় সহকর্মীর শটগানের গুলিতে বজেন্দ্র বিশ্বাস (৪২) নামে এক আনসার সদস্য নিহত হন। উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় লাবিব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। সূত্র: সময় নিউজ


বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান:


ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, মূলত অন্য এক আনসার সদস্য দুষ্টুমির ছলে বন্দুক তাক করলে অসাবধানতাবশত গুলি বের হয়ে বজেন্দ্র বিশ্বাস গায়ে লাগে। আমরা ইতিমধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। এটির সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই।


কালের কন্ঠের প্রতিনিধি মুখলেছুর রহমান মনিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ঘটনাটির সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বলে জানান।


৬. চাঁদাবাজির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার শিকার অমৃত মণ্ডল


গত ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট (২৯) নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট পুলিশের তালিকাভুক্ত সম্রাট বাহিনীর প্রধান।


পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে প্রথম আলো জানায়, অমৃত মণ্ডল নিজের নামে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে আশপাশের এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজি করতেন। তিনি হোসেনডাঙ্গা পুরাতন বাজার এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গতকাল সম্রাট বাহিনীর অন্য সদস্যদের নিয়ে ওই বাড়িতে যান। এ সময় বাড়ির মালিককে না পেয়ে তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাড়ির লোকজন ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন গিয়ে সম্রাটকে পিটুনি দেন। এতে ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্য সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও সেলিম স্থানীয় জনতার হাতে আটকে পড়েন। সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গানসহ আটক করে পুলিশ।এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি পড়ুন এখানে