| বিশ্লেষণ
“গুম হওয়া রাজনীতিকদের ৭৫%”-কে “জীবিত ফেরাদের ৭৫%” হিসেবে খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি স্টার
৭ জানুয়ারী ২০২৬
গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ দ্য ডেইলি স্টারের অনলাইন সংস্করণে ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় “গুম থেকে জীবিত ফেরা ৭৫ শতাংশ জামায়াত–শিবিরের, নিখোঁজদের ৬৮ শতাংশ বিএনপি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য থেকে জানা যায়, "জীবিত ফেরাদের ৭৫%" নয়, বরং গুম হওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ জামায়াত–শিবিরের সঙ্গে যুক্ত। এই ৭৫% এর হিসেবের মধ্যে জীবিত-মৃত সকলকেই ধরা হয়েছে বলে বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছেন গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস।
৫ জানুয়ারি ডেইলি স্টার বাংলা সংস্করণের সংবাদের শিরোনাম ও প্রতিবেদনের কিছু অংশ পরিবর্তন করে। পরিবর্তিত শিরোনাম দেয় “গুম রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের, নিখোঁজদের ৬৮ শতাংশ বিএনপির”।
প্রতিবেদনে প্রথমে লেখা হয়েছিল, “প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।”
পরে এই অংশ পরিবর্তন করে লেখা হয় “গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯৪৮ জনের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের ছিল ৭১২ জন। আর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর সংখ্যা ২০৫ জন। অর্থাৎ, গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই জামায়াত-শিবিরের।”
তবে এই লেখার আগ পর্যন্ত শিরোনাম ও প্রতিবেদনে পরিবর্তনের কারণ জানিয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা সংশোধনী দেয়া হয়নি।
পত্রিকাটির ইংরেজি সংস্করণে "75% of disappearance survivors Jamaat-Shibir, 68% of those still missing BNP” শীর্ষক শিরোনামের লেখাটি এখনো অনলাইনে রয়েছে, যা এখনো সংশোধন করা হয়নি। তবে এটিতে তথ্য ও শিরোনাম পরিবর্তন না করা হলেও “Political victims of enforced disappearance: 75% from Jamaat, 68% of still missing are from BNP” শিরোনামে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এই প্রতিবেদনটিই ৫ জানুয়ারির ছাপা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
সংশোধনী: দ্যা ডেইলি স্টারের অনলাইন বাংলা ভার্সনের প্রতিবেদনটি ৪ জনুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রাত ০৮:৩১-এ প্রকাশ করে। তবে এর আগে, প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজে সন্ধ্যা ৭টা ৪২মিনিটে একটি পোস্ট করা হয়, যেখানে " গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী" উল্লেখ রয়েছে।Topics:
বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা স্থগিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র
দাগনভূঞায় সমীর দাসের লাশ উদ্ধার: পরিবার বলছে সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নেই,
ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যু: আর্থিক লেনদেনের কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
অপরাধমূলক ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে অপপ্রচার
যশোরের রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ড:রাজনৈতিক কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
25%
75%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
ডিভি লটারির তালিকা থেকে বাদ পড়া নতুন নয়, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের নাম নেই
গাজীপুরে নিহত সাংবাদিক তুহিন কি আদৌ ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে কোনো লাইভ করেছিলেন?
সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যু: আর্থিক লেনদেনের কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
দিনাজপুরে ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যু: বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রচার
বিশ্লেষণ
“গুম হওয়া রাজনীতিকদের ৭৫%”-কে “জীবিত ফেরাদের ৭৫%” হিসেবে খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি স্টার
৭ জানুয়ারী ২০২৬
গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ দ্য ডেইলি স্টারের অনলাইন সংস্করণে ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় “গুম থেকে জীবিত ফেরা ৭৫ শতাংশ জামায়াত–শিবিরের, নিখোঁজদের ৬৮ শতাংশ বিএনপি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য থেকে জানা যায়, "জীবিত ফেরাদের ৭৫%" নয়, বরং গুম হওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ জামায়াত–শিবিরের সঙ্গে যুক্ত। এই ৭৫% এর হিসেবের মধ্যে জীবিত-মৃত সকলকেই ধরা হয়েছে বলে বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছেন গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস।
৫ জানুয়ারি ডেইলি স্টার বাংলা সংস্করণের সংবাদের শিরোনাম ও প্রতিবেদনের কিছু অংশ পরিবর্তন করে। পরিবর্তিত শিরোনাম দেয় “গুম রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের, নিখোঁজদের ৬৮ শতাংশ বিএনপির”।
প্রতিবেদনে প্রথমে লেখা হয়েছিল, “প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।”
পরে এই অংশ পরিবর্তন করে লেখা হয় “গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯৪৮ জনের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের ছিল ৭১২ জন। আর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর সংখ্যা ২০৫ জন। অর্থাৎ, গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই জামায়াত-শিবিরের।”
তবে এই লেখার আগ পর্যন্ত শিরোনাম ও প্রতিবেদনে পরিবর্তনের কারণ জানিয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা সংশোধনী দেয়া হয়নি।
পত্রিকাটির ইংরেজি সংস্করণে "75% of disappearance survivors Jamaat-Shibir, 68% of those still missing BNP” শীর্ষক শিরোনামের লেখাটি এখনো অনলাইনে রয়েছে, যা এখনো সংশোধন করা হয়নি। তবে এটিতে তথ্য ও শিরোনাম পরিবর্তন না করা হলেও “Political victims of enforced disappearance: 75% from Jamaat, 68% of still missing are from BNP” শিরোনামে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এই প্রতিবেদনটিই ৫ জানুয়ারির ছাপা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
সংশোধনী: দ্যা ডেইলি স্টারের অনলাইন বাংলা ভার্সনের প্রতিবেদনটি ৪ জনুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রাত ০৮:৩১-এ প্রকাশ করে। তবে এর আগে, প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজে সন্ধ্যা ৭টা ৪২মিনিটে একটি পোস্ট করা হয়, যেখানে " গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী" উল্লেখ রয়েছে।