| বিশ্লেষণ
দাগনভূঞায় সমীর দাসের লাশ উদ্ধার: পরিবার বলছে সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নেই,
ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ফেনীর দাগনভূঞার দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সমীর কুমার দাস (২৮) নামে অটোরিকশা চালক এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই ঘটনার সাথে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বিষয় জড়িত নেই বলে বাংলা ফ্যাক্ট জানতে পেরেছে।
হিন্দুস্তান টাইমস গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) এই বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘Bangladesh Hindu killing: আরও ১ হিন্দুকে মেরে ফেলল বাংলাদেশ, খুনের পরে চুরি করা হল অটো, ইউনুসের টনক নড়বে?’ প্রতিবেদনটির সূচনায় লিখেছে, ‘আরও এক হিন্দুকে খুন করে ফেলা হল বাংলাদেশে। মেরেকেটে এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে কমপক্ষে নয়জন হিন্দুকে খুন করা হল।…’ প্রায় একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে, আজতাক বাংলা, ডাব্লিওআইওএন।
এমন তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে সমীর কুমার দাসকে হত্যা করা হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে, ফেনীর দাগনভূঞার সমীর কুমার দাসের মৃত্যুর ঘটনায় ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় নেই। এটি ছিনতাই সম্পর্কিত ঘটনা।
এই বিষয়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক প্রথম আলো ও ঢাকা পোস্টের ওয়েবসাইটে গতকাল (৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফেনীর দাগনভূঞার দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সমীর কুমার দাস (২৮) নামে এক অটোরিকশা চালকের এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের রামানন্দপুর গ্রামের ফাজিলের ঘাট জেলেবাড়ির কার্তিক কুমার দাসের ছেলে। সমীর কুমার দাস পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর অটোরিকশাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছে, সমীরকে খুন করে তাঁর অটোরিকশাটি দুর্বৃত্তরা লুট করেছে। তবে এসব সংবাদে এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বিষয় উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিষয় আছে কিনা তা জানতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম এর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি ও তাদের থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। তবে এখানে কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় নেই।’
সমীর কুমার দাসের শ্বশুর শিবু চন্দ্র দাসের সঙ্গে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক কোনো ঘটনা না। আমরা ধারণা করছি এটি ছিনতাই অথবা কোনো চক্রের কাজ।
অর্থাৎ, সমীর কুমার দাসের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
Topics:
Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁকে অপসারণ করা হয়নি
হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন
ভারতে ভোটারের পাশে শতাধিক সন্তান যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের মনে করে পাঠকের বিভ্রান্তি
'মানহানি'র নিশানায় নারী রাজনীতিক : নির্বাচনী প্রচারণাতেও রেহাই নাই
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন
শুধু নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নয়, বরং অপরাধ করলে পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বর্তমান সরকার আরও ৬ মাস থাকবে বলে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করছে দ্য পোস্ট
হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন
ইন্টারনেটে আগুন সন্ত্রাসের নির্দেশনা ও উষ্কানি দিচ্ছে আওয়ামী লীগের এক্টিভিস্টরা
লীগের প্রসঙ্গে দেয়া বক্তব্যকে জামায়াতের বক্তব্য বলে ভুল প্রচার
বিশ্লেষণ
দাগনভূঞায় সমীর দাসের লাশ উদ্ধার: পরিবার বলছে সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নেই,
ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ফেনীর দাগনভূঞার দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সমীর কুমার দাস (২৮) নামে অটোরিকশা চালক এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই ঘটনার সাথে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বিষয় জড়িত নেই বলে বাংলা ফ্যাক্ট জানতে পেরেছে।
হিন্দুস্তান টাইমস গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) এই বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘Bangladesh Hindu killing: আরও ১ হিন্দুকে মেরে ফেলল বাংলাদেশ, খুনের পরে চুরি করা হল অটো, ইউনুসের টনক নড়বে?’ প্রতিবেদনটির সূচনায় লিখেছে, ‘আরও এক হিন্দুকে খুন করে ফেলা হল বাংলাদেশে। মেরেকেটে এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে কমপক্ষে নয়জন হিন্দুকে খুন করা হল।…’ প্রায় একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে, আজতাক বাংলা, ডাব্লিওআইওএন।
এমন তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে সমীর কুমার দাসকে হত্যা করা হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে, ফেনীর দাগনভূঞার সমীর কুমার দাসের মৃত্যুর ঘটনায় ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় নেই। এটি ছিনতাই সম্পর্কিত ঘটনা।
এই বিষয়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক প্রথম আলো ও ঢাকা পোস্টের ওয়েবসাইটে গতকাল (৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফেনীর দাগনভূঞার দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সমীর কুমার দাস (২৮) নামে এক অটোরিকশা চালকের এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের রামানন্দপুর গ্রামের ফাজিলের ঘাট জেলেবাড়ির কার্তিক কুমার দাসের ছেলে। সমীর কুমার দাস পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর অটোরিকশাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছে, সমীরকে খুন করে তাঁর অটোরিকশাটি দুর্বৃত্তরা লুট করেছে। তবে এসব সংবাদে এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বিষয় উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিষয় আছে কিনা তা জানতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম এর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি ও তাদের থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। তবে এখানে কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় নেই।’
সমীর কুমার দাসের শ্বশুর শিবু চন্দ্র দাসের সঙ্গে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক কোনো ঘটনা না। আমরা ধারণা করছি এটি ছিনতাই অথবা কোনো চক্রের কাজ।
অর্থাৎ, সমীর কুমার দাসের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।