| বিশ্লেষণ

গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বর্তমান সরকার আরও ৬ মাস থাকবে বলে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করছে দ্য পোস্ট

১৯ জানুয়ারী ২০২৬


গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বর্তমান সরকার আরও ৬ মাস থাকবে বলে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করছে দ্য পোস্ট

গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বর্তমান সরকার আরও ৬ মাস থাকবে বলে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করছে দ্য পোস্ট গণভোটে হ্যাঁ জিতলে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয়মাস থাকবে, এমন ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করেছে দ্য পোস্ট। ভিডিওতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে বসবেন, আর সরকার হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। অর্থাৎ সরকার হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই কাজ করবেন, অন্তর্বর্তী সরকার নয়।

 দ্য পোস্টের ভুল ব্যাখ্যা

ফেসবুকেইউটিউবে “গণভোট: ‘হ্যাঁ’ জিতলে আরও ৬ মাস ইউনূস সরকার; ‘না’ জিতলে কী?” শিরোনামে ১৮ জানুয়ারিতে ভিডিও কনটেন্টটি প্রকাশ করে দ্য পোস্ট। এতে বলা হয়, “হ্যাঁ ভোট জেতার একটা সাইড এফেক্টও আছে। হ্যাঁ জিতলে নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকার গঠিত হবে না।” আরও বলা হয়, “নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিরা তখন একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ হিসেবে বসবেন। তাদের হাতে সময় থাকবে ১৮০ দিন বা ছয় মাস। এই ছয় মাস ধরে তারা সংবিধান কাটছাঁট করবেন। নতুন আইন পাস করবেন ততদিন ক্ষমতায় কে থাকবে? ডক্টর ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার থাকবে ততদিন। মানে নির্বাচনের পরও আরো ছয় মাস ইউনুস সরকার ক্ষমতায় থেকে যেতে পারে।” 

ভিডিওর এই অংশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর ৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট লেখা রয়েছে: 

 ৭। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, উহার কার্যাবলি ও বিলুপ্তি।

(১) গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হইলে,

(ক) এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হইবে, যাহা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে; 

 (খ) উক্ত নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন; 

 (গ) পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হইতে ১৮০ (একশত আশি) কার্য দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করিবে এবং তাহা সম্পন্ন করিবার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হইবে। 


অর্থাৎ, ৭ অনুচ্ছেদের খ-এর মতে, নির্বাচিত সংসদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। জনপ্রতিনিধিগণ একদিকে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সংবিধান সংস্কারের গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আদেশ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হবে। তখন থেকে সংসদের আর দ্বৈত ভূমিকা থাকবে না, জনপ্রতিনিধিগণ কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। 


এই আদেশে ১৮০ দিন অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে এমন কোনো ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং, স্পষ্ট করেই সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। 

দ্য পোস্ট কেবল ভুল ব্যাখ্যাই দেয়নি, বরং হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে বলেছে, “রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তাদের জন্য এই দীর্ঘ অপেক্ষা সুখকর হবে কিনা, নতুন কোনো সংঘাত শুরু হবে কিনা সেটা একটা পরীক্ষার বিষয়।” উল্লেখ্য, ফেসবুকে দ্য পোস্ট তাদের ভিডিও প্রকাশের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ক্যাপশন বদল করেছে। তবে এই লেখা পর্যন্ত, তাদের ইউটিউবের ভিডিও শিরোনাম পরিবর্তন করা হয়নি। ফেসবুকে ক্যাপশন পরিবর্তন করলেও, ভিডিওতে দেয়া ভুল ব্যাখ্যা এখনও প্রচারিত হচ্ছে। ভিডিওতে এখন পর্যন্ত প্রায় আট লাখ ভিউ হয়েছে।



Topics:



ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁকে অপসারণ করা হয়নি
বিভ্রান্তিকর
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁকে অপসারণ করা হয়নি

হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন

ভারতে ভোটারের পাশে শতাধিক সন্তান যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের মনে করে পাঠকের বিভ্রান্তি
বিভ্রান্তিকর
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারতে ভোটারের পাশে শতাধিক সন্তান যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের মনে করে পাঠকের বিভ্রান্তি

'মানহানি'র নিশানায় নারী রাজনীতিক : নির্বাচনী প্রচারণাতেও রেহাই নাই
বিভ্রান্তিকর
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

'মানহানি'র নিশানায় নারী রাজনীতিক : নির্বাচনী প্রচারণাতেও রেহাই নাই

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন 




শুধু নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নয়, বরং অপরাধ করলে পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি
২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন 

শুধু নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নয়, বরং অপরাধ করলে পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

100%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বর্তমান সরকার আরও ৬ মাস থাকবে বলে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করছে দ্য পোস্ট

বিশ্লেষণ

গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বর্তমান সরকার আরও ৬ মাস থাকবে বলে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করছে দ্য পোস্ট

১৯ জানুয়ারী ২০২৬

<p>গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বর্তমান সরকার আরও ৬ মাস থাকবে বলে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করছে দ্য পোস্ট
<br /></p>

গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বর্তমান সরকার আরও ৬ মাস থাকবে বলে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করছে দ্য পোস্ট গণভোটে হ্যাঁ জিতলে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয়মাস থাকবে, এমন ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করেছে দ্য পোস্ট। ভিডিওতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে বসবেন, আর সরকার হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। অর্থাৎ সরকার হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই কাজ করবেন, অন্তর্বর্তী সরকার নয়।

 দ্য পোস্টের ভুল ব্যাখ্যা

ফেসবুকেইউটিউবে “গণভোট: ‘হ্যাঁ’ জিতলে আরও ৬ মাস ইউনূস সরকার; ‘না’ জিতলে কী?” শিরোনামে ১৮ জানুয়ারিতে ভিডিও কনটেন্টটি প্রকাশ করে দ্য পোস্ট। এতে বলা হয়, “হ্যাঁ ভোট জেতার একটা সাইড এফেক্টও আছে। হ্যাঁ জিতলে নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকার গঠিত হবে না।” আরও বলা হয়, “নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিরা তখন একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ হিসেবে বসবেন। তাদের হাতে সময় থাকবে ১৮০ দিন বা ছয় মাস। এই ছয় মাস ধরে তারা সংবিধান কাটছাঁট করবেন। নতুন আইন পাস করবেন ততদিন ক্ষমতায় কে থাকবে? ডক্টর ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার থাকবে ততদিন। মানে নির্বাচনের পরও আরো ছয় মাস ইউনুস সরকার ক্ষমতায় থেকে যেতে পারে।” 

ভিডিওর এই অংশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর ৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট লেখা রয়েছে: 

 ৭। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, উহার কার্যাবলি ও বিলুপ্তি।

(১) গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হইলে,

(ক) এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হইবে, যাহা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে; 

 (খ) উক্ত নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন; 

 (গ) পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হইতে ১৮০ (একশত আশি) কার্য দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করিবে এবং তাহা সম্পন্ন করিবার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হইবে। 


অর্থাৎ, ৭ অনুচ্ছেদের খ-এর মতে, নির্বাচিত সংসদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। জনপ্রতিনিধিগণ একদিকে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সংবিধান সংস্কারের গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আদেশ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হবে। তখন থেকে সংসদের আর দ্বৈত ভূমিকা থাকবে না, জনপ্রতিনিধিগণ কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। 


এই আদেশে ১৮০ দিন অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে এমন কোনো ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং, স্পষ্ট করেই সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। 

দ্য পোস্ট কেবল ভুল ব্যাখ্যাই দেয়নি, বরং হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে বলেছে, “রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তাদের জন্য এই দীর্ঘ অপেক্ষা সুখকর হবে কিনা, নতুন কোনো সংঘাত শুরু হবে কিনা সেটা একটা পরীক্ষার বিষয়।” উল্লেখ্য, ফেসবুকে দ্য পোস্ট তাদের ভিডিও প্রকাশের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ক্যাপশন বদল করেছে। তবে এই লেখা পর্যন্ত, তাদের ইউটিউবের ভিডিও শিরোনাম পরিবর্তন করা হয়নি। ফেসবুকে ক্যাপশন পরিবর্তন করলেও, ভিডিওতে দেয়া ভুল ব্যাখ্যা এখনও প্রচারিত হচ্ছে। ভিডিওতে এখন পর্যন্ত প্রায় আট লাখ ভিউ হয়েছে।