| বিশ্লেষণ

গণভোটে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দেয়া হচ্ছে, আসিফ সালেহের এই দাবি সঠিক নয়

২৭ জানুয়ারী ২০২৬


গণভোটে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দেয়া হচ্ছে, আসিফ সালেহের এই দাবি সঠিক নয়

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আপনি কি জানেন এই গণভোটে আপনি কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দিচ্ছেন?” এটি একটি অপপ্রচার, কারণ এ দুটি জেলাকে বিভাগ করা হবে কি না তা গণভোটের অংশ নয়।


গণভোটের ব্যালোটে ৪টি বিষয় থাকা ও জুলাই জাতীয় সনদে ৮৪টি সংস্কার থাকাকে আসিফ সালেহ “চালাকি” বলেছেন। কিন্তু জুলাই সনদে উল্লিখিত সকল সংস্কার নিয়ে নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হচ্ছে। এই প্রস্তাবগুলোকেই সংক্ষেপে গণভোটের ব্যালোটে উপস্থাপন করা হবে।



জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে। এ প্রস্তাবগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোকে “ক” অংশে রাখা হয়েছে, বাকিগুলোকে “খ” অংশে।


ক. সংবিধান সংস্কারের সাপেক্ষে সংস্কারের বিষয়সমূহ। এতে ৪৭টি প্রস্তাব রয়েছে।

খ. আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়সমূহ। এতে প্রস্তাব রয়েছে ৩৭টি।


গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৭টি প্রস্তাবের ওপর। আসিফ সালেহ “কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার” যে উদাহরণ দিয়েছেন, তা জুলাই সনদের ৬৮ নম্বর প্রস্তাবে আছে। কিন্তু এটি সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের সাথে সম্পর্কিত। ফলে এটি গণভোটের অংশ নয়।


একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। জুলাই সনদে বিচার বিভাগ নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব আছে। যেগুলো সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত, সেগুলোকে সনদের “ক” অংশে রাখা হয়েছে। যেমন, বিভাগ বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ। আবার কিছু প্রস্তাব “খ” অংশে রাখা হয়েছে, যেমন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। এর মধ্যে কেবল “ক” অংশের প্রস্তাবগুলো গণভোটের অংশ, “খ” অংশের প্রস্তাবগুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়।


উল্লেখ্য, গণভোটের মূল প্রশ্নটি হবে, "আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?"


এই প্রশ্ন থেকেও স্পষ্ট যে কেবল “সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত” প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ গণভোট নিয়ে যে প্রচারণা চালিয়েছেন, তা অপব্যাখ্যামাত্র। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রকাশনা বা ম্যাগাজিন ‘হোয়াইট বোর্ড’-এর পরামর্শক পর্ষদের সদস্য হিসেবে আসিফ সালেহ কাজ করতেন, যা ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট বণিক বার্তার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। 





Topics:



ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁকে অপসারণ করা হয়নি
বিভ্রান্তিকর
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁকে অপসারণ করা হয়নি

হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন

ভারতে ভোটারের পাশে শতাধিক সন্তান যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের মনে করে পাঠকের বিভ্রান্তি
বিভ্রান্তিকর
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারতে ভোটারের পাশে শতাধিক সন্তান যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের মনে করে পাঠকের বিভ্রান্তি

'মানহানি'র নিশানায় নারী রাজনীতিক : নির্বাচনী প্রচারণাতেও রেহাই নাই
বিভ্রান্তিকর
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

'মানহানি'র নিশানায় নারী রাজনীতিক : নির্বাচনী প্রচারণাতেও রেহাই নাই

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন 




শুধু নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নয়, বরং অপরাধ করলে পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি
২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন 

শুধু নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নয়, বরং অপরাধ করলে পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



গণভোটে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দেয়া হচ্ছে, আসিফ সালেহের এই দাবি সঠিক নয়

বিশ্লেষণ

গণভোটে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দেয়া হচ্ছে, আসিফ সালেহের এই দাবি সঠিক নয়

২৭ জানুয়ারী ২০২৬

<p>গণভোটে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দেয়া হচ্ছে, আসিফ সালেহের এই দাবি সঠিক নয়<br /></p>

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আপনি কি জানেন এই গণভোটে আপনি কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দিচ্ছেন?” এটি একটি অপপ্রচার, কারণ এ দুটি জেলাকে বিভাগ করা হবে কি না তা গণভোটের অংশ নয়।


গণভোটের ব্যালোটে ৪টি বিষয় থাকা ও জুলাই জাতীয় সনদে ৮৪টি সংস্কার থাকাকে আসিফ সালেহ “চালাকি” বলেছেন। কিন্তু জুলাই সনদে উল্লিখিত সকল সংস্কার নিয়ে নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হচ্ছে। এই প্রস্তাবগুলোকেই সংক্ষেপে গণভোটের ব্যালোটে উপস্থাপন করা হবে।



জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে। এ প্রস্তাবগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোকে “ক” অংশে রাখা হয়েছে, বাকিগুলোকে “খ” অংশে।


ক. সংবিধান সংস্কারের সাপেক্ষে সংস্কারের বিষয়সমূহ। এতে ৪৭টি প্রস্তাব রয়েছে।

খ. আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়সমূহ। এতে প্রস্তাব রয়েছে ৩৭টি।


গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৭টি প্রস্তাবের ওপর। আসিফ সালেহ “কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার” যে উদাহরণ দিয়েছেন, তা জুলাই সনদের ৬৮ নম্বর প্রস্তাবে আছে। কিন্তু এটি সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের সাথে সম্পর্কিত। ফলে এটি গণভোটের অংশ নয়।


একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। জুলাই সনদে বিচার বিভাগ নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব আছে। যেগুলো সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত, সেগুলোকে সনদের “ক” অংশে রাখা হয়েছে। যেমন, বিভাগ বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ। আবার কিছু প্রস্তাব “খ” অংশে রাখা হয়েছে, যেমন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। এর মধ্যে কেবল “ক” অংশের প্রস্তাবগুলো গণভোটের অংশ, “খ” অংশের প্রস্তাবগুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়।


উল্লেখ্য, গণভোটের মূল প্রশ্নটি হবে, "আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?"


এই প্রশ্ন থেকেও স্পষ্ট যে কেবল “সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত” প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ গণভোট নিয়ে যে প্রচারণা চালিয়েছেন, তা অপব্যাখ্যামাত্র। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রকাশনা বা ম্যাগাজিন ‘হোয়াইট বোর্ড’-এর পরামর্শক পর্ষদের সদস্য হিসেবে আসিফ সালেহ কাজ করতেন, যা ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট বণিক বার্তার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।