| বিশ্লেষণ

‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ

২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি বেশকিছু গণমাধ্যম হুবহু একই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  “দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের”শিরোনামে  জনকণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর, নিউজ টুয়েন্টিফোর, কালের কণ্ঠ, বার্তা বাজার  ইত্যাদি গণমাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের বরাতে দাবি করা হয়েছে, ড. ইউনূসের আমলে নতুন করে ৩০ লাখ লোক দরিদ্র হয়েছে।

 

কিন্তু এসব প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুল্লেখিত বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। রিপোর্টটি প্রায় ১০ মাস পুরোনো হলেও এখন একই ভাষায় এতগুলি প্রতিবেদন প্রকাশের কারণ স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয়ত, একই শিরোনাম নকল করা উদ্দেশ্যমূলক এবং তা  সাংবাদিকতার ভাল উদাহরণ নয়। তৃতীয়ত, কোন সময়ের উপাত্তের ভিত্তিতে দারিদ্র্য বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ না করে বিভ্রান্তিকরভাবে বলা হয়েছে “ড. ইউনূসের আমলে”। চতুর্থত, পূর্বাভাস বা অনুমানকে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দাবি করাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পঞ্চমত, বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের দারিদ্র্য হ্রাসের যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা যে ‘ইউনূসের আমলে’র সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাবের জন্য, তা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া দারিদ্র্য বাড়ার এই ভুল বয়ানের বোঝা বর্তমান বিএনপি সরকারের অর্জনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। কেননা দারিদ্র্য বাড়বার ভুল পরিসংখ্যান বর্তমান সরকারকেই মোকাবিলা করতে হবে। 


বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে কী আছে

“বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট” রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ৫.৫%, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৭.৭% হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এটি আরও বেড়ে ৯.৩% এ পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে অতিদারিদ্র্যের হার ১.৬ শতাংশ পয়েন্ট  (প্রায় ৩০ লাখ মানুষ) বাড়তে পারে বলে ধারণা করেছে বিশ্বব্যাংক। এটি থেকেই সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম।

খেয়াল করার বিষয়, রিপোর্টটি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হলেও ২০২৪ সালের কোনো ‘একচুয়াল’ হার সেখানে দেওয়া হয়নি; ২০২৩ সালকে ‘নাউকাস্ট’ এবং ২০২৪–২০২৭ সময়কালকে ‘ফোরকাস্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাসকে ইতিমধ্যে ‘ঘটে যাওয়া বাস্তবতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সময়কাল স্পষ্ট না করে তা “ড. ইউনূসের আমলে” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।



এই দারিদ্র্যের হার ২০২৬ ও ২০২৭ সালে কমে ৭.১% ও ৫.৮% হবে বলেও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দারিদ্র্যের হার ২.২ শতাংশ পয়েন্ট কমলে ৪০ লক্ষাধিক মানুষের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিপোর্টটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করেছে। এতে ২০২২ সালের 'হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে' (HIES) বা খানা আয় ও ব্যয় জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য 'ফোরকাস্ট' বা পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে। 

দারিদ্র বৃদ্ধির কারণ কী 

বাংলাদেশী গণমাধ্যমগুলো সংবাদ উপস্থাপনে মনে হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে এই দারিদ্র তৈরি করে রেখে যাচ্ছেন। অথচ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটি ২০২৫ এর শুরুর দিকে প্রকাশিত, তা ২০২৫ এর অবস্থার আলোকে কোনো পূর্বাভাস দেয়নি। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে দারিদ্র্য বৃদ্ধির জন্য সরাসরি ২০২৩-২৪ সালের অর্থনৈতিক ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করা হয়েছে, এবং ২০২৫ সালের অতিদারিদ্র্যের  হারকে সেই একই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা বা “ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে, সংবাদপত্রে উল্লিখিত “তার আমলে দেশে নতুন করে ৩০ লাখ লোক দরিদ্র হয়েছেন” অংশটুকু সঠিক নয়। কারণ, বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে “কত লোক দরিদ্র হয়েছেন” সেই হিসেব নয়, বরং পূর্বাভাস করা হয়েছে। ২০২৫ এর পূর্বাভাস “অন্তর্বর্তী আমল” বা ২০২৫ এর অবস্থার আলোকে নয়, বরং ২০২৩-২৪ সালের অর্থনৈতিক ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে করা হয়েছে।

 

‘সংস্কার দারিদ্র্য কমাবে’

২০২৬ সালে দারিদ্র্যের হার ব্যাপক হ্রাসের যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, তার কারণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস থাকলেও, সংস্কারের প্রভাবে ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪.৯% এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৫.৭% হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক গতিশীলতা দারিদ্র্য হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।

এক কথায় বলা যায়, বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে ২০২৩-২০২৪ সালের অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে ২০২৫-এ ৩০ লাখ লোকের দরিদ্র হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, একইসাথে সংস্কারের প্রভাবে ২০২৬ সালে ৪০ লাখের বেশি লোক দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আংশিক তথ্য দিয়ে ও প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত রেখে গণমাধ্যমগুলো সমন্বিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।





Topics:



‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৮ অক্টোবর ২০২৬

‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা

৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম



নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

100%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ

বিশ্লেষণ

‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

<p><span style="font-size: 24px;">‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ</span><br /></p>

২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি বেশকিছু গণমাধ্যম হুবহু একই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  “দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের”শিরোনামে  জনকণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর, নিউজ টুয়েন্টিফোর, কালের কণ্ঠ, বার্তা বাজার  ইত্যাদি গণমাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের বরাতে দাবি করা হয়েছে, ড. ইউনূসের আমলে নতুন করে ৩০ লাখ লোক দরিদ্র হয়েছে।

 

কিন্তু এসব প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুল্লেখিত বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। রিপোর্টটি প্রায় ১০ মাস পুরোনো হলেও এখন একই ভাষায় এতগুলি প্রতিবেদন প্রকাশের কারণ স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয়ত, একই শিরোনাম নকল করা উদ্দেশ্যমূলক এবং তা  সাংবাদিকতার ভাল উদাহরণ নয়। তৃতীয়ত, কোন সময়ের উপাত্তের ভিত্তিতে দারিদ্র্য বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ না করে বিভ্রান্তিকরভাবে বলা হয়েছে “ড. ইউনূসের আমলে”। চতুর্থত, পূর্বাভাস বা অনুমানকে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দাবি করাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পঞ্চমত, বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের দারিদ্র্য হ্রাসের যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা যে ‘ইউনূসের আমলে’র সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাবের জন্য, তা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া দারিদ্র্য বাড়ার এই ভুল বয়ানের বোঝা বর্তমান বিএনপি সরকারের অর্জনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। কেননা দারিদ্র্য বাড়বার ভুল পরিসংখ্যান বর্তমান সরকারকেই মোকাবিলা করতে হবে। 


বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে কী আছে

“বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট” রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ৫.৫%, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৭.৭% হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এটি আরও বেড়ে ৯.৩% এ পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে অতিদারিদ্র্যের হার ১.৬ শতাংশ পয়েন্ট  (প্রায় ৩০ লাখ মানুষ) বাড়তে পারে বলে ধারণা করেছে বিশ্বব্যাংক। এটি থেকেই সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম।

খেয়াল করার বিষয়, রিপোর্টটি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হলেও ২০২৪ সালের কোনো ‘একচুয়াল’ হার সেখানে দেওয়া হয়নি; ২০২৩ সালকে ‘নাউকাস্ট’ এবং ২০২৪–২০২৭ সময়কালকে ‘ফোরকাস্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাসকে ইতিমধ্যে ‘ঘটে যাওয়া বাস্তবতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সময়কাল স্পষ্ট না করে তা “ড. ইউনূসের আমলে” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।



এই দারিদ্র্যের হার ২০২৬ ও ২০২৭ সালে কমে ৭.১% ও ৫.৮% হবে বলেও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দারিদ্র্যের হার ২.২ শতাংশ পয়েন্ট কমলে ৪০ লক্ষাধিক মানুষের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিপোর্টটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করেছে। এতে ২০২২ সালের 'হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে' (HIES) বা খানা আয় ও ব্যয় জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য 'ফোরকাস্ট' বা পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে। 

দারিদ্র বৃদ্ধির কারণ কী 

বাংলাদেশী গণমাধ্যমগুলো সংবাদ উপস্থাপনে মনে হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে এই দারিদ্র তৈরি করে রেখে যাচ্ছেন। অথচ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটি ২০২৫ এর শুরুর দিকে প্রকাশিত, তা ২০২৫ এর অবস্থার আলোকে কোনো পূর্বাভাস দেয়নি। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে দারিদ্র্য বৃদ্ধির জন্য সরাসরি ২০২৩-২৪ সালের অর্থনৈতিক ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করা হয়েছে, এবং ২০২৫ সালের অতিদারিদ্র্যের  হারকে সেই একই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা বা “ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে, সংবাদপত্রে উল্লিখিত “তার আমলে দেশে নতুন করে ৩০ লাখ লোক দরিদ্র হয়েছেন” অংশটুকু সঠিক নয়। কারণ, বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে “কত লোক দরিদ্র হয়েছেন” সেই হিসেব নয়, বরং পূর্বাভাস করা হয়েছে। ২০২৫ এর পূর্বাভাস “অন্তর্বর্তী আমল” বা ২০২৫ এর অবস্থার আলোকে নয়, বরং ২০২৩-২৪ সালের অর্থনৈতিক ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে করা হয়েছে।

 

‘সংস্কার দারিদ্র্য কমাবে’

২০২৬ সালে দারিদ্র্যের হার ব্যাপক হ্রাসের যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, তার কারণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস থাকলেও, সংস্কারের প্রভাবে ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪.৯% এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৫.৭% হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক গতিশীলতা দারিদ্র্য হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।

এক কথায় বলা যায়, বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে ২০২৩-২০২৪ সালের অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে ২০২৫-এ ৩০ লাখ লোকের দরিদ্র হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, একইসাথে সংস্কারের প্রভাবে ২০২৬ সালে ৪০ লাখের বেশি লোক দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আংশিক তথ্য দিয়ে ও প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত রেখে গণমাধ্যমগুলো সমন্বিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।