| বিশ্লেষণ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও অতীতের মতো ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী দাপট!
৮ জুন ২০২৬
গত ৬ জুন নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেলের নেতৃত্বে মিছিল হলে ছাত্রদলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় ছাত্রদল, যুবদলের অন্তত ছয়জন নেতাকর্মী আহত হন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরে আওয়ামী লীগ নেতা শিবলুর নেতৃত্বে প্রায় ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী গাছা থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাশের বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে।
নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১১টি হলে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে যে ছাত্রলীগের অনেকেই এখনও ক্যাম্পাসে বিচরণ করছে এবং মাদক বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মেও এই গ্রুপটি জড়িত।
সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে, গত কয়েক দশকে রাজনৈতিক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি করেছে আওয়ামী লীগ। বার্ট স্যুকেন্স ও আইনুল ইসলামের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত মোট রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার প্রায় ৩০.২ শতাংশের সূচনা করেছে আওয়ামী লীগ।
গবেষণাটি ২০২২ সালের জুলাই–সেপ্টেম্বর সংখ্যায় ‘প্রতিচিন্তা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, সেখানে আরও দেখানো হয়েছে যে ওই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতদের ৩৭.৭ শতাংশই আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার শিকার ছিলেন। একইভাবে, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় মোট মৃত্যুর হার ছিল ২২.৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, বিএনপির অংশ ছিল তুলনামূলকভাবে কম—মোট ঘটনার ২৫.২ শতাংশ। বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার কারণে আহত ও নিহতের হারও ছিল কম; যথাক্রমে ৩৪.৩ শতাংশ এবং ১৫.৬ শতাংশ।
আইনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা, সংঘর্ষ ও গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগসহ সব অঙ্গসংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। বিএনপি সরকার নির্বাচিত হলে পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে ওই নিষেধাজ্ঞা আরও আইনি ভিত্তি পায় এবং নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধনও স্থগিত করে। তবে আইনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছেই।
Topics:
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
যুবদল নেতা হত্যার ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়ায় হাসিনার রায় পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে প্রচার
ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে জটিলতার কারণে এশিয়ার পাঁচ দেশে সফর স্থগিত করেছেন ইতালীর প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু শুধু বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করে শিরোনাম করেছে কয়েকটি গণমাধ্যম।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে ভুয়া মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে
এক অপহরণের ঘটনা যেভাবে ভারতীয় মিডিয়া ফার্স্ট পোস্টে হয়ে গেল হিন্দু পুরোহিতের ওপর সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন
বিশ্লেষণ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও অতীতের মতো ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী দাপট!
৮ জুন ২০২৬
গত ৬ জুন নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেলের নেতৃত্বে মিছিল হলে ছাত্রদলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় ছাত্রদল, যুবদলের অন্তত ছয়জন নেতাকর্মী আহত হন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরে আওয়ামী লীগ নেতা শিবলুর নেতৃত্বে প্রায় ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী গাছা থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাশের বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে।
নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১১টি হলে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে যে ছাত্রলীগের অনেকেই এখনও ক্যাম্পাসে বিচরণ করছে এবং মাদক বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মেও এই গ্রুপটি জড়িত।
সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে, গত কয়েক দশকে রাজনৈতিক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি করেছে আওয়ামী লীগ। বার্ট স্যুকেন্স ও আইনুল ইসলামের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত মোট রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার প্রায় ৩০.২ শতাংশের সূচনা করেছে আওয়ামী লীগ।
গবেষণাটি ২০২২ সালের জুলাই–সেপ্টেম্বর সংখ্যায় ‘প্রতিচিন্তা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, সেখানে আরও দেখানো হয়েছে যে ওই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতদের ৩৭.৭ শতাংশই আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার শিকার ছিলেন। একইভাবে, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় মোট মৃত্যুর হার ছিল ২২.৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, বিএনপির অংশ ছিল তুলনামূলকভাবে কম—মোট ঘটনার ২৫.২ শতাংশ। বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার কারণে আহত ও নিহতের হারও ছিল কম; যথাক্রমে ৩৪.৩ শতাংশ এবং ১৫.৬ শতাংশ।
আইনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা, সংঘর্ষ ও গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগসহ সব অঙ্গসংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। বিএনপি সরকার নির্বাচিত হলে পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে ওই নিষেধাজ্ঞা আরও আইনি ভিত্তি পায় এবং নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধনও স্থগিত করে। তবে আইনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছেই।