| বিশ্লেষণ
এক অপহরণের ঘটনা যেভাবে ভারতীয় মিডিয়া ফার্স্ট পোস্টে হয়ে গেল হিন্দু পুরোহিতের ওপর সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন
৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকার ওয়ারীতে গত ২৯ জুন রাতে অপহৃত হন সুভাষ দেউরী। তিনি পুরান ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
এ ঘটনা নিয়ে ভারতীয় অনলাইল পত্রিকা ফার্স্ট পোস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে Stripped and tortured: How a Hindu temple priest was held captive, assaulted in Bangladesh। প্রতিবেদনটির প্রথম লাইনেই লেখা: “Is Bangladesh turning into a 'no country for Hindus'?”। প্রতিবেদনে সুভাষকে “স্ট্রিপড অ্যান্ড টর্চার্ড” বা বিবস্ত্র করে নির্যাতনের শিকার এক হিন্দু পুরোহিত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, এবং একে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণের ধারাবাহিকতার অংশ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগীর নিজের বয়ান, তাঁর রুমমেটের সাক্ষ্য এবং তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফার্স্টপোস্টের এই আখ্যান মূল ঘটনার সঙ্গে বহু জায়গায় সাংঘর্ষিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান উৎপাদনের জন্য লেখা।
হাসপাতালে দেওয়া নিজের বয়ানে সুভাষ প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের মাইগ্রেনজনিত সমস্যার কারণে কোনো কিছু দীর্ঘক্ষণ মনে থাকে না। তিনি বলেছেন, রাত আটটার দিকে একা হাঁটতে বের হয়ে রিকশায় স্বামীবাগ যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল, তা তিনি নিজেই জানেন না। রাতে জ্ঞান ফিরে তিনি নিজেকে একটি মেসবাড়িতে দেখতে পান, যেখানে সাত-আট জন যুবক তাকে আটকে রাখে। সুভাষের নিজের ভাষায়, তাদের দেখে "মাদকাসক্ত" মনে হয়েছে এবং সেখানে কয়েকজনকে ইয়াবা সেবন করতেও দেখেছেন তিনি।
আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, সুভাষ নিজেই স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি অপহরণকারীদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। তিনি তাদের বলেছিলেন তিনি ওই এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। গলায় হিন্দুধর্মীয় মালা দেখে অপহরণকারীরা কেবল বুঝতে পেরেছিল তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। কিন্তু তিনি যে মন্দিরের পুরোহিত, সেই তথ্য তাদের কখনো জানাননি। অর্থাৎ, "পুরোহিত বলে টার্গেট করা হয়েছে" ফার্স্টপোস্টের এই দাবি মূল বয়ানের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক, কারণ অপহরণকারীরা তার পুরোহিত পরিচয় সম্পর্কে অবগতই ছিল না।
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, সুভাষের আগে থেকেই স্মৃতিজনিত সমস্যা থাকায় তিনি ঘটনার বিস্তারিত স্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না, এবং বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
ফার্স্টপোস্টের কারসাজি: অনিশ্চয়তা আড়াল, নাটকীয়তা সংযোজন
ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনের প্রথমেই লেখা হয়েছে - Is Bangladesh turning into a ‘no country for Hindus’? ব্যবহার করা হয়েছে ২০২৪ সালের একটি প্রতিবাদের ছবি, যার সাথে মূল ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
এরপরের অনুচ্ছেদে লেখা “There was respite in the assault cases against Hindus in the country for a few days after repeated attacks. However, the fresh forced abduction and assault of a temple priest, who is also a student, has ignited the debate around Hindus’ safety in the country.”
এই বয়ান সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে চলমান তথাকথিত হিন্দু নিপীড়নের বয়ানে হাওয়া দেওয়ার জন্য লেখা। এখানে নেই কোনো ফ্যাক্ট, আছে কেবলই ভারতীয় ন্যারেটিভ। প্রতিবেদন কোথাও লেখা হয়নি অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত। একইসাথে, প্রতিবেদনে নিচের দিকে এটাও লেখা আছে “The victim, who is Deuri, a law student at Jagannath University, became a target of a group of unidentified men on Monday (June 29). However, it was not clear following the attack whether Deuri was targeted due to his religious identity.” অর্থাৎ ফার্স্টপোস্ট নিজেও নিশ্চিত না যে এটা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে চালানো হামলা কিনা। অথচ এটা নিয়ে তারা বিরাট বয়ান ফেঁদে বসেছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথের একটি উদ্ধৃতি রয়েছে, যেখানে তিনি নিজেই বলছেন তাঁরা যাচাই করে দেখছেন এটি নিছক ছিনতাইয়ের ঘটনা কি না। এই স্বীকারোক্তি প্রতিবেদনের মাঝামাঝি অনুচ্ছেদে চাপা পড়ে গেছে, অথচ শিরোনাম ও প্রতিবেদনের কাঠামো গোড়া থেকেই ধরে নিয়েছে এটি সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের ঘটনা। "স্ট্রিপড অ্যান্ড টর্চার্ড" শব্দবন্ধ ব্যবহার করে বিবস্ত্র করার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো উল্লেখ মূল সূত্রে পাওয়া যায় না— সুভাষের নিজের বয়ানে মারধর ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার কথা আছে, বিবস্ত্র করার কথা নেই। একইভাবে অপহরণকারীরা যে মাদকাসক্ত ছিল এবং ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবনের প্রমাণ ছিল, অপরাধের প্রকৃতি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যটি ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সুভাষের নিজের স্মৃতিভ্রষ্টতার কথাও প্রতিবেদনে নেই, যা ভুক্তভোগীর বয়ানের নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য অপরিহার্য একটি তথ্য।
একক ঘটনা থেকে প্যাটার্ন নির্মাণ
প্রতিবেদনটি সুভাষের ব্যক্তিগত ও অস্পষ্ট এই ঘটনাকে জানুয়ারিতে রানা প্রতাপ বৈরাগী ও শরৎ মণি চক্রবর্তীর হত্যা, ঝিনাইদহে এক বিধবার ওপর নির্যাতন এবং ডিসেম্বরে অমৃত মণ্ডল ও দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে একই বাক্যবন্ধে সাজিয়ে একটি ধারাবাহিক সাম্প্রদায়িক নিধনযজ্ঞের চিত্র তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর প্রতিটির প্রকৃতি, প্রেক্ষাপট ও তদন্তের অবস্থা ভিন্ন। কোনোটি ব্যক্তিগত বিরোধ, কোনোটি গুজবভিত্তিক মব সহিংসতা, আবার সুভাষের ক্ষেত্রে যেমন দেখা যাচ্ছে, তা নিছক মাদকাসক্তদের ছিনতাই হতে পারে। ভিন্ন প্রকৃতির ও পৃথকভাবে যাচাই-অযোগ্য একাধিক ঘটনাকে একত্র সাজিয়ে "বাংলাদেশ কি হিন্দুদের জন্য নিরাপদ নয়" এই বৃহৎ প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী বয়ান নির্মাণ করা হচ্ছে।
সুভাষ দেউরীর ওপর হামলা নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর অপরাধ, এবং তদন্ত এখনো চলমান বলে পুলিশ নিজেই জানিয়েছে। কিন্তু একজন ভুক্তভোগীর অসম্পূর্ণ বয়ান, মাদকাসক্তদের দ্বারা সম্ভাব্য ছিনতাই, এবং ভুক্তভোগীর নিজের স্বীকারোক্তি যে তিনি পুরোহিত পরিচয় গোপন রেখেছিলেন এই সব তথ্য পাশ কাটিয়ে সীমান্তের ওপাড়ে বসে ফার্স্টপোস্ট যেভাবে ঘটনাটিকে "হিন্দু পুরোহিতের ওপর পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক নির্যাতন" হিসেবে হাজির করেছে এবং একে বিচ্ছিন্ন অন্য ঘটনার সঙ্গে গেঁথে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার আখ্যানে রূপ দিয়েছে, তা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছে।
Topics:
ভারতীয় গণমাধ্যম
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
গোবিন্দ প্রামাণিকের মনোনয়ন বাতিল-
স্বাক্ষর সঠিক না থাকার কারণকে ধর্মীয় কারণ বলে প্রচার ভারতীয় মিডিয়ায়
গাজীপুরে নিহত সাংবাদিক তুহিন কি আদৌ ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে কোনো লাইভ করেছিলেন?
ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য
বিকৃত করে প্রচার করেছে ডিবিসি
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের “বিজয়ের কারিগর” আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ
বিশ্লেষণ
এক অপহরণের ঘটনা যেভাবে ভারতীয় মিডিয়া ফার্স্ট পোস্টে হয়ে গেল হিন্দু পুরোহিতের ওপর সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন
৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকার ওয়ারীতে গত ২৯ জুন রাতে অপহৃত হন সুভাষ দেউরী। তিনি পুরান ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
এ ঘটনা নিয়ে ভারতীয় অনলাইল পত্রিকা ফার্স্ট পোস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে Stripped and tortured: How a Hindu temple priest was held captive, assaulted in Bangladesh। প্রতিবেদনটির প্রথম লাইনেই লেখা: “Is Bangladesh turning into a 'no country for Hindus'?”। প্রতিবেদনে সুভাষকে “স্ট্রিপড অ্যান্ড টর্চার্ড” বা বিবস্ত্র করে নির্যাতনের শিকার এক হিন্দু পুরোহিত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, এবং একে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণের ধারাবাহিকতার অংশ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগীর নিজের বয়ান, তাঁর রুমমেটের সাক্ষ্য এবং তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফার্স্টপোস্টের এই আখ্যান মূল ঘটনার সঙ্গে বহু জায়গায় সাংঘর্ষিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান উৎপাদনের জন্য লেখা।
হাসপাতালে দেওয়া নিজের বয়ানে সুভাষ প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের মাইগ্রেনজনিত সমস্যার কারণে কোনো কিছু দীর্ঘক্ষণ মনে থাকে না। তিনি বলেছেন, রাত আটটার দিকে একা হাঁটতে বের হয়ে রিকশায় স্বামীবাগ যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল, তা তিনি নিজেই জানেন না। রাতে জ্ঞান ফিরে তিনি নিজেকে একটি মেসবাড়িতে দেখতে পান, যেখানে সাত-আট জন যুবক তাকে আটকে রাখে। সুভাষের নিজের ভাষায়, তাদের দেখে "মাদকাসক্ত" মনে হয়েছে এবং সেখানে কয়েকজনকে ইয়াবা সেবন করতেও দেখেছেন তিনি।
আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, সুভাষ নিজেই স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি অপহরণকারীদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। তিনি তাদের বলেছিলেন তিনি ওই এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। গলায় হিন্দুধর্মীয় মালা দেখে অপহরণকারীরা কেবল বুঝতে পেরেছিল তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। কিন্তু তিনি যে মন্দিরের পুরোহিত, সেই তথ্য তাদের কখনো জানাননি। অর্থাৎ, "পুরোহিত বলে টার্গেট করা হয়েছে" ফার্স্টপোস্টের এই দাবি মূল বয়ানের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক, কারণ অপহরণকারীরা তার পুরোহিত পরিচয় সম্পর্কে অবগতই ছিল না।
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, সুভাষের আগে থেকেই স্মৃতিজনিত সমস্যা থাকায় তিনি ঘটনার বিস্তারিত স্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না, এবং বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
ফার্স্টপোস্টের কারসাজি: অনিশ্চয়তা আড়াল, নাটকীয়তা সংযোজন
ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনের প্রথমেই লেখা হয়েছে - Is Bangladesh turning into a ‘no country for Hindus’? ব্যবহার করা হয়েছে ২০২৪ সালের একটি প্রতিবাদের ছবি, যার সাথে মূল ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
এরপরের অনুচ্ছেদে লেখা “There was respite in the assault cases against Hindus in the country for a few days after repeated attacks. However, the fresh forced abduction and assault of a temple priest, who is also a student, has ignited the debate around Hindus’ safety in the country.”
এই বয়ান সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে চলমান তথাকথিত হিন্দু নিপীড়নের বয়ানে হাওয়া দেওয়ার জন্য লেখা। এখানে নেই কোনো ফ্যাক্ট, আছে কেবলই ভারতীয় ন্যারেটিভ। প্রতিবেদন কোথাও লেখা হয়নি অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত। একইসাথে, প্রতিবেদনে নিচের দিকে এটাও লেখা আছে “The victim, who is Deuri, a law student at Jagannath University, became a target of a group of unidentified men on Monday (June 29). However, it was not clear following the attack whether Deuri was targeted due to his religious identity.” অর্থাৎ ফার্স্টপোস্ট নিজেও নিশ্চিত না যে এটা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে চালানো হামলা কিনা। অথচ এটা নিয়ে তারা বিরাট বয়ান ফেঁদে বসেছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথের একটি উদ্ধৃতি রয়েছে, যেখানে তিনি নিজেই বলছেন তাঁরা যাচাই করে দেখছেন এটি নিছক ছিনতাইয়ের ঘটনা কি না। এই স্বীকারোক্তি প্রতিবেদনের মাঝামাঝি অনুচ্ছেদে চাপা পড়ে গেছে, অথচ শিরোনাম ও প্রতিবেদনের কাঠামো গোড়া থেকেই ধরে নিয়েছে এটি সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের ঘটনা। "স্ট্রিপড অ্যান্ড টর্চার্ড" শব্দবন্ধ ব্যবহার করে বিবস্ত্র করার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো উল্লেখ মূল সূত্রে পাওয়া যায় না— সুভাষের নিজের বয়ানে মারধর ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার কথা আছে, বিবস্ত্র করার কথা নেই। একইভাবে অপহরণকারীরা যে মাদকাসক্ত ছিল এবং ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবনের প্রমাণ ছিল, অপরাধের প্রকৃতি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যটি ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সুভাষের নিজের স্মৃতিভ্রষ্টতার কথাও প্রতিবেদনে নেই, যা ভুক্তভোগীর বয়ানের নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য অপরিহার্য একটি তথ্য।
একক ঘটনা থেকে প্যাটার্ন নির্মাণ
প্রতিবেদনটি সুভাষের ব্যক্তিগত ও অস্পষ্ট এই ঘটনাকে জানুয়ারিতে রানা প্রতাপ বৈরাগী ও শরৎ মণি চক্রবর্তীর হত্যা, ঝিনাইদহে এক বিধবার ওপর নির্যাতন এবং ডিসেম্বরে অমৃত মণ্ডল ও দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে একই বাক্যবন্ধে সাজিয়ে একটি ধারাবাহিক সাম্প্রদায়িক নিধনযজ্ঞের চিত্র তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর প্রতিটির প্রকৃতি, প্রেক্ষাপট ও তদন্তের অবস্থা ভিন্ন। কোনোটি ব্যক্তিগত বিরোধ, কোনোটি গুজবভিত্তিক মব সহিংসতা, আবার সুভাষের ক্ষেত্রে যেমন দেখা যাচ্ছে, তা নিছক মাদকাসক্তদের ছিনতাই হতে পারে। ভিন্ন প্রকৃতির ও পৃথকভাবে যাচাই-অযোগ্য একাধিক ঘটনাকে একত্র সাজিয়ে "বাংলাদেশ কি হিন্দুদের জন্য নিরাপদ নয়" এই বৃহৎ প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী বয়ান নির্মাণ করা হচ্ছে।
সুভাষ দেউরীর ওপর হামলা নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর অপরাধ, এবং তদন্ত এখনো চলমান বলে পুলিশ নিজেই জানিয়েছে। কিন্তু একজন ভুক্তভোগীর অসম্পূর্ণ বয়ান, মাদকাসক্তদের দ্বারা সম্ভাব্য ছিনতাই, এবং ভুক্তভোগীর নিজের স্বীকারোক্তি যে তিনি পুরোহিত পরিচয় গোপন রেখেছিলেন এই সব তথ্য পাশ কাটিয়ে সীমান্তের ওপাড়ে বসে ফার্স্টপোস্ট যেভাবে ঘটনাটিকে "হিন্দু পুরোহিতের ওপর পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক নির্যাতন" হিসেবে হাজির করেছে এবং একে বিচ্ছিন্ন অন্য ঘটনার সঙ্গে গেঁথে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার আখ্যানে রূপ দিয়েছে, তা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছে।