| বিশ্লেষণ
ভুয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বয়ান ছড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফরকে ঘিরে অনলাইনে আওয়ামীপন্থীদের অপপ্রচার
১১ অক্টোবর ২০২৬
সম্প্রতি ইউটিউব ও ফেসবুকে নবনীতা চৌধুরী এবং অন্যান্য কতিপয় আওয়ামীপন্থী ভাষ্যকার ও ইউটিউবার বয়ান ছড়াচ্ছেন যে, ‘তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উঠেনি, সফর সংক্ষিপ্ত করে তিন দিনে ফিরবেন।’ অথবা, ‘ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে তারেক রহমান জাতিসংঘের বাইরে কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারছেন না! ২০০৮ সালে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।’ এটি আওয়ামীলীগের ছড়ানো প্রোপাগান্ডা, যা বরাবরের মত নবনীতা চৌধুরী ও অন্যান্যরা ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (স্থানীয় সময়) নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত-প্রাতরাশে অংশ নেন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রবেশে কোনো বাধা কার্যকর নেই। কার্যকর কোনো প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা থাকলে একজন সরকারপ্রধানের এভাবে দেশটিতে প্রবেশ ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অংশগ্রহণ সম্ভব হতো না।
তিনি ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়েন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন; ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা এবং পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টে যোগ দেবেন এবং সফরে জলবায়ু-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৈঠকও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার কোনো সরকারি ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মোরিয়ার্টির পাঠানো যে কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়েছিল, তা ছিল দূতাবাসের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ সুপারিশ (Security Advisory Opinion)। মোরিয়ার্টি কেবল প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে কোনো অফিশিয়াল ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা ট্রেজারি স্যাংশন জারি করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পতিত স্বৈরাচার দণ্ডিত আসামী শেখ হাসিনার রেওয়াজ থেকে সরে এসে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় না করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাইছেন। তিনি কোন বাড়তি একটি টাকা খরচ করতে চাচ্ছেন না। এমনকি প্রবাসীদের আয়োজন করা সম্বর্ধনাতে খরচ সাশ্রয় করতে তিনি কোনো সম্বর্ধনাতেও অংশ নিচ্ছেন না।
একইসাথে, সরকারি সূত্র বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছে যে, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় বিশ্বনেতারা সবাই নিউ ইয়র্কে থাকবেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী যেন তার সফর দীর্ঘায়িত না করেন, সেই অনুরোধ করা হয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। এজন্যই প্রধানমন্ত্রী কেবল অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে প্রত্যাবর্তন করবেন।
Topics:
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
NPSB পদ্ধতিতে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠালে ১% হারে চার্জ কাটার দাবিটি সঠিক নয়
মৃত্যুর কারণ এখনো উদ্ঘাটন হয়নি, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচার
AI-Generated Online Content
Targeting Political Parties, Government, and Security Forces
এরশাদের দলের কথা নয়, নজরুল ইসলাম খান কাজী জাফরের “জাতীয় পার্টি”-এর কথা বলেছেন
বিশ্লেষণ
ভুয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বয়ান ছড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফরকে ঘিরে অনলাইনে আওয়ামীপন্থীদের অপপ্রচার
১১ অক্টোবর ২০২৬
সম্প্রতি ইউটিউব ও ফেসবুকে নবনীতা চৌধুরী এবং অন্যান্য কতিপয় আওয়ামীপন্থী ভাষ্যকার ও ইউটিউবার বয়ান ছড়াচ্ছেন যে, ‘তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উঠেনি, সফর সংক্ষিপ্ত করে তিন দিনে ফিরবেন।’ অথবা, ‘ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে তারেক রহমান জাতিসংঘের বাইরে কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারছেন না! ২০০৮ সালে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।’ এটি আওয়ামীলীগের ছড়ানো প্রোপাগান্ডা, যা বরাবরের মত নবনীতা চৌধুরী ও অন্যান্যরা ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (স্থানীয় সময়) নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত-প্রাতরাশে অংশ নেন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রবেশে কোনো বাধা কার্যকর নেই। কার্যকর কোনো প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা থাকলে একজন সরকারপ্রধানের এভাবে দেশটিতে প্রবেশ ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অংশগ্রহণ সম্ভব হতো না।
তিনি ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়েন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন; ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা এবং পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টে যোগ দেবেন এবং সফরে জলবায়ু-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৈঠকও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার কোনো সরকারি ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মোরিয়ার্টির পাঠানো যে কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়েছিল, তা ছিল দূতাবাসের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ সুপারিশ (Security Advisory Opinion)। মোরিয়ার্টি কেবল প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে কোনো অফিশিয়াল ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা ট্রেজারি স্যাংশন জারি করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পতিত স্বৈরাচার দণ্ডিত আসামী শেখ হাসিনার রেওয়াজ থেকে সরে এসে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় না করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাইছেন। তিনি কোন বাড়তি একটি টাকা খরচ করতে চাচ্ছেন না। এমনকি প্রবাসীদের আয়োজন করা সম্বর্ধনাতে খরচ সাশ্রয় করতে তিনি কোনো সম্বর্ধনাতেও অংশ নিচ্ছেন না।
একইসাথে, সরকারি সূত্র বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছে যে, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় বিশ্বনেতারা সবাই নিউ ইয়র্কে থাকবেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী যেন তার সফর দীর্ঘায়িত না করেন, সেই অনুরোধ করা হয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। এজন্যই প্রধানমন্ত্রী কেবল অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে প্রত্যাবর্তন করবেন।