| বিশ্লেষণ
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্প্রতি বিতর্কিত নিউজ আউটলেট ‘উইকলি ব্লিটজ’-এর সম্পাদক সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তারমন্তব্যের অপব্যাখ্যা করে দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ট্রাম্প প্রশাসন শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তন নিয়ে “একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে যা তারা প্রকাশ্যে বলছেনা”। একই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ সরকার আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ২৫টি এয়ারবাস ক্রয়ের চুক্তি না করলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শেখ হাসিনার পুনর্বাসনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেবে এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আঘাত হানবে।
প্রকৃতপক্ষে, সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরীর পেশ করা দুটি দাবিই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক উপস্থাপন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তারা এটিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাবে, যুক্তরাষ্ট্র এমন আশা করে বলে জানিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিরপেক্ষ দ্বিপাক্ষিক অবস্থানকে বিকৃত করে "শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে স্পষ্টত ট্রাম্প প্রশাসন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে", এবং তা গোপন রাখছে বলে দাবি করা স্রেফ প্রোপাগান্ডা।
এখানে উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে বলে মত দেন মার্কিন কর্মকর্তা।
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন অবস্থানের কথা বলা হলেও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন শক্ত অবস্থান নেবে, এমন ব্যাখ্যা বা অনুমানের কোনো ভিত্তি তাঁর লেখায় পাওয়া যায় না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফ থেকে কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এ ধরণের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের বিষয়ে সোচ্চার সংস্থাটি এয়ারবাস বিমান কেনা বা না কেনার বাণিজ্যিক শর্তের ওপর ভিত্তি করে শেখ হাসিনার মতো পতিত ও দণ্ডিত স্বৈরশাসকের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান নেবে বা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তৈরি পোশাক শিল্পে চাপ সৃষ্টি করবে, এমন দাবি নিছক ষড়যন্ত্রতত্ত্ব।
Topics:
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
ইউপি নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য সময়সূচির সাথে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের খবর জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভিত্তিহীন প্রচারণা
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
বিশ্লেষণ
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্প্রতি বিতর্কিত নিউজ আউটলেট ‘উইকলি ব্লিটজ’-এর সম্পাদক সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তারমন্তব্যের অপব্যাখ্যা করে দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ট্রাম্প প্রশাসন শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তন নিয়ে “একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে যা তারা প্রকাশ্যে বলছেনা”। একই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ সরকার আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ২৫টি এয়ারবাস ক্রয়ের চুক্তি না করলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শেখ হাসিনার পুনর্বাসনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেবে এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আঘাত হানবে।
প্রকৃতপক্ষে, সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরীর পেশ করা দুটি দাবিই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক উপস্থাপন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তারা এটিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাবে, যুক্তরাষ্ট্র এমন আশা করে বলে জানিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিরপেক্ষ দ্বিপাক্ষিক অবস্থানকে বিকৃত করে "শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে স্পষ্টত ট্রাম্প প্রশাসন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে", এবং তা গোপন রাখছে বলে দাবি করা স্রেফ প্রোপাগান্ডা।
এখানে উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে বলে মত দেন মার্কিন কর্মকর্তা।
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন অবস্থানের কথা বলা হলেও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন শক্ত অবস্থান নেবে, এমন ব্যাখ্যা বা অনুমানের কোনো ভিত্তি তাঁর লেখায় পাওয়া যায় না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফ থেকে কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এ ধরণের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের বিষয়ে সোচ্চার সংস্থাটি এয়ারবাস বিমান কেনা বা না কেনার বাণিজ্যিক শর্তের ওপর ভিত্তি করে শেখ হাসিনার মতো পতিত ও দণ্ডিত স্বৈরশাসকের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান নেবে বা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তৈরি পোশাক শিল্পে চাপ সৃষ্টি করবে, এমন দাবি নিছক ষড়যন্ত্রতত্ত্ব।