| বিশ্লেষণ

'গ্রেটার বাংলাদেশ' গুজব: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যে বাংলাফ্যাক্ট এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম

৩ আগস্ট ২০২৫


'গ্রেটার বাংলাদেশ' গুজব: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যে বাংলাফ্যাক্ট এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম

তথাকথিত “গ্রেটার বাংলাদেশ” মানচিত্রকে ঘিরে ভারতীয় গণমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি পার্লামেন্টে বাংলাফ্যাক্ট-এর অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে যুগান্তর, ইত্তেফাক, যায়যায়দিন, ইনকিলাব, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, সময় টিভিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে সেসব প্রতিবেদনে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরেরই পুণরাবৃত্তি দেখা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান সংক্রান্ত বক্তব্য উল্লেখ করলেও, বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো সেই বক্তব্য তুলে ধরার বাইরে আর এগোয়নি। তারা মূল ঘটনা সম্পর্কে কোনো স্বতন্ত্র অনুসন্ধান করেনি।

গত ৩১ জুলাই ভারতের রাজ্যসভায় রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার এই প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘সরকার বিষয়টি নজরে এনেছে যে ঢাকার একটি ইসলামপন্থী সংগঠন ‘সালতানাত-ই-বাংলা’, যাদের পেছনে তুরস্কভিত্তিক এনজিও ‘টার্কিশ ইয়ুথ ফেডারেশন’ আছে, তারা একটি তথাকথিত ‘গ্রেটার বাংলাদেশে’র মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যাতে ভারতের কিছু অংশও দেখানো হয়েছে। এই মানচিত্রটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শন করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ সরকারের ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ বলেছে, ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামে কোনো সংগঠনের অস্তিত্বের প্রমাণ তারা পায়নি। তারা আরও জানিয়েছে, যে মানচিত্রটি দেখানো হয়েছে, তা ছিল ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রদর্শনীর অংশ, যেখানে প্রাচীন বাংলার সালতানাত বা ‘সুলতানাত’-এর সময়ের মানচিত্র দেখানো হয়েছিল। এই প্রদর্শনীটি ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, তাদের কোনো বিদেশি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।’

এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সবসময় জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সব ঘটনার ওপর ভারত সরকার পর্যবেক্ষণ করে এবং নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

এ বছর মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়, তুরস্কভিত্তিক একটি এনজিও’র সমর্থনে “সালতানাত ই বাংলা” নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশে “গ্রেটার বাংলাদেশ”-এর মানচিত্র ছড়াচ্ছে। গত ২০ মে বাংলাফ্যাক্ট বিস্তারিত অনুসন্ধান করে দেখায়, ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামে কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। তবে গত পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল, ২০২৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র- শিক্ষক কেন্দ্রে ‘ভালো কাজের হালখাতা’ নামে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ (সিবিএস) নামের একটি সংগঠন। সেখানে বাংলা সালতানাতের মানচিত্র প্রদর্শনী করা হয়, এবং ঐতিহাসিক মানচিত্র হিসেবেই তা প্রদর্শনী করা হয়, তথাকথিত গ্রেটার বাংলাদেশ-এর মানচিত্র হিসেবে নয়। সিবিএস কোনো এনজিও নয় এবং তুরস্ক ভিত্তিক কোনো সংগঠনের সাথেও সম্পর্কিত নয়।


তথ্যসূত্র:

জয়শংকর যা বলেছেন এখানে 

যমুনা টিভি ,  সময় টিভি,  দৈনিক যুগান্তর,  দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড,  দৈনিক যায়যায়দিন



Topics:



‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৮ অক্টোবর ২০২৬

‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা

৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম



নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



'গ্রেটার বাংলাদেশ' গুজব: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যে বাংলাফ্যাক্ট এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম

বিশ্লেষণ

'গ্রেটার বাংলাদেশ' গুজব: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যে বাংলাফ্যাক্ট এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম

৩ আগস্ট ২০২৫

'গ্রেটার বাংলাদেশ' গুজব: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যে বাংলাফ্যাক্ট এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম

তথাকথিত “গ্রেটার বাংলাদেশ” মানচিত্রকে ঘিরে ভারতীয় গণমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি পার্লামেন্টে বাংলাফ্যাক্ট-এর অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে যুগান্তর, ইত্তেফাক, যায়যায়দিন, ইনকিলাব, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, সময় টিভিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে সেসব প্রতিবেদনে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরেরই পুণরাবৃত্তি দেখা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান সংক্রান্ত বক্তব্য উল্লেখ করলেও, বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো সেই বক্তব্য তুলে ধরার বাইরে আর এগোয়নি। তারা মূল ঘটনা সম্পর্কে কোনো স্বতন্ত্র অনুসন্ধান করেনি।

গত ৩১ জুলাই ভারতের রাজ্যসভায় রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার এই প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘সরকার বিষয়টি নজরে এনেছে যে ঢাকার একটি ইসলামপন্থী সংগঠন ‘সালতানাত-ই-বাংলা’, যাদের পেছনে তুরস্কভিত্তিক এনজিও ‘টার্কিশ ইয়ুথ ফেডারেশন’ আছে, তারা একটি তথাকথিত ‘গ্রেটার বাংলাদেশে’র মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যাতে ভারতের কিছু অংশও দেখানো হয়েছে। এই মানচিত্রটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শন করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ সরকারের ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ বলেছে, ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামে কোনো সংগঠনের অস্তিত্বের প্রমাণ তারা পায়নি। তারা আরও জানিয়েছে, যে মানচিত্রটি দেখানো হয়েছে, তা ছিল ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রদর্শনীর অংশ, যেখানে প্রাচীন বাংলার সালতানাত বা ‘সুলতানাত’-এর সময়ের মানচিত্র দেখানো হয়েছিল। এই প্রদর্শনীটি ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, তাদের কোনো বিদেশি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।’

এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সবসময় জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সব ঘটনার ওপর ভারত সরকার পর্যবেক্ষণ করে এবং নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

এ বছর মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়, তুরস্কভিত্তিক একটি এনজিও’র সমর্থনে “সালতানাত ই বাংলা” নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশে “গ্রেটার বাংলাদেশ”-এর মানচিত্র ছড়াচ্ছে। গত ২০ মে বাংলাফ্যাক্ট বিস্তারিত অনুসন্ধান করে দেখায়, ‘সালতানাত-ই-বাংলা’ নামে কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। তবে গত পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল, ২০২৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র- শিক্ষক কেন্দ্রে ‘ভালো কাজের হালখাতা’ নামে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ (সিবিএস) নামের একটি সংগঠন। সেখানে বাংলা সালতানাতের মানচিত্র প্রদর্শনী করা হয়, এবং ঐতিহাসিক মানচিত্র হিসেবেই তা প্রদর্শনী করা হয়, তথাকথিত গ্রেটার বাংলাদেশ-এর মানচিত্র হিসেবে নয়। সিবিএস কোনো এনজিও নয় এবং তুরস্ক ভিত্তিক কোনো সংগঠনের সাথেও সম্পর্কিত নয়।


তথ্যসূত্র:

জয়শংকর যা বলেছেন এখানে 

যমুনা টিভি ,  সময় টিভি,  দৈনিক যুগান্তর,  দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড,  দৈনিক যায়যায়দিন