| বিশ্লেষণ
সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যু: আর্থিক লেনদেনের কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
১১ জানুয়ারী ২০২৬
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাঙাডহর গ্রামে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিষক্রিয়ায় জয় মহাপাত্র নামে এক যুবক মারা গেছে। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এনডিটিভি গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) এই বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘বাংলাদেশে আরও এক হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে; তাঁকে মারধর ও বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।’ প্রতিবেদনটির সূচনায় লিখেছে, ‘বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় বৃহস্পতিবার জয় মহাপাত্র নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে।…’ প্রায় একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে টিভি নাইন বাংলা, জি চব্বিশ ঘন্টা।
এমন তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে জয় মহাপাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জয় মহাপাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় বা সাম্প্রদায়িক ইস্যু নেই। এটি অর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত ঘটনা।
এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে দৈনিক প্রথম আলোর সুনামগঞ্জ জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক খলিল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাফ্যাক্ট। তিনি বলেন, ‘জয় মহাপাত্রের থেকে স্থানীয় দোকানদার আমিরুল ৫০০ টাকা পেত। আর্থিক লেনদেন নিয়ে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’
বাবুল চন্দ্র দাস ৮ নং পারুল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা ধর্মীয় কোনো কারণে ঘটেনি। আমি জয় মহাপাত্রের মা শেলী মহাপাত্রের সঙ্গে কথা বলেছি। দোকানদার আমিরুল ইসলামের সঙ্গে জয় মহাপাত্রের টাকা-পয়সার লেনদেন ছিল। সম্পূর্ণ টাকা না দেওয়ায় আমিরুল বৃহস্পতিবার সকালে জয়ের মুঠোফোন নিয়ে নেয়। বিকালে জয় তাঁর কাছ থেকে ফোন আনতে গেলে আমিরুল তাকা মারধর করে ফোনের সিম রেখে দেয়। একই কারণে আমিরুল জয়কে অপমান করে বলে, ‘তোরা বিষ খেয়ে মরোস না কেন।’ তারপর গ্লাসে করে জয়কে কি যেন খাওয়ান হয়। খাওয়ার পর শরীরের ভেতরে জ্বালাপোড়া শুরু হলে বাড়ি চিলে আসে। পরে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এসব তথ্য জয় মায়ের কাছে বলে গিয়েছে।’
জয়ের পিসতুতো ভাই অয়ন দাস বাংলাফ্যাক্টকে জানান, এই ঘটনায় কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় নেই।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন,’জয় মহাপাত্রের মা অভিযোগ করে গিয়েছেন। আমরা তদন্ত করছি বিষয়টি। তবে এই ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’
অর্থাৎ, সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এনডিটিভির প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
Topics:
Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট
আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি-পাচারের কারণেই বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা
কালের কণ্ঠের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উদ্বেগ’
যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২%
অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে তথ্য সচিবকে জুলাইবিরোধী হিসেবে অপপ্রচার
অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন
শুধু নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নয়, বরং অপরাধ করলে পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙা নিয়ে অপপ্রচার
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বর্তমান সরকার আরও ৬ মাস থাকবে বলে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করছে দ্য পোস্ট
যশোরের রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ড:রাজনৈতিক কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
বিশ্লেষণ
সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যু: আর্থিক লেনদেনের কারণকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার
১১ জানুয়ারী ২০২৬
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাঙাডহর গ্রামে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিষক্রিয়ায় জয় মহাপাত্র নামে এক যুবক মারা গেছে। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এনডিটিভি গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) এই বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘বাংলাদেশে আরও এক হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে; তাঁকে মারধর ও বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।’ প্রতিবেদনটির সূচনায় লিখেছে, ‘বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় বৃহস্পতিবার জয় মহাপাত্র নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে।…’ প্রায় একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে টিভি নাইন বাংলা, জি চব্বিশ ঘন্টা।
এমন তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে জয় মহাপাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জয় মহাপাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় বা সাম্প্রদায়িক ইস্যু নেই। এটি অর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত ঘটনা।
এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে দৈনিক প্রথম আলোর সুনামগঞ্জ জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক খলিল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাফ্যাক্ট। তিনি বলেন, ‘জয় মহাপাত্রের থেকে স্থানীয় দোকানদার আমিরুল ৫০০ টাকা পেত। আর্থিক লেনদেন নিয়ে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’
বাবুল চন্দ্র দাস ৮ নং পারুল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা ধর্মীয় কোনো কারণে ঘটেনি। আমি জয় মহাপাত্রের মা শেলী মহাপাত্রের সঙ্গে কথা বলেছি। দোকানদার আমিরুল ইসলামের সঙ্গে জয় মহাপাত্রের টাকা-পয়সার লেনদেন ছিল। সম্পূর্ণ টাকা না দেওয়ায় আমিরুল বৃহস্পতিবার সকালে জয়ের মুঠোফোন নিয়ে নেয়। বিকালে জয় তাঁর কাছ থেকে ফোন আনতে গেলে আমিরুল তাকা মারধর করে ফোনের সিম রেখে দেয়। একই কারণে আমিরুল জয়কে অপমান করে বলে, ‘তোরা বিষ খেয়ে মরোস না কেন।’ তারপর গ্লাসে করে জয়কে কি যেন খাওয়ান হয়। খাওয়ার পর শরীরের ভেতরে জ্বালাপোড়া শুরু হলে বাড়ি চিলে আসে। পরে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এসব তথ্য জয় মায়ের কাছে বলে গিয়েছে।’
জয়ের পিসতুতো ভাই অয়ন দাস বাংলাফ্যাক্টকে জানান, এই ঘটনায় কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় নেই।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন,’জয় মহাপাত্রের মা অভিযোগ করে গিয়েছেন। আমরা তদন্ত করছি বিষয়টি। তবে এই ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় নেই।’
অর্থাৎ, সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এনডিটিভির প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।