| বিশ্লেষণ
নেত্রকোণায় জুলাই স্তম্ভে আগুন ও জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতন
আরএসএস-এর ‘জয় শ্রীরাম’ বলানোর কায়দায় ‘জয় বাংলা’ বলানো:
অনলাইনে অভিনেত্রী শাওনসহ ফ্যাসিস্টদের উল্লাস
১১ জুন ২০২৬
গত ১০ জুন গভীর রাতে নেত্রকোনা শহরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বুধবার সেই ঘটনার ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে অগ্নিসংযোগকারীরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় স্লোগান দেন।
একই দিনে নেত্রকোণায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে বাধ্য করে ছাত্রলীগ। ভারতে মারধর করে 'জয় শ্রীরাম' বলানো, ও হেনস্থার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া রুটিনে পরিণত হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে। নেত্রকোণাতেও একই কায়দায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিপক্ষে কথা বলতে এবং “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়, এবং হেনস্তার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
এ দুটি ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামীপন্থীরা উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে। অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন “আজকে ২ টা ঘটনার পর ভাবতেই আনন্দ লাগছে যে নেত্রকোনা আমার শশুরবাড়ি…”।
দলটির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “এ-টিম”-এর সদস্য সুশান্ত দাস গুপ্ত এটি নিয়ে একাধিক পোস্ট দেন। একটি পোস্টে ঘটনাদুটির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, “আজকের বিজয়ী জেলা "নেত্রকোনা"। একদিনে দুই কাহিনি। ঝুলাই স্তম্ভে পানি আর ঝুলাই সন্ত্রাসী রওনককে বাদাম। স্যালুট নেত্রকোনা।” একই ধরণের ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট দেন এটিমের ডাক্তার আইজুদ্দিন ছদ্মনামের আরেক সদস্য।
দলটির অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ডাল্টন সৌভাত হীরা এই সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ড শেয়ার দিয়ে লেখেন, “ডরে আমার ভয় কাঁপতেছে।” ফটোকার্ডটিতে মাহফুজ আলমের উদ্বৃতি দাবি করে ভুয়া বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। উল্লাস প্রকাশের পাশাপাশি ডাল্টন নেত্রকোণার ঘটনাকে সমর্থন করে একাধিক পোস্ট করেন।
“নেত্রকোণা”, “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ” ইত্যাদি কিওয়ার্ড লিখে ফেসবুকে সার্চ দিয়ে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরাও এ দুটি ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফেনী, বরগুনা, মানিকগঞ্জ, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় আগেও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঘটনায় আওয়ামীপন্থীদের উল্লাস প্রকাশ নতুন কিছু নয়। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, জুলাইয়ের অন্যতম মুখ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা রীতিমতো উদযাপন করেন, যা নিয়ে বাংলাফ্যাক্ট একট বিশ্লেষণ প্রকাশ করে।
এর আগে গতবছরের ১৩ নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ চারদিনের ব্যবধানে দেশের অন্তত ৩১টি স্থানে অগ্নিসংযোগ করে বলে বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে উঠে আসে। এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও অনলাইনে আওয়ামী অ্যাক্টিভিস্টরা উল্লাস প্রকাশ করে।
মাঠের রাজনীতি থেকে কার্যত অদৃশ্য দলটির সমর্থকদের একটি অংশকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় দেখা যায়। সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনার পর অনলাইনে তাদের উল্লাস বা সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে। নেত্রকোণার ঘটনাকে ঘিরেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
Topics:
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
এরশাদের দলের কথা নয়, নজরুল ইসলাম খান কাজী জাফরের “জাতীয় পার্টি”-এর কথা বলেছেন
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে বারবার হাসিনার বক্তব্য প্রচার
মৃত্যুর কারণ এখনো উদ্ঘাটন হয়নি, কোনো ভিত্তি ছাড়াই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচার
গণশিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের খণ্ডাংশ নিয়ে কালের কণ্ঠের বিভ্রান্তিকর শিরোনাম
বিশ্লেষণ
নেত্রকোণায় জুলাই স্তম্ভে আগুন ও জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতন
আরএসএস-এর ‘জয় শ্রীরাম’ বলানোর কায়দায় ‘জয় বাংলা’ বলানো:
অনলাইনে অভিনেত্রী শাওনসহ ফ্যাসিস্টদের উল্লাস
১১ জুন ২০২৬
গত ১০ জুন গভীর রাতে নেত্রকোনা শহরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বুধবার সেই ঘটনার ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে অগ্নিসংযোগকারীরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় স্লোগান দেন।
একই দিনে নেত্রকোণায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে বাধ্য করে ছাত্রলীগ। ভারতে মারধর করে 'জয় শ্রীরাম' বলানো, ও হেনস্থার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া রুটিনে পরিণত হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে। নেত্রকোণাতেও একই কায়দায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিপক্ষে কথা বলতে এবং “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়, এবং হেনস্তার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
এ দুটি ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামীপন্থীরা উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে। অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন “আজকে ২ টা ঘটনার পর ভাবতেই আনন্দ লাগছে যে নেত্রকোনা আমার শশুরবাড়ি…”।
দলটির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “এ-টিম”-এর সদস্য সুশান্ত দাস গুপ্ত এটি নিয়ে একাধিক পোস্ট দেন। একটি পোস্টে ঘটনাদুটির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, “আজকের বিজয়ী জেলা "নেত্রকোনা"। একদিনে দুই কাহিনি। ঝুলাই স্তম্ভে পানি আর ঝুলাই সন্ত্রাসী রওনককে বাদাম। স্যালুট নেত্রকোনা।” একই ধরণের ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট দেন এটিমের ডাক্তার আইজুদ্দিন ছদ্মনামের আরেক সদস্য।
দলটির অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ডাল্টন সৌভাত হীরা এই সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ড শেয়ার দিয়ে লেখেন, “ডরে আমার ভয় কাঁপতেছে।” ফটোকার্ডটিতে মাহফুজ আলমের উদ্বৃতি দাবি করে ভুয়া বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। উল্লাস প্রকাশের পাশাপাশি ডাল্টন নেত্রকোণার ঘটনাকে সমর্থন করে একাধিক পোস্ট করেন।
“নেত্রকোণা”, “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ” ইত্যাদি কিওয়ার্ড লিখে ফেসবুকে সার্চ দিয়ে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরাও এ দুটি ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফেনী, বরগুনা, মানিকগঞ্জ, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় আগেও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঘটনায় আওয়ামীপন্থীদের উল্লাস প্রকাশ নতুন কিছু নয়। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, জুলাইয়ের অন্যতম মুখ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা রীতিমতো উদযাপন করেন, যা নিয়ে বাংলাফ্যাক্ট একট বিশ্লেষণ প্রকাশ করে।
এর আগে গতবছরের ১৩ নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ চারদিনের ব্যবধানে দেশের অন্তত ৩১টি স্থানে অগ্নিসংযোগ করে বলে বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে উঠে আসে। এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও অনলাইনে আওয়ামী অ্যাক্টিভিস্টরা উল্লাস প্রকাশ করে।
মাঠের রাজনীতি থেকে কার্যত অদৃশ্য দলটির সমর্থকদের একটি অংশকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় দেখা যায়। সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনার পর অনলাইনে তাদের উল্লাস বা সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে। নেত্রকোণার ঘটনাকে ঘিরেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।