| বিশ্লেষণ

পূর্ব বিরোধের জেরে হত্যা, সন্দেহভাজনরা কাছের সঙ্গী:

বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দোষ চাপিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে আ. লীগ

১১ অক্টোবর ২০২৬


পূর্ব বিরোধের জেরে হত্যা, সন্দেহভাজনরা কাছের সঙ্গী:
বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দোষ চাপিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে আ. লীগ

গতকাল ২৭ জুন ফেনীতে যোবায়ের হোসেন পারভেজ (৩৫) নামের একজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন বলে গণমাধ্যম থেকে জানা যায়। পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ হত্যার কারণ হিসেবে পূর্বশত্রুতার কথা বললেও, এটিকে “বিএনপি-জামাতের” হত্যা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ।


আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল পেইজে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “বিএনপি-জামায়াতের স/হিং/স রাজনীতি - কু/পি/য়ে, গলা কেটে বাড়ির পাশের রাস্তায় হ/ত্যা।” একই দাবিতে করা আরও কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, ও এখানে।


দৈনিক সমকাল থেকে জানা যায়, নিহতের স্বজনেরা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ডজনখানেক মামলায় পারভেজ ও একই এলাকার মামুনুর রশিদ মামুন দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তখন আদালতের নানা ধরনের ফির খরচ পারভেজ দেন। মামুন টাকা দেননি। তারা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর একটি দোকান নিয়ে পারভেজের সঙ্গে মামুন ও শাহাদাত হোসেনের বিরোধ শুরু হয়।


বিষয়টি বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছেন ফেনী ছাগলনাইয়া থানার ওসি আবু তাহের। তিনি জানান, এই মামুন ও শাহাদাতই হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন। এর মধ্যে মামুনের বিরুদ্ধে ২৫ এর অধিক ও শাহাদাতের বিরুদ্ধে ৫-৬টি মামলা রয়েছে। তারা নিহত পারভেজের সাথে একসঙ্গেই চলাফেরা করতেন। কারাগারে মামুনের খরচ যোবায়ের বহন করতেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগেরদিন, অর্থাৎ গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে মামুনের সঙ্গে পারভেজের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে তিনি টর্চলাইট দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করেন। বিষয়টির রাতেই সুরাহা হয়। রাতে পারভেজকে ঘর থেকে ডেকে নেন মামুন ও শাহাদাত। রাতে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। গতকাল ভোরে স্থানীয় লোকজন পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখেন।


অর্থাৎ, পরিবার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দোকানসংক্রান্ত বিরোধ এবং পূর্বের দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। সন্দেহভাজন দুজন বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত, এমন কোনো তথ্য মেলেনি। বরং তারা নিহত যোবায়েরের সাথেই চলাফেরা করতেন।


উল্লেখ্য, এই ঘটনায় মামুন ও মাইকেল নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক সন্দেহভাজন শাহাদাতকে এখনো গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





Topics:



‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৮ অক্টোবর ২০২৬

‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা

৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম



নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



পূর্ব বিরোধের জেরে হত্যা, সন্দেহভাজনরা কাছের সঙ্গী:
বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দোষ চাপিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে আ. লীগ

বিশ্লেষণ

পূর্ব বিরোধের জেরে হত্যা, সন্দেহভাজনরা কাছের সঙ্গী:

বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দোষ চাপিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে আ. লীগ

১১ অক্টোবর ২০২৬

<p>পূর্ব বিরোধের জেরে হত্যা, সন্দেহভাজনরা কাছের সঙ্গী:</p>
<p>বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দোষ চাপিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে আ. লীগ 
<br /></p>

গতকাল ২৭ জুন ফেনীতে যোবায়ের হোসেন পারভেজ (৩৫) নামের একজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন বলে গণমাধ্যম থেকে জানা যায়। পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ হত্যার কারণ হিসেবে পূর্বশত্রুতার কথা বললেও, এটিকে “বিএনপি-জামাতের” হত্যা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ।


আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল পেইজে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “বিএনপি-জামায়াতের স/হিং/স রাজনীতি - কু/পি/য়ে, গলা কেটে বাড়ির পাশের রাস্তায় হ/ত্যা।” একই দাবিতে করা আরও কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, ও এখানে।


দৈনিক সমকাল থেকে জানা যায়, নিহতের স্বজনেরা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ডজনখানেক মামলায় পারভেজ ও একই এলাকার মামুনুর রশিদ মামুন দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তখন আদালতের নানা ধরনের ফির খরচ পারভেজ দেন। মামুন টাকা দেননি। তারা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর একটি দোকান নিয়ে পারভেজের সঙ্গে মামুন ও শাহাদাত হোসেনের বিরোধ শুরু হয়।


বিষয়টি বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করেছেন ফেনী ছাগলনাইয়া থানার ওসি আবু তাহের। তিনি জানান, এই মামুন ও শাহাদাতই হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন। এর মধ্যে মামুনের বিরুদ্ধে ২৫ এর অধিক ও শাহাদাতের বিরুদ্ধে ৫-৬টি মামলা রয়েছে। তারা নিহত পারভেজের সাথে একসঙ্গেই চলাফেরা করতেন। কারাগারে মামুনের খরচ যোবায়ের বহন করতেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগেরদিন, অর্থাৎ গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে মামুনের সঙ্গে পারভেজের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে তিনি টর্চলাইট দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করেন। বিষয়টির রাতেই সুরাহা হয়। রাতে পারভেজকে ঘর থেকে ডেকে নেন মামুন ও শাহাদাত। রাতে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। গতকাল ভোরে স্থানীয় লোকজন পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখেন।


অর্থাৎ, পরিবার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দোকানসংক্রান্ত বিরোধ এবং পূর্বের দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। সন্দেহভাজন দুজন বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত, এমন কোনো তথ্য মেলেনি। বরং তারা নিহত যোবায়েরের সাথেই চলাফেরা করতেন।


উল্লেখ্য, এই ঘটনায় মামুন ও মাইকেল নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক সন্দেহভাজন শাহাদাতকে এখনো গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।