| বিশ্লেষণ
‘একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ শীর্ষক ভিডিওটিকে পুলিশকে গুলি বলে মাহবুব আজীজের
অপব্যাখ্যা
১১ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালানোর বিষয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ইকবাল হোসাইন মোবাইলে একটি ভিডিও দেখিয়ে বলছেন, “গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।”
মাহবুব আজীজ একটি বেসরকারি চ্যানেলের টকশোতে বলেন, এই ক্লিপটি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে গুলি করার বিষয়ে। টকশোতে মাহবুব আজীজ বলেন, ‘একটি গুলি করি একজন মরে আর কেউ যায় না৷ এখন আমি দেখেছি পরবর্তী ভিডিওগুলো এখন এসেছে৷ পুলিশ যে মারা গিয়েছিল সেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখানো হচ্ছিল৷ অর্থ্যাৎ আপনি কতটা বিশ্বাস করবেন, কাকে বিশ্বাস করবেন।'
কিন্তু এখানে ইকবাল হোসাইন পুলিশকে গুলি করার বিষয়ে নয়; বরং আন্দোলনকারীদের পুলিশ গুলি করেও দমাতে পারছে না, এ কথাই জানাচ্ছিলেন। তিনি আসাদুজ্জামানকে যে ক্লিপটি দেখাচ্ছিলেন, তাতে একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়; পুলিশের পোশাক পরিহিত কাউকে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। তাছাড়া ওই কর্মকর্তা বলছিলেন, “গুলি করি…।” প্রথম পুরুষে বলা এই বাক্য থেকেও বোঝা যায়, তিনি অর্থাৎ পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই গুলি করার কথাই বোঝাচ্ছিলেন।
অর্থাৎ, জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের একটি প্রমাণ হিসেবে থাকা ক্লিপটিকে উল্টোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এই সিনিয়র সাংবাদিক।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
মাহবুব আজীজ একজন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত৷ দৈনিক সমকালের ডেপুটি এডিটর হিসেবে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন৷ মাহবুব আজীজ এর আগেও টকশোতে নানা অসত্য তথ্য দিয়ে সমালোচিত হয়েছেন এবং এ নিয়ে ফ্যাক্টচেক স্টোরিও রয়েছে।
Topics:
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
100%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁকে অপসারণ করা হয়নি
নেত্রকোণায় জুলাই স্তম্ভে আগুন ও জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতন
আরএসএস-এর ‘জয় শ্রীরাম’ বলানোর কায়দায় ‘জয় বাংলা’ বলানো:
অনলাইনে অভিনেত্রী শাওনসহ ফ্যাসিস্টদের উল্লাস
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে শিরোনাম দিল গণমাধ্যম, এডিট করে খণ্ডিত বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন, পত্রিকায় যেভাবে এসেছে
বিশ্লেষণ
‘একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’ শীর্ষক ভিডিওটিকে পুলিশকে গুলি বলে মাহবুব আজীজের
অপব্যাখ্যা
১১ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালানোর বিষয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ইকবাল হোসাইন মোবাইলে একটি ভিডিও দেখিয়ে বলছেন, “গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।”
মাহবুব আজীজ একটি বেসরকারি চ্যানেলের টকশোতে বলেন, এই ক্লিপটি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে গুলি করার বিষয়ে। টকশোতে মাহবুব আজীজ বলেন, ‘একটি গুলি করি একজন মরে আর কেউ যায় না৷ এখন আমি দেখেছি পরবর্তী ভিডিওগুলো এখন এসেছে৷ পুলিশ যে মারা গিয়েছিল সেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখানো হচ্ছিল৷ অর্থ্যাৎ আপনি কতটা বিশ্বাস করবেন, কাকে বিশ্বাস করবেন।'
কিন্তু এখানে ইকবাল হোসাইন পুলিশকে গুলি করার বিষয়ে নয়; বরং আন্দোলনকারীদের পুলিশ গুলি করেও দমাতে পারছে না, এ কথাই জানাচ্ছিলেন। তিনি আসাদুজ্জামানকে যে ক্লিপটি দেখাচ্ছিলেন, তাতে একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়; পুলিশের পোশাক পরিহিত কাউকে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। তাছাড়া ওই কর্মকর্তা বলছিলেন, “গুলি করি…।” প্রথম পুরুষে বলা এই বাক্য থেকেও বোঝা যায়, তিনি অর্থাৎ পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই গুলি করার কথাই বোঝাচ্ছিলেন।
অর্থাৎ, জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের একটি প্রমাণ হিসেবে থাকা ক্লিপটিকে উল্টোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এই সিনিয়র সাংবাদিক।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
মাহবুব আজীজ একজন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত৷ দৈনিক সমকালের ডেপুটি এডিটর হিসেবে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন৷ মাহবুব আজীজ এর আগেও টকশোতে নানা অসত্য তথ্য দিয়ে সমালোচিত হয়েছেন এবং এ নিয়ে ফ্যাক্টচেক স্টোরিও রয়েছে।