| বিশ্লেষণ
ইউপি নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য সময়সূচির সাথে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের খবর জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভিত্তিহীন প্রচারণা
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য দিনকে ঘিরে বিএনপি সরকার এই নির্বাচনের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। অথচ, ইউপি নির্বাচনের কোনো তারিখই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি এবং ঘোষিত সময়সীমা ছিল কেবল প্রাথমিক সম্ভাব্য খসড়া।ভারতীয় গণমাধ্যমটি একটি তারিখেরউল্লেখ করে মনের মাধুরী মিশিয়ে বয়ান প্রচার করছে।
দ্য ওয়ালেরপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “শেখ হাসিনা আগামী ১৪ ডিসেম্বর দেশে ফিরতে চান। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত বিজয় দিবস পালন করে থাকে। ১৯৭১-এর ওই দিনে ঢাকায় মিত্র বাহিনীর (মুক্তি বাহিনী ও ভারতীয় সেনা) কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। দলীয় সূত্রের খবর, দেশ ও দলের ঐতিহাসিক অর্জনের দিনে তৃতীয় প্রত্যাবর্তন তথা দেশের মাটিতে পা রাখতে চান আওয়ামী লিগ সভাপতি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল ঠিক ওই সময় বাংলাদেশে সাত দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। ওপারে ইউনিয়ন পরিষদ হল এপারের গ্রাম পঞ্চায়েত।”
গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। প্রথম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর, যা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনা করবে। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং শেষ ধাপ ২৭ মে।
কিন্তু ১৫ সেপ্টেম্বর ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, “নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে দুই দিন ধরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি।” ইসি এই সময়সূচিকে সম্ভাব্য বললেও, দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে এটিকে চূড়ান্ত ধরে নিয়ে তার সাথে অযৌক্তিকভাবে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ্ সাংবাদিকদের স্পষ্টভাবে জানান নির্বাচনের কোনো তারিখই এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি যে সূচিটি জানিয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ‘প্রাথমিক ও সম্ভাব্য সময়সূচি’। ইসি কমিশনার জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে (যেমন—১৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত রয়েছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা)। পরীক্ষা ব্যাহত না করে এবং সামনে রোজা ও এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা বিবেচনা করে কীভাবে স্লট বের করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ভোট শেষ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
অর্থাৎ দ্য ওয়ালের শেখ হাসিনার ফেরার খবরের সাথে ইউপি নির্বাচনের সময় মেলানোর কোনো ভিত্তি নেই। নির্বাচন কমিশন কেবল ৭ মাসের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছিল, যা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমটি সম্ভাব্য সময়সীমার মধ্যে একটি তারিখকে উল্লেখ করে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের দিনক্ষণ মিলিয়ে, ইউপি নির্বাচন আসলে তাকে ঠেকানোরই কৌশল, এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ফেঁদে বসেছে, যার আদতে কোনো সত্যতা নেই।
Topics:
ভারতীয় গণমাধ্যম
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
'গ্রেটার বাংলাদেশ' গুজব: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যে বাংলাফ্যাক্ট এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম
এরশাদের দলের কথা নয়, নজরুল ইসলাম খান কাজী জাফরের “জাতীয় পার্টি”-এর কথা বলেছেন
গণশিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের খণ্ডাংশ নিয়ে কালের কণ্ঠের বিভ্রান্তিকর শিরোনাম
ইন্টারনেটে আগুন সন্ত্রাসের নির্দেশনা ও উষ্কানি দিচ্ছে আওয়ামী লীগের এক্টিভিস্টরা
বিশ্লেষণ
ইউপি নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য সময়সূচির সাথে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের খবর জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভিত্তিহীন প্রচারণা
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য দিনকে ঘিরে বিএনপি সরকার এই নির্বাচনের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। অথচ, ইউপি নির্বাচনের কোনো তারিখই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি এবং ঘোষিত সময়সীমা ছিল কেবল প্রাথমিক সম্ভাব্য খসড়া।ভারতীয় গণমাধ্যমটি একটি তারিখেরউল্লেখ করে মনের মাধুরী মিশিয়ে বয়ান প্রচার করছে।
দ্য ওয়ালেরপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “শেখ হাসিনা আগামী ১৪ ডিসেম্বর দেশে ফিরতে চান। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত বিজয় দিবস পালন করে থাকে। ১৯৭১-এর ওই দিনে ঢাকায় মিত্র বাহিনীর (মুক্তি বাহিনী ও ভারতীয় সেনা) কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। দলীয় সূত্রের খবর, দেশ ও দলের ঐতিহাসিক অর্জনের দিনে তৃতীয় প্রত্যাবর্তন তথা দেশের মাটিতে পা রাখতে চান আওয়ামী লিগ সভাপতি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল ঠিক ওই সময় বাংলাদেশে সাত দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। ওপারে ইউনিয়ন পরিষদ হল এপারের গ্রাম পঞ্চায়েত।”
গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। প্রথম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর, যা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনা করবে। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং শেষ ধাপ ২৭ মে।
কিন্তু ১৫ সেপ্টেম্বর ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, “নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে দুই দিন ধরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি।” ইসি এই সময়সূচিকে সম্ভাব্য বললেও, দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে এটিকে চূড়ান্ত ধরে নিয়ে তার সাথে অযৌক্তিকভাবে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ্ সাংবাদিকদের স্পষ্টভাবে জানান নির্বাচনের কোনো তারিখই এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি যে সূচিটি জানিয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ‘প্রাথমিক ও সম্ভাব্য সময়সূচি’। ইসি কমিশনার জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে (যেমন—১৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত রয়েছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা)। পরীক্ষা ব্যাহত না করে এবং সামনে রোজা ও এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা বিবেচনা করে কীভাবে স্লট বের করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ভোট শেষ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
অর্থাৎ দ্য ওয়ালের শেখ হাসিনার ফেরার খবরের সাথে ইউপি নির্বাচনের সময় মেলানোর কোনো ভিত্তি নেই। নির্বাচন কমিশন কেবল ৭ মাসের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছিল, যা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমটি সম্ভাব্য সময়সীমার মধ্যে একটি তারিখকে উল্লেখ করে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের দিনক্ষণ মিলিয়ে, ইউপি নির্বাচন আসলে তাকে ঠেকানোরই কৌশল, এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ফেঁদে বসেছে, যার আদতে কোনো সত্যতা নেই।