| বিশ্লেষণ

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে শিরোনাম দিল গণমাধ্যম, এডিট করে খণ্ডিত বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে শিরোনাম দিল গণমাধ্যম, এডিট করে খণ্ডিত বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের একটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যকে বিকৃত ও খণ্ডিত করে মূলধারার কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ও ক্যাপশনে সংবাদ পরিবেশন করেছে এবং পরবর্তীতে সেটিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।

আরটিভি, নিউজ২৪, মোহনা টিভি এবং একুশে টেলিভিশন দাবি করে, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন— "তেলের দাম না বাড়ালে সরকার যেসব কার্ড দিচ্ছে গরিব মানুষের জন্য সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতো", অথচ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল ভিন্ন। 


প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জ্বালানি তেলের ভর্তুকি ও সরকারের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ব্যয় সমন্বয়ের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেছেন, “আমরা যদি শুধুমাত্র জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে চাই তাহলে সরকারের চলমান যে সামাজিক নিরাপত্তার কার্যক্রম রয়েছে সেটি ভীষণভাবে বিঘ্নিত ঘটবে।” এরপর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “যে মা একটা প্রতিবন্ধী সন্তানকে মানুষ করে সরকারি ভাতার উপর নির্ভর করে তার পক্ষে সম্ভব হবে না হয়তোবা সেই প্রতিবন্ধী বাচ্চাটাকে মানুষ করা। যেই বিধবা নারী প্রায় ১০ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছে বিধবা ভাতার উপর নির্ভর করে সংসারটা পরিচালনা করতে হয় তার পক্ষে হয়তোবা সম্ভব হবে না আগামী দিনের খাবার জোগাড় করা। আমরা অস্বচ্ছল পরিবারগুলোকে পারিবারিক কার্ডের আওতায় আনতে চাই। প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকার পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে দিলে তাদের মুখের যে হাসি তাদের জীবনের সকল অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ার যে স্বস্তি এটা আপনারা যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন আপনাদের সহকর্মীদের কাছ থেকে জানার সুযোগ নিশ্চয়ই আপনাদের হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ রোগীদেরকে যে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয় যে ইপিআই কার্যক্রম রয়েছে সকল কার্যক্রমই আসলে বিঘ্নিত হবে এবং বিঘ্নিত ঘটবে ক্ষেত্রবিশেষে স্থবির হয়ে যাবে। ফলশ্রুতিতেই আসলে কোন বিকল্প সামনে না থাকবার কারণে আমাদেরকে এরকম একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছে।”  

আরটিভি, মোহনা টিভি, নিউজ২৪ ও একুশে টেলিভিশন তাদের শিরোনামে দাবি করে যে, তেলের দাম না বাড়ালে সরকারের দেয়া কার্ড বন্ধ হয়ে যেত বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন। গণমাধ্যমগুলো কেবল কার্ডের কথা উল্লেখ করে শিরোনাম করেছে। অথচ প্রতিমন্ত্রী সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা বলয়, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ, ইপিআই কার্যক্রম, ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রতিবন্ধী-বিধবা ভাতার মতো খাতগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথা বলছিলেন। এ ছাড়াও, তাঁর বক্তব্যে ‘সরকারের দেয়া কার্ড বন্ধ’ হয়ে যাবার কোনো কথা ছিল না, বরং সামাজিক নিরাপত্তা খাতগুলো বিঘ্নিত হতে পারে মন্তব্য করেছিলেন। 

অন্যদিকে, এই বিকৃত ও খণ্ডিত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি এডিটেড ভিডিও পোস্ট করে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করেন। সেখানে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে মাঝামাঝি অংশ কেটে ছোট করে এবং বিকৃত শিরোনাম দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মাঝের গুরুত্বপূর্ণ অংশ "সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ রোগীদেরকে যে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয় যে ইপিআই কার্যক্রম রয়েছে সকল কার্যক্রমই আসলে বিঘ্নিত হবে এবং বিঘ্নিত ঘটবে ক্ষেত্রবিশেষে স্থবির হয়ে যাবে।" —সম্পূর্ণ কেটে বাদ দেন। ভিডিও-এর শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার ভিডিও থেকে এক লাইন কেটে নিয়ে এমনভাবে জোড়া দেয়া হয়েছে, যাতে বক্তব্যটি এমনভাবে শোনায় যেন শুধুমাত্র পারিবারিক কার্ড চালু রাখতেই তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এভাবেই প্রচারিত সংবাদ ও সম্পাদিত ভিডিও-এর মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বয়ান প্রচারিত হচ্ছে।





Topics:



‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৮ অক্টোবর ২০২৬

‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা

৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম



নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে শিরোনাম দিল গণমাধ্যম, এডিট করে খণ্ডিত বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বিশ্লেষণ

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে শিরোনাম দিল গণমাধ্যম, এডিট করে খণ্ডিত বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

<p>জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে শিরোনাম দিল গণমাধ্যম, এডিট করে খণ্ডিত বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী<br /></p>

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের একটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যকে বিকৃত ও খণ্ডিত করে মূলধারার কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ও ক্যাপশনে সংবাদ পরিবেশন করেছে এবং পরবর্তীতে সেটিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।

আরটিভি, নিউজ২৪, মোহনা টিভি এবং একুশে টেলিভিশন দাবি করে, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন— "তেলের দাম না বাড়ালে সরকার যেসব কার্ড দিচ্ছে গরিব মানুষের জন্য সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতো", অথচ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল ভিন্ন। 


প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জ্বালানি তেলের ভর্তুকি ও সরকারের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ব্যয় সমন্বয়ের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেছেন, “আমরা যদি শুধুমাত্র জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে চাই তাহলে সরকারের চলমান যে সামাজিক নিরাপত্তার কার্যক্রম রয়েছে সেটি ভীষণভাবে বিঘ্নিত ঘটবে।” এরপর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “যে মা একটা প্রতিবন্ধী সন্তানকে মানুষ করে সরকারি ভাতার উপর নির্ভর করে তার পক্ষে সম্ভব হবে না হয়তোবা সেই প্রতিবন্ধী বাচ্চাটাকে মানুষ করা। যেই বিধবা নারী প্রায় ১০ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছে বিধবা ভাতার উপর নির্ভর করে সংসারটা পরিচালনা করতে হয় তার পক্ষে হয়তোবা সম্ভব হবে না আগামী দিনের খাবার জোগাড় করা। আমরা অস্বচ্ছল পরিবারগুলোকে পারিবারিক কার্ডের আওতায় আনতে চাই। প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকার পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে দিলে তাদের মুখের যে হাসি তাদের জীবনের সকল অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ার যে স্বস্তি এটা আপনারা যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন আপনাদের সহকর্মীদের কাছ থেকে জানার সুযোগ নিশ্চয়ই আপনাদের হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ রোগীদেরকে যে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয় যে ইপিআই কার্যক্রম রয়েছে সকল কার্যক্রমই আসলে বিঘ্নিত হবে এবং বিঘ্নিত ঘটবে ক্ষেত্রবিশেষে স্থবির হয়ে যাবে। ফলশ্রুতিতেই আসলে কোন বিকল্প সামনে না থাকবার কারণে আমাদেরকে এরকম একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছে।”  

আরটিভি, মোহনা টিভি, নিউজ২৪ ও একুশে টেলিভিশন তাদের শিরোনামে দাবি করে যে, তেলের দাম না বাড়ালে সরকারের দেয়া কার্ড বন্ধ হয়ে যেত বলে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন। গণমাধ্যমগুলো কেবল কার্ডের কথা উল্লেখ করে শিরোনাম করেছে। অথচ প্রতিমন্ত্রী সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা বলয়, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ, ইপিআই কার্যক্রম, ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রতিবন্ধী-বিধবা ভাতার মতো খাতগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথা বলছিলেন। এ ছাড়াও, তাঁর বক্তব্যে ‘সরকারের দেয়া কার্ড বন্ধ’ হয়ে যাবার কোনো কথা ছিল না, বরং সামাজিক নিরাপত্তা খাতগুলো বিঘ্নিত হতে পারে মন্তব্য করেছিলেন। 

অন্যদিকে, এই বিকৃত ও খণ্ডিত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি এডিটেড ভিডিও পোস্ট করে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করেন। সেখানে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে মাঝামাঝি অংশ কেটে ছোট করে এবং বিকৃত শিরোনাম দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মাঝের গুরুত্বপূর্ণ অংশ "সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ রোগীদেরকে যে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয় যে ইপিআই কার্যক্রম রয়েছে সকল কার্যক্রমই আসলে বিঘ্নিত হবে এবং বিঘ্নিত ঘটবে ক্ষেত্রবিশেষে স্থবির হয়ে যাবে।" —সম্পূর্ণ কেটে বাদ দেন। ভিডিও-এর শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার ভিডিও থেকে এক লাইন কেটে নিয়ে এমনভাবে জোড়া দেয়া হয়েছে, যাতে বক্তব্যটি এমনভাবে শোনায় যেন শুধুমাত্র পারিবারিক কার্ড চালু রাখতেই তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এভাবেই প্রচারিত সংবাদ ও সম্পাদিত ভিডিও-এর মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বয়ান প্রচারিত হচ্ছে।