| বিশ্লেষণ
নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকার একটি স্লুইসগেটের সামনে পানিতে ভাসতে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সঙ্গে থাকা প্যান্টের পকেটে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের টোকেনের সূত্র ধরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তখন পর্যন্ত হত্যার কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রকাশ করে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পিবিআই ময়মনসিংহ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অন্তরঙ্গ ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করায় নিরঞ্জনকে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ, ঘটনাটির সাথে কোনো সাম্প্রদায়িক যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ময়মনসিংহ নগরের স্টেডিয়াম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০ সেপ্টেম্বর তিনি বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর স্টেডিয়াম এলাকায় তাঁকে তাঁর এক ভাতিজা দেখেছিলেন বলে প্রথম আলোর খবরে জানা যায়। ২৪ তারিখ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করলেও তখন পর্যন্ত হত্যার কোনো কারণ জানা যায়নি।
তবে ঘটনাটির সাথে ‘সংখ্যালঘু নিপীড়ন’-এর প্রসঙ্গ জুড়ে দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম। ২৬ তারিখ ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, নিউজ এইটিন ও এবিপি আনন্দ এসব খবর প্রকাশ করে। এ প্রসঙ্গে ভারতে নির্বাসিত তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য নিয়ে খবর প্রকাশ করে হিন্দুস্তান টাইমস ও টিভি নাইন বাংলা। তসলিমা নাসরিন এ সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ড শেয়ার দিয়ে লিখেছিলেন “আশ্চর্য, সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে মুসলমানরা? সব হিন্দুর জমি দখল করে নেবে? তাদের টাকা পয়সা লুট করে নেবে? বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবে? আমি জানিনা কী করে হিন্দুরা বাস করছে ওই জিহাদিস্তানে।”
তবে হত্যার কারণ নিয়ে পিবিআই আজ জানায়, ভিডিও ধারণ করে শামীমকে ব্ল্যাকমেল ও টাকা দাবি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিরঞ্জনকে হত্যা করা হয়। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, “পিবিআই বলছে, ওই গ্যারেজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সুবাদে শামীমের সঙ্গে নিরঞ্জনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার শামীমের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শামীমের পরিবারের সদস্যরা বাসায় নিয়মিত না থাকার সুবাদে প্রায়ই ভাড়া বাসায় নারী নিয়ে আসতেন। এক নারীর সঙ্গে তাঁর একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিলেন নিরঞ্জন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে তিনি শামীমের কাছে প্রায়ই টাকা দাবি করতেন এবং বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিতেন। এভাবে ধাপে ধাপে প্রায় দুই লাখ টাকাও নেন।
২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে আবার টাকা দাবি করেন নিরঞ্জন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে বঁটি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে নিরঞ্জনের মৃত্যু হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।”
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সবিতা রানী ধর ২৬ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও সাম্প্রদায়িকতার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রধান আসামি শামীমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সাম্প্রদায়িক যোগসূত্র দেখানোর যে প্রয়াস চালিয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।
Topics:
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে অনলাইনে প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন আওয়ামীপন্থীরা
৩১ বছরের ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের নামে প্রচারিত পরজীবী ও বায়োফিল্মের গল্পটি ভুয়া
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কাল্পনিক বয়ান ছড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের কারণে নয়, গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগে এসআই ক্লোজড
ইউপি নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য সময়সূচির সাথে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের খবর জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভিত্তিহীন প্রচারণা
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
যৌথ মহড়া নিয়ে চন্দন নন্দীর অপপ্রচার
ভুয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বয়ান ছড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফরকে ঘিরে অনলাইনে আওয়ামীপন্থীদের অপপ্রচার
তারেক রহমানের বক্তব্যের 'আই হ্যাভ আ প্ল্যান' অংশটুকু নিয়ে এবিপি আনন্দের বিভ্রান্তিকর শিরোনাম
'গ্রেটার বাংলাদেশ' গুজব: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যে বাংলাফ্যাক্ট এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম
বিশ্লেষণ
নিরঞ্জনকে হত্যার কারণ উদঘাটনের আগেই সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করল ভারতীয় গণমাধ্যম
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকার একটি স্লুইসগেটের সামনে পানিতে ভাসতে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সঙ্গে থাকা প্যান্টের পকেটে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের টোকেনের সূত্র ধরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তখন পর্যন্ত হত্যার কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রকাশ করে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পিবিআই ময়মনসিংহ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অন্তরঙ্গ ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করায় নিরঞ্জনকে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ, ঘটনাটির সাথে কোনো সাম্প্রদায়িক যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ময়মনসিংহ নগরের স্টেডিয়াম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০ সেপ্টেম্বর তিনি বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর স্টেডিয়াম এলাকায় তাঁকে তাঁর এক ভাতিজা দেখেছিলেন বলে প্রথম আলোর খবরে জানা যায়। ২৪ তারিখ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করলেও তখন পর্যন্ত হত্যার কোনো কারণ জানা যায়নি।
তবে ঘটনাটির সাথে ‘সংখ্যালঘু নিপীড়ন’-এর প্রসঙ্গ জুড়ে দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম। ২৬ তারিখ ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, নিউজ এইটিন ও এবিপি আনন্দ এসব খবর প্রকাশ করে। এ প্রসঙ্গে ভারতে নির্বাসিত তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য নিয়ে খবর প্রকাশ করে হিন্দুস্তান টাইমস ও টিভি নাইন বাংলা। তসলিমা নাসরিন এ সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ড শেয়ার দিয়ে লিখেছিলেন “আশ্চর্য, সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে মুসলমানরা? সব হিন্দুর জমি দখল করে নেবে? তাদের টাকা পয়সা লুট করে নেবে? বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবে? আমি জানিনা কী করে হিন্দুরা বাস করছে ওই জিহাদিস্তানে।”
তবে হত্যার কারণ নিয়ে পিবিআই আজ জানায়, ভিডিও ধারণ করে শামীমকে ব্ল্যাকমেল ও টাকা দাবি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিরঞ্জনকে হত্যা করা হয়। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, “পিবিআই বলছে, ওই গ্যারেজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সুবাদে শামীমের সঙ্গে নিরঞ্জনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার শামীমের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শামীমের পরিবারের সদস্যরা বাসায় নিয়মিত না থাকার সুবাদে প্রায়ই ভাড়া বাসায় নারী নিয়ে আসতেন। এক নারীর সঙ্গে তাঁর একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিলেন নিরঞ্জন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে তিনি শামীমের কাছে প্রায়ই টাকা দাবি করতেন এবং বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিতেন। এভাবে ধাপে ধাপে প্রায় দুই লাখ টাকাও নেন।
২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে আবার টাকা দাবি করেন নিরঞ্জন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে বঁটি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে নিরঞ্জনের মৃত্যু হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।”
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সবিতা রানী ধর ২৬ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও সাম্প্রদায়িকতার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রধান আসামি শামীমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সাম্প্রদায়িক যোগসূত্র দেখানোর যে প্রয়াস চালিয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।