| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়
বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরে নিহতের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হত্যা বলে প্রচার
২৭ অক্টোবর ২০২৬
দেশে “ইসলামিক মৌলবাদীরা” শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যা করেছে – এমন দাবি করে একটি তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে মনোরঞ্জন রায়ের মৃত্যুর পেছনে কোনো সাম্প্রদায়িক কারণ নেই। গত ২৫ অক্টোবর বাড়ির বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নিহত হন। এ ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সংঘাত আখ্যা দিয়ে ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইট ও খবরের কাগজের ওয়েবসাইটে গত ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে বন্ধুর বাড়ির বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হন। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
দৈনিক প্রথম আলো পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানিয়েছে, কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেন (৫৩) নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের প্রয়াত আজিজুল মাস্টারের বাড়িতে নির্মাণকাজ করছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে আজিজুলের ছেলে আল রোমানের (২৫) সঙ্গে কয়েক দিন ধরে তাঁর বিরোধ চলছিল। এ ছাড়া বাড়ির পাশের একটি রাস্তার জমি নিয়ে প্রতিবেশী আসাদুজ্জামানের সঙ্গেও আল রোমানদের বিরোধ ছিল। ২৫ অক্টোবর দুপুরে কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেন ও আসাদুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন আল রোমানদের বাড়িতে যান। সেখানে আজিজুল মাস্টারের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। উভয় পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়। এ সময় আল রোমানদের বাড়িতে যাওয়া লোকজন তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁকে সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে তিনি পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যান। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমটিকে জানান, প্রয়াত বন্ধুর পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে চিরিরবন্দর থেকে মনোরঞ্জন রায় সেখানে গিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির পর তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।’
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর, দৈনিক আজকের পত্রিকাসহ একাধিক প্রতিবেদনে একই তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব প্রতিবেদনে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে মনোরঞ্জন রায়ের মৃত্যুর কারণ সাম্প্রদায়িক সংঘাত নয়।
Topics:
গণেশ পূজার মণ্ডপে ভাঙচুরের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো
কিশোরীর স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়ার ঘটনাকে 'পুজা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ' বলে প্রচার
মাদক ব্যবসার অভিযোগে মুসলিম ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও, ছড়ানো হচ্ছে সনাতনীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের দাবিতে
কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে হামলার পুরোনো দৃশ্যকে হিন্দুদের মন্দির ভাঙ্গার দৃশ্য বলে প্রচার
মুসলিম ব্যবসায়ীর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পুরোনো ঘটনা, ছড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার মিথ্যা দাবিতে
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
হিজাব না পরার জন্য নয়, ফুচকার দোকানে বসা নিয়ে বাধে সংঘর্ষ
নারায়ণগঞ্জে হিন্দু ব্যক্তির ওপর এসিড হামলা দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের
মুসলিম নারীর ওপর হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবি করে প্রচার
সাতক্ষীরায় বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কুষ্টিয়ায় মন্দিরে অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরে নিহতের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হত্যা বলে প্রচার
২৭ অক্টোবর ২০২৬
দেশে “ইসলামিক মৌলবাদীরা” শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যা করেছে – এমন দাবি করে একটি তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে মনোরঞ্জন রায়ের মৃত্যুর পেছনে কোনো সাম্প্রদায়িক কারণ নেই। গত ২৫ অক্টোবর বাড়ির বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নিহত হন। এ ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সংঘাত আখ্যা দিয়ে ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইট ও খবরের কাগজের ওয়েবসাইটে গত ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে বন্ধুর বাড়ির বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হন। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
দৈনিক প্রথম আলো পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানিয়েছে, কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেন (৫৩) নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের প্রয়াত আজিজুল মাস্টারের বাড়িতে নির্মাণকাজ করছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে আজিজুলের ছেলে আল রোমানের (২৫) সঙ্গে কয়েক দিন ধরে তাঁর বিরোধ চলছিল। এ ছাড়া বাড়ির পাশের একটি রাস্তার জমি নিয়ে প্রতিবেশী আসাদুজ্জামানের সঙ্গেও আল রোমানদের বিরোধ ছিল। ২৫ অক্টোবর দুপুরে কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেন ও আসাদুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন আল রোমানদের বাড়িতে যান। সেখানে আজিজুল মাস্টারের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। উভয় পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়। এ সময় আল রোমানদের বাড়িতে যাওয়া লোকজন তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁকে সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে তিনি পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যান। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমটিকে জানান, প্রয়াত বন্ধুর পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে চিরিরবন্দর থেকে মনোরঞ্জন রায় সেখানে গিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির পর তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।’
বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর, দৈনিক আজকের পত্রিকাসহ একাধিক প্রতিবেদনে একই তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব প্রতিবেদনে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে মনোরঞ্জন রায়ের মৃত্যুর কারণ সাম্প্রদায়িক সংঘাত নয়।