| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়

বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫


বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’
মিথ্যা

গত ২৬ ডিসেম্বর ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বহিরাগতদের হামলায় কনসার্ট পণ্ড হয়। সঙ্গীতশিল্পী জেমসকে নিয়ে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এ হামলাকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’ বলে দাবি করেছে। তবে দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কনসার্টে প্রবেশের সুযোগ ও বসার জায়গা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ বহিরাগতরা এই হামলা চালায়।


এ বিষয়ে অনুসন্ধানে একাধিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ‘পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি শুধু নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল। সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ ছিল না। অনিবন্ধিত কয়েক হাজার বহিরাগত দর্শক সংগীতশিল্পী জেমসের কথা শুনে চলে আসেন। পরে আয়োজক কমিটির পক্ষে বাইরে দুটি প্রজেক্টর লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে বহিরাগতরা দেয়াল বেয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় স্কুল প্রাঙ্গণের দর্শক ও মঞ্চের দিকে একের পর এক ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বাধা দিলে তাঁরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁদের ছোড়া ইটপাটকেলে স্কুল প্রাঙ্গণের ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন।


ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, জেমস আসার খবর শুনে স্কুলের সামনে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যান। এত লোককে স্কুলের ভেতরের প্রাঙ্গণে জায়গা দেওয়া অসম্ভব ছিল। বহিরাগতদের ঢুকতে না দেওয়ায় হালকা বিশৃঙ্খলা হয়েছে। ওসি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শেষ পর্যন্ত পুরো পরিবেশনা বাতিল করা হয়।


ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “জিলা স্কুলের নিজস্ব প্রোগ্রাম। সেখানে জায়গা ছোটো। আবার বাইরে বহু লোকের ভিড় হয়ে গিয়েছিলো। তারা ভেতরে ঢুকতে না পেরে ইট পাটকেল মেরেছে। এ নিয়ে হালকা মারামারি হওয়া সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কনসার্টটি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছি।"


অর্থাৎ, ফরিদপুরে জেমসের কনসার্টে বহিরাগতদের ঢুকতে না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা করে। এঘটনার সাথে ‘ইসলামিস্ট মবের’ কোনো সম্পর্ক নেই। আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।



Topics:



হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
মিথ্যা
২৪ আগস্ট ২০২৬

হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা
মিথ্যা
১৯ আগস্ট ২০২৬

শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা

পাহাড়ে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভুল তথ্য জুড়ে প্রচার
মিথ্যা
১৮ আগস্ট ২০২৬

পাহাড়ে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভুল তথ্য জুড়ে প্রচার

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ইসলামপন্থীদের হামলার দাবিটি মিথ্যা;
ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের আসামের
৬ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ইসলামপন্থীদের হামলার দাবিটি মিথ্যা; ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের আসামের

পথনাটকে অভিনয়ের দৃশ্যকে দেশে হিন্দু তরুণী মুখ বেঁধে নির্যাতনের দাবি করে প্রচার
মিথ্যা
৩০ জুন ২০২৬

পথনাটকে অভিনয়ের দৃশ্যকে দেশে হিন্দু তরুণী মুখ বেঁধে নির্যাতনের দাবি করে প্রচার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’

ফ্যাক্ট চেক

বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

<p>বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’
<br /></p>

গত ২৬ ডিসেম্বর ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বহিরাগতদের হামলায় কনসার্ট পণ্ড হয়। সঙ্গীতশিল্পী জেমসকে নিয়ে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এ হামলাকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’ বলে দাবি করেছে। তবে দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কনসার্টে প্রবেশের সুযোগ ও বসার জায়গা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ বহিরাগতরা এই হামলা চালায়।


এ বিষয়ে অনুসন্ধানে একাধিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ‘পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি শুধু নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল। সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ ছিল না। অনিবন্ধিত কয়েক হাজার বহিরাগত দর্শক সংগীতশিল্পী জেমসের কথা শুনে চলে আসেন। পরে আয়োজক কমিটির পক্ষে বাইরে দুটি প্রজেক্টর লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে বহিরাগতরা দেয়াল বেয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় স্কুল প্রাঙ্গণের দর্শক ও মঞ্চের দিকে একের পর এক ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বাধা দিলে তাঁরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁদের ছোড়া ইটপাটকেলে স্কুল প্রাঙ্গণের ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন।


ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, জেমস আসার খবর শুনে স্কুলের সামনে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যান। এত লোককে স্কুলের ভেতরের প্রাঙ্গণে জায়গা দেওয়া অসম্ভব ছিল। বহিরাগতদের ঢুকতে না দেওয়ায় হালকা বিশৃঙ্খলা হয়েছে। ওসি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শেষ পর্যন্ত পুরো পরিবেশনা বাতিল করা হয়।


ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “জিলা স্কুলের নিজস্ব প্রোগ্রাম। সেখানে জায়গা ছোটো। আবার বাইরে বহু লোকের ভিড় হয়ে গিয়েছিলো। তারা ভেতরে ঢুকতে না পেরে ইট পাটকেল মেরেছে। এ নিয়ে হালকা মারামারি হওয়া সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কনসার্টটি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছি।"


অর্থাৎ, ফরিদপুরে জেমসের কনসার্টে বহিরাগতদের ঢুকতে না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা করে। এঘটনার সাথে ‘ইসলামিস্ট মবের’ কোনো সম্পর্ক নেই। আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।