| অনুসন্ধান
জামায়াতের সমর্থনে ‘হিন্দু নারীদের’ ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘বাংলা ফ্রেশ নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নারীদের কিছু ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এসব ভিডিওর কয়েকটিতে নারীদের শাখা-সিঁদুর পরিহিত অবস্থায় দেখা যায় এবং ভিডিওর ক্যাপশনে তাদের ‘হিন্দু নারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে এসব নারী জামায়াতের পক্ষে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির বিপক্ষে কথা বলছেন।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওগুলো আসল নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি ভিডিওগুলোকে বাস্তব বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে কোনো প্রকার 'এআই লেবেল' যুক্ত করা হয়নি, যা বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
জামাতের জন্য আর চুপ থাকতে পারলেন না - হিন্দু নারী
ভিডিওটিতে নারীকে বলতে দেখা যায়, “জামায়াতের নারীরা রাস্তাঘাটে লাঞ্ছিত হচ্ছে, তা নিয়ে নারীবাদীদের কোনো মাথাব্যথা নেই। অথচ জামায়াতের পোস্ট নিয়ে তারা জেগে উঠেছে। যেই পোস্টে জামায়াতের কোনো দোষ নেই, তারা এই পোস্ট দেয়নি, এই পোস্ট হ্যাকারেরা দিয়েছে, যা প্রমাণিত হয়েছে। তাহলে এটা সহজে বোঝা যাচ্ছে, জামায়াত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। আমরা সব ষড়যন্ত্র রুখে দেব, আপনারা সাথে থাকবেন।”
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে প্রথমেই এর অডিও অংশে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। যেমন: কণ্ঠস্বরের কোনো স্বাভাবিক ওঠানামা নেই। এ ছাড়া ভিডিওর দৃশ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে; যেমন হাতের আংটি এক ফ্রেমে থাকলেও পরক্ষণেই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এমনকি নাকের নথটির অবস্থানও বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। এ ধরনের অসঙ্গতি সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি করা ভিডিওতে দেখা যায়।
আলোচিত ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ -এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
পরবর্তীতে ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে তারা উল্লেখ করে যে, ‘এই ভিডিওটি প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’
“এবার দাঁড়িপাল্লায় হবে নতুন বাংলাদেশ।”
ভিডিওতে শাখা-সিঁদুর পরিহিত এক নারীকে বলতে দেখা যায়, “এপর্যন্ত তো কতই নেতা দেখলাম, সবাই টাকার পাহাড় গড়ে, বিদেশে শত শত বাড়ি বানায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদেশ চলে যায়, বিপদ দেখলেই সবাইকে ভুলে যায়। এমন ভুল আর কতদিন করবে মানুষ? বারবার ভুল করলে কখনোই ন্যায্য অধিকার পাব না আমরা।” এছাড়াও, ভিডিওতে বিএনপিকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায়।
এই ভিডিওটিতেও বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যা সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি করা ভিডিওগুলোতে দেখা যায়।"
পরবর্তীতে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
‘বৌদি জামাতকে কেন এত বেশি ভালোবাসে’
ভিডিওটিতে নারীটিকে বলতে দেখা যায়, “জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে তবে দেশের নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। একসময় দেশ হয়ে উঠবে ইউরোপ-আমেরিকার মতো সমৃদ্ধশালী। তার কারণ একটাই, জামায়াত দুর্নীতি করবে না। আমরা যদি দুর্নীতি থেকে দূরে থাকতে পারি তাহলে আমরা অনেক কিছুই পারব। আমাদের দেশে কোনো কিছুর কমতি নেই, শুধু কমতি আছে সততার। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে সমাজে সেই সততা প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।"
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
‘জামাতকে নিয়ে একি মন্তব্য করলেন হিন্দু নারী’
ভিডিওটিতে বলতে দেখা যায়, “জামায়াতের প্রতি আমার দৃঢ় আস্থা আছে। আমার বিশ্বাস তারা খুব সুন্দরভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে দুর্নীতি, সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। তাই অবশ্যই আগামীতে জামায়াতকে সংসদে নিয়ে দেশ গড়ার এই সুযোগ করে দিতে হবে। সহমত হলে শেয়ার করবেন, প্লিজ।”
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
“কেন জামাতের সাথে আছে " জানালেন হিন্দু নারী”
ভিডিওতে বলতে দেখা যায় “ক্ষমতায় যে আসুক না কেন, বাংলাদেশের স্বার্থে সবাইকে একসাথে কাজ করে যেতে হবে। হাসিনা সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। এরকম সুযোগ আর দেওয়া যাবে না। তাই এমন কাউকে বেছে নিতে হবে যে দল এগুলো রুখে দেবে; জামায়াত দুর্নীতি ও অনিয়ম ভেঙে দিতে পারবে। আমি জামায়াতের সাথে আছি, আশা করি আপনারাও থাকবেন। বাংলাদেশ ও জামায়াতকে ভালোবাসলে অবশ্যই ভিডিওটি শেয়ার করবেন।”
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
‘এবার হিন্দু নারী জামাতকে যাচাই করবে’
ভিডিওটিতে নারীকে বলতে দেখা যায়, “এবার জামায়াতকে ভোট দেব। দেখি, ক্ষমতায় আসার পর তারা কী করে। জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি-আওয়ামী লীগের মতো কাজ করে, তাহলে বুঝব, বাঙালির কপালটাই খারাপ। এ কারণে কপাল চেক করার জন্য জামায়াতকে একবার ক্ষমতায় দেখতে চাই। এ বিষয়ে আপনাদের মতামত জানতে চাচ্ছি। কেমন হবে?”
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
উল্লেখ্য, ভিডিওগুলোতে সকল নারীর কণ্ঠস্বর প্রায় একই রকম বলে প্রতীয়মান হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই ব্যবহার করে ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আলোচিত ভিডিওগুলো গুগলের এআই দিয়ে তৈরি কি না যাচই করতে গুগলের ‘সিন্থআইডি’ (SynthID) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেগুলো যাচাই করা হয়। যাচাইয়ে আলোচিত ভিডিওগুলোর অডিও অংশ এবং একটি ভিডিওর অডিও ও ভিডিও গুগলের এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সাধারণত ভিডিওর গুণমান কমে গেলে কিংবা সম্পাদনার সময় অতিরিক্ত কম্প্রেশনের কারণে ভিডিও থেকে ‘SynthID’ ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ভিডিওতে পাওয়া না গেলেও অডিওতে ‘SynthID’ শনাক্ত হওয়া এটি প্রমাণ করে যে, কনটেন্টটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি। এছাড়া ঠোঁটের নাড়াচাড়া বা ‘লিপ-সিঙ্ক’-এর সাথে অডিওর নিখুঁত সামঞ্জস্য নির্দেশ করে যে, ভিডিও এবং অডিও আলাদাভাবে নয় বরং একই এআই টুলের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
গুগলের বিশেষায়িত ‘সিন্থআইডি’ টুলের বিশ্লেষণ: তৌসিফ আকবর, সিনিয়র ফ্যাক্টচেকার
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিন্দু নারীদের জামায়াত সমর্থনের ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি।
Topics:
ভুয়া নিউজসাইট খুলে অপতথ্য ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ
দ্য ভয়েস: প্রোপাগান্ডার কণ্ঠস্বর
বিডি ডাইজেস্ট: আওয়ামী প্রোপাগান্ডা মেশিনের আরেক হাতিয়ার
দৈনিক আজকের কণ্ঠ: পত্রিকার ছদ্মবেশে প্রপাগাণ্ডা মেশিন
হত্যার কারণ সাম্প্রদায়িক কলহ নয়, অন্য কিছু
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
100%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
অনুসন্ধান
জামায়াতের সমর্থনে ‘হিন্দু নারীদের’ ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘বাংলা ফ্রেশ নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নারীদের কিছু ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এসব ভিডিওর কয়েকটিতে নারীদের শাখা-সিঁদুর পরিহিত অবস্থায় দেখা যায় এবং ভিডিওর ক্যাপশনে তাদের ‘হিন্দু নারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে এসব নারী জামায়াতের পক্ষে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির বিপক্ষে কথা বলছেন।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওগুলো আসল নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি ভিডিওগুলোকে বাস্তব বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে কোনো প্রকার 'এআই লেবেল' যুক্ত করা হয়নি, যা বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
জামাতের জন্য আর চুপ থাকতে পারলেন না - হিন্দু নারী
ভিডিওটিতে নারীকে বলতে দেখা যায়, “জামায়াতের নারীরা রাস্তাঘাটে লাঞ্ছিত হচ্ছে, তা নিয়ে নারীবাদীদের কোনো মাথাব্যথা নেই। অথচ জামায়াতের পোস্ট নিয়ে তারা জেগে উঠেছে। যেই পোস্টে জামায়াতের কোনো দোষ নেই, তারা এই পোস্ট দেয়নি, এই পোস্ট হ্যাকারেরা দিয়েছে, যা প্রমাণিত হয়েছে। তাহলে এটা সহজে বোঝা যাচ্ছে, জামায়াত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। আমরা সব ষড়যন্ত্র রুখে দেব, আপনারা সাথে থাকবেন।”
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে প্রথমেই এর অডিও অংশে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। যেমন: কণ্ঠস্বরের কোনো স্বাভাবিক ওঠানামা নেই। এ ছাড়া ভিডিওর দৃশ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে; যেমন হাতের আংটি এক ফ্রেমে থাকলেও পরক্ষণেই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এমনকি নাকের নথটির অবস্থানও বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। এ ধরনের অসঙ্গতি সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি করা ভিডিওতে দেখা যায়।
আলোচিত ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ -এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
পরবর্তীতে ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে তারা উল্লেখ করে যে, ‘এই ভিডিওটি প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’
“এবার দাঁড়িপাল্লায় হবে নতুন বাংলাদেশ।”
ভিডিওতে শাখা-সিঁদুর পরিহিত এক নারীকে বলতে দেখা যায়, “এপর্যন্ত তো কতই নেতা দেখলাম, সবাই টাকার পাহাড় গড়ে, বিদেশে শত শত বাড়ি বানায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদেশ চলে যায়, বিপদ দেখলেই সবাইকে ভুলে যায়। এমন ভুল আর কতদিন করবে মানুষ? বারবার ভুল করলে কখনোই ন্যায্য অধিকার পাব না আমরা।” এছাড়াও, ভিডিওতে বিএনপিকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায়।
এই ভিডিওটিতেও বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যা সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি করা ভিডিওগুলোতে দেখা যায়।"
পরবর্তীতে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
‘বৌদি জামাতকে কেন এত বেশি ভালোবাসে’
ভিডিওটিতে নারীটিকে বলতে দেখা যায়, “জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে তবে দেশের নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। একসময় দেশ হয়ে উঠবে ইউরোপ-আমেরিকার মতো সমৃদ্ধশালী। তার কারণ একটাই, জামায়াত দুর্নীতি করবে না। আমরা যদি দুর্নীতি থেকে দূরে থাকতে পারি তাহলে আমরা অনেক কিছুই পারব। আমাদের দেশে কোনো কিছুর কমতি নেই, শুধু কমতি আছে সততার। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে সমাজে সেই সততা প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।"
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
‘জামাতকে নিয়ে একি মন্তব্য করলেন হিন্দু নারী’
ভিডিওটিতে বলতে দেখা যায়, “জামায়াতের প্রতি আমার দৃঢ় আস্থা আছে। আমার বিশ্বাস তারা খুব সুন্দরভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে দুর্নীতি, সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। তাই অবশ্যই আগামীতে জামায়াতকে সংসদে নিয়ে দেশ গড়ার এই সুযোগ করে দিতে হবে। সহমত হলে শেয়ার করবেন, প্লিজ।”
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
“কেন জামাতের সাথে আছে " জানালেন হিন্দু নারী”
ভিডিওতে বলতে দেখা যায় “ক্ষমতায় যে আসুক না কেন, বাংলাদেশের স্বার্থে সবাইকে একসাথে কাজ করে যেতে হবে। হাসিনা সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। এরকম সুযোগ আর দেওয়া যাবে না। তাই এমন কাউকে বেছে নিতে হবে যে দল এগুলো রুখে দেবে; জামায়াত দুর্নীতি ও অনিয়ম ভেঙে দিতে পারবে। আমি জামায়াতের সাথে আছি, আশা করি আপনারাও থাকবেন। বাংলাদেশ ও জামায়াতকে ভালোবাসলে অবশ্যই ভিডিওটি শেয়ার করবেন।”
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
‘এবার হিন্দু নারী জামাতকে যাচাই করবে’
ভিডিওটিতে নারীকে বলতে দেখা যায়, “এবার জামায়াতকে ভোট দেব। দেখি, ক্ষমতায় আসার পর তারা কী করে। জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি-আওয়ামী লীগের মতো কাজ করে, তাহলে বুঝব, বাঙালির কপালটাই খারাপ। এ কারণে কপাল চেক করার জন্য জামায়াতকে একবার ক্ষমতায় দেখতে চাই। এ বিষয়ে আপনাদের মতামত জানতে চাচ্ছি। কেমন হবে?”
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
উল্লেখ্য, ভিডিওগুলোতে সকল নারীর কণ্ঠস্বর প্রায় একই রকম বলে প্রতীয়মান হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই ব্যবহার করে ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আলোচিত ভিডিওগুলো গুগলের এআই দিয়ে তৈরি কি না যাচই করতে গুগলের ‘সিন্থআইডি’ (SynthID) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেগুলো যাচাই করা হয়। যাচাইয়ে আলোচিত ভিডিওগুলোর অডিও অংশ এবং একটি ভিডিওর অডিও ও ভিডিও গুগলের এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সাধারণত ভিডিওর গুণমান কমে গেলে কিংবা সম্পাদনার সময় অতিরিক্ত কম্প্রেশনের কারণে ভিডিও থেকে ‘SynthID’ ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ভিডিওতে পাওয়া না গেলেও অডিওতে ‘SynthID’ শনাক্ত হওয়া এটি প্রমাণ করে যে, কনটেন্টটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি। এছাড়া ঠোঁটের নাড়াচাড়া বা ‘লিপ-সিঙ্ক’-এর সাথে অডিওর নিখুঁত সামঞ্জস্য নির্দেশ করে যে, ভিডিও এবং অডিও আলাদাভাবে নয় বরং একই এআই টুলের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
গুগলের বিশেষায়িত ‘সিন্থআইডি’ টুলের বিশ্লেষণ: তৌসিফ আকবর, সিনিয়র ফ্যাক্টচেকার
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিন্দু নারীদের জামায়াত সমর্থনের ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি।