| অনুসন্ধান

বেনজীরের কাঁধে ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়

১৪ জুন ২০২৬


বেনজীরের কাঁধে ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়

বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বেনজীর আহমেদ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়কালে ১৫ জন গুম এবং ২০০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এর আগে তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত। ওই দীর্ঘ পাঁচ বছরে গুমের সংখ্যা ছিল ২৫৫ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৪৫০ জনে। 


অর্থাৎ, তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন মোট ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান থেকে এই চিত্র পাওয়া যায়।


এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালে অর্থাৎ নির্বাচনের বছরে সর্বোচ্চ ৩৫৪টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। একই বছর গুমের শিকার হয়েছিলেন ৩৪ জন। সর্বোচ ৯৭টি গুমের ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালে। এই সময়টাতে বেনজীর আহমেদ র‍্যাবের সর্বোচ্চ দায়িত্বে ছিলেন।


মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন। এই নিষেধাজ্ঞার পর আরও ৯ মাস তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। ওই ৯ মাসে অন্তত ১০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। 


গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।


এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর  দুদক পৃথক চারটি মামলা করে বলে প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়।


আজ ১৪ জুন দুর্নীতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটিকে পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।





Topics:



ভিত্তিহীন ইস/রায়ে/লি অভিযোগ প্রচারে ব্যস্ত আ. লীগপন্থিরা
২৩ জুন ২০২৬

ভিত্তিহীন ইস/রায়ে/লি অভিযোগ প্রচারে ব্যস্ত আ. লীগপন্থিরা

ডিজিটাল ময়দানে পতিত ফ্যাসিস্টদের যৌন-আগ্রাসী আচরণ
১০ জুন ২০২৬

ডিজিটাল ময়দানে পতিত ফ্যাসিস্টদের যৌন-আগ্রাসী আচরণ

লীগের ছড়ানো ফেইক স্ক্রিনশট থেকে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে সংঘাত
২৪ এপ্রিল ২০২৬

লীগের ছড়ানো ফেইক স্ক্রিনশট থেকে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে সংঘাত

অনির্ভরযোগ্য নিউজসাইটের ভুয়া প্রতিবেদনের বরাতে আজকের কণ্ঠের প্রোপাগাণ্ডা
মিথ্যা
১২ এপ্রিল ২০২৬

অনির্ভরযোগ্য নিউজসাইটের ভুয়া প্রতিবেদনের বরাতে আজকের কণ্ঠের প্রোপাগাণ্ডা

দেশকে অরাজক দেখাতে সক্রিয় আওয়ামীপন্থী পেইজ, টার্গেট বিএনপি ও নতুন সরকার
২ এপ্রিল ২০২৬

দেশকে অরাজক দেখাতে সক্রিয় আওয়ামীপন্থী পেইজ, টার্গেট বিএনপি ও নতুন সরকার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



বেনজীরের কাঁধে ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়

অনুসন্ধান

বেনজীরের কাঁধে ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়

১৪ জুন ২০২৬

<p>বেনজীরের কাঁধে ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায় 

<br /></p>

বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বেনজীর আহমেদ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়কালে ১৫ জন গুম এবং ২০০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এর আগে তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত। ওই দীর্ঘ পাঁচ বছরে গুমের সংখ্যা ছিল ২৫৫ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৪৫০ জনে। 


অর্থাৎ, তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন মোট ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান থেকে এই চিত্র পাওয়া যায়।


এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালে অর্থাৎ নির্বাচনের বছরে সর্বোচ্চ ৩৫৪টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। একই বছর গুমের শিকার হয়েছিলেন ৩৪ জন। সর্বোচ ৯৭টি গুমের ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালে। এই সময়টাতে বেনজীর আহমেদ র‍্যাবের সর্বোচ্চ দায়িত্বে ছিলেন।


মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন। এই নিষেধাজ্ঞার পর আরও ৯ মাস তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। ওই ৯ মাসে অন্তত ১০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। 


গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।


এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর  দুদক পৃথক চারটি মামলা করে বলে প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়।


আজ ১৪ জুন দুর্নীতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটিকে পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।