| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
উখিয়ায় ৫ বছরের শিশুকে আটক করা হয়নি, আত্মীয়-স্বজন হেফাজতে না নেওয়ায় মায়ের সঙ্গে আদালতে নেওয়া হয়
১৩ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় অপরাধী পিতাকে পুলিশ ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর ৫ বছরের শিশুকে আটক করেছে- এমন দাবি করে একটি একটি তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে।
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, এই দাবিটি সঠিক নয়। আত্মীয়-স্বজন শিশুটিকে হেফাজতে নিতে আগ্রহী না হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে মায়ের সঙ্গে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
অনুসন্ধানে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এই বিষয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে জানা যায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে উখিয়া থানা পুলিশ উখিয়া থানাধীন ৪নং রাজাপালং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ কাশিয়ারবিল এলাকায় ৪ মাসের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী মিজানুর রহমান (৩৯), পিতা- জাফর আলমকে গ্রেফতার করে নিয়মানুযায়ী হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আনতে গেলে আসামীর পরিবারের লোকজনসহ তাদের আত্মীয়স্বজন লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশকে বাধা প্রদান করে এবং পোশাক পরিহিত পুলিশের উপর আক্রমণ করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মিজানুর রহমানকে পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় ৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। উক্ত বিষয়ে আসামীরে বিরদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়। ১নং আসামী ফারজানা হাকিম এর সাথে ৫ বছরের কন্যা সন্তান থাকায় আত্মীয়-স্বজনকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য উখিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কোন আত্মীয়-স্বজন শিশুটিকে হেফাজতে নিতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য মায়ের সাথে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
উক্ত পোস্টে কক্সবাজার জেলা পুলিশ আরও জানায়, কন্যা শিশুটির নামে উখিয়া থানায় কোন মামলা হয়নি এবং তাকে গ্রেফতারও করা হয় নাই।
এই বিষয়ে দৈনিক বণিক বার্তার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ছৈয়দ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুলিশ একটি মামলায় শিশুটির মাকে আটক করতে গিয়েছিল। পরে পুলিশ শিশুটির আত্মীয়র কাছে শিশুটিকে হেফাজতে রেখে যেতে চান। তবে সেই সময় তাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন শিশুটিকে নিতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য তাঁর মায়ের সঙ্গে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, আজ সোমবার উখিয়া ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির মা-সহ সকলের জামিন হয়েছে।
অর্থাৎ, কক্সবাজারের উখিয়ায় অপরাধী পিতাকে পুলিশ ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর ৫ বছরের শিশুকে আটক করেছে- এই দাবিটি সত্য নয়।
তথ্যসূত্র
কক্সবাজার জেলা পুলিশ
ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক বণিক বার্তা
Topics:
Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট
রমনা পার্কে নিরাপত্তা মহড়ার দৃশ্যকে ‘আতঙ্কবাদীর হামলা’ দাবি করে অপপ্রচার
নরসিংদীতে মাদ্রাসা ছাত্র পিটুনির দৃশ্য দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের
ঘটনাস্থল ‘ভারত’ উল্লেখ না করে গণমাধ্যমের শিরোনাম, বিদেশি ঘটনাকে পাঠক মনে করছে বাংলাদেশের
ভারতীয় নারীর মৃত্যুর ছবি দিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দাবি করে অপপ্রচার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের নিয়ে বদিউল আলম মজুমদারের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
ফ্যাক্ট চেক
উখিয়ায় ৫ বছরের শিশুকে আটক করা হয়নি, আত্মীয়-স্বজন হেফাজতে না নেওয়ায় মায়ের সঙ্গে আদালতে নেওয়া হয়
১৩ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় অপরাধী পিতাকে পুলিশ ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর ৫ বছরের শিশুকে আটক করেছে- এমন দাবি করে একটি একটি তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে।
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, এই দাবিটি সঠিক নয়। আত্মীয়-স্বজন শিশুটিকে হেফাজতে নিতে আগ্রহী না হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে মায়ের সঙ্গে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
অনুসন্ধানে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এই বিষয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে জানা যায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে উখিয়া থানা পুলিশ উখিয়া থানাধীন ৪নং রাজাপালং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ কাশিয়ারবিল এলাকায় ৪ মাসের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী মিজানুর রহমান (৩৯), পিতা- জাফর আলমকে গ্রেফতার করে নিয়মানুযায়ী হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আনতে গেলে আসামীর পরিবারের লোকজনসহ তাদের আত্মীয়স্বজন লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশকে বাধা প্রদান করে এবং পোশাক পরিহিত পুলিশের উপর আক্রমণ করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মিজানুর রহমানকে পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় ৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। উক্ত বিষয়ে আসামীরে বিরদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়। ১নং আসামী ফারজানা হাকিম এর সাথে ৫ বছরের কন্যা সন্তান থাকায় আত্মীয়-স্বজনকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য উখিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কোন আত্মীয়-স্বজন শিশুটিকে হেফাজতে নিতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য মায়ের সাথে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
উক্ত পোস্টে কক্সবাজার জেলা পুলিশ আরও জানায়, কন্যা শিশুটির নামে উখিয়া থানায় কোন মামলা হয়নি এবং তাকে গ্রেফতারও করা হয় নাই।
এই বিষয়ে দৈনিক বণিক বার্তার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ছৈয়দ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুলিশ একটি মামলায় শিশুটির মাকে আটক করতে গিয়েছিল। পরে পুলিশ শিশুটির আত্মীয়র কাছে শিশুটিকে হেফাজতে রেখে যেতে চান। তবে সেই সময় তাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন শিশুটিকে নিতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য তাঁর মায়ের সঙ্গে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, আজ সোমবার উখিয়া ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির মা-সহ সকলের জামিন হয়েছে।
অর্থাৎ, কক্সবাজারের উখিয়ায় অপরাধী পিতাকে পুলিশ ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর ৫ বছরের শিশুকে আটক করেছে- এই দাবিটি সত্য নয়।
তথ্যসূত্র
কক্সবাজার জেলা পুলিশ
ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক বণিক বার্তা