| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়
হাটহাজারীতে বৈদুতিক গোলযোগজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘বাংলাদেশে হিন্দু নিধন’ দাবি করে অপপ্রচার
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘বাংলাদেশে হিন্দু-বিরোধী সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ চলছে’ দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়েছে।
Hindu Voice (@HinduVoice_in) নামক একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “Anti-Hindu #Pogrom is going on in #Bangladesh. In #Hathazari of #Chattragram district, unidentified miscreants put fire on Hindu homes. 6 homes of the Hindu minorities were completely turned into ashes.” অর্থাৎ, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
‘তথ্য কেন্দ্র’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।বাংলাদেশে হিন্দু-বিরোধী সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ চলছে। হিন্দু সংখ্যালঘুদের ৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর সোমপাড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং ভিডিওতে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এই ঘটনার সাথে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্পৃক্ততা নেই।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে চট্টগ্রামের ‘Cplustv’ টিভি’র ফেসবুক পেজে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রচারিত একটি লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে একজন ভুক্তভোগীকে বলতে দেখা যায়, সাড়ে ১০টার সময় মির্জাপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোমপাড়া এলাকায় তাঁর ভাড়া বাসাটি পুড়ে যায়। তিনি জানান, বৈদ্যুতিক মিটার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি আরও জানান, তিনি প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে ভাড়া বাসায় থাকেন।
ভিডিওটিতে আরেকজন ভুক্তভোগীকে বলতে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক মিটারের গোড়া থেকে আগুন লেগে ১০ মিনিটের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একসাথে ৬টি ঘর পুড়ে যায়।
ঘটনাটির বিষয়ে প্রকাশিত দেশ রূপান্তরের ওয়েবসাইটে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ওই বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
জাগোনিউজ২৪ ‘হাটহাজারীতে এক ঘণ্টার আগুনে পুড়ল ৬ ঘর, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরের আগে হঠাৎ একটি বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জাহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাফ্যাক্টকে হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট দিয়ে জানান, “১৬/০৯/২০২৬ ইং সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকায় হাটহাজারী থানাধীন মির্জাপুর গনি হসপিটাল সংলগ্ন মির্জাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিন পশ্চিমে সোমপাড়া এলাকার জনৈক গোবিন্দ এর বসতঘর এর ভাড়াটিয়া ১। মিলন দে, ২। জীবন দে, ৩। তপু দাস, ৪। খোকন মজুমদার, ৫। মিলন নাথ'দের ভাড়া বসতঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুন লেগে ঘরগুলো এবং ঘরে থাকা মালামাল পুড়ে যায়।”
অর্থাৎ, চট্টগ্রারেমর হাটহাজারীতে বৈদ্যুতিক গোলযোগজনিত অগ্নিকাণ্ডকে ‘ বাংলাদেশে হিন্দু নিধন’ দাবি করে প্রচার, যা মিথ্যা।
Topics:
মুসলিম নারীর ওপর হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবি করে প্রচার
হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে তার বাবার সামনে ধর্ষণের দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
শ্রীপুরের হারিন্দি গ্রামে হিন্দু নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিটি মিথ্যা
পাহাড়ে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভুল তথ্য জুড়ে প্রচার
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ইসলামপন্থীদের হামলার দাবিটি মিথ্যা;
ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের আসামের
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জের আন্না রানী দাসের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সংশ্লিষ্টতা নেই
বসার জায়গা না পেয়ে কনসার্টে হামলা, ভারতীয় গণমাধ্যম বললো ‘ইসলামিস্টদের মব অ্যাটাক’
পাহাড়ে মুসলিমদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ভিডিওকে ভুল তথ্য জুড়ে প্রচার
ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে নিহতকে সাম্প্রদায়িক শিকার বলে প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
হাটহাজারীতে বৈদুতিক গোলযোগজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘বাংলাদেশে হিন্দু নিধন’ দাবি করে অপপ্রচার
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘বাংলাদেশে হিন্দু-বিরোধী সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ চলছে’ দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়েছে।
Hindu Voice (@HinduVoice_in) নামক একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “Anti-Hindu #Pogrom is going on in #Bangladesh. In #Hathazari of #Chattragram district, unidentified miscreants put fire on Hindu homes. 6 homes of the Hindu minorities were completely turned into ashes.” অর্থাৎ, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
‘তথ্য কেন্দ্র’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।বাংলাদেশে হিন্দু-বিরোধী সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ চলছে। হিন্দু সংখ্যালঘুদের ৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর সোমপাড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং ভিডিওতে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এই ঘটনার সাথে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্পৃক্ততা নেই।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে চট্টগ্রামের ‘Cplustv’ টিভি’র ফেসবুক পেজে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রচারিত একটি লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে একজন ভুক্তভোগীকে বলতে দেখা যায়, সাড়ে ১০টার সময় মির্জাপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোমপাড়া এলাকায় তাঁর ভাড়া বাসাটি পুড়ে যায়। তিনি জানান, বৈদ্যুতিক মিটার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি আরও জানান, তিনি প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে ভাড়া বাসায় থাকেন।
ভিডিওটিতে আরেকজন ভুক্তভোগীকে বলতে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক মিটারের গোড়া থেকে আগুন লেগে ১০ মিনিটের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একসাথে ৬টি ঘর পুড়ে যায়।
ঘটনাটির বিষয়ে প্রকাশিত দেশ রূপান্তরের ওয়েবসাইটে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ওই বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
জাগোনিউজ২৪ ‘হাটহাজারীতে এক ঘণ্টার আগুনে পুড়ল ৬ ঘর, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরের আগে হঠাৎ একটি বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জাহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাফ্যাক্টকে হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট দিয়ে জানান, “১৬/০৯/২০২৬ ইং সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকায় হাটহাজারী থানাধীন মির্জাপুর গনি হসপিটাল সংলগ্ন মির্জাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিন পশ্চিমে সোমপাড়া এলাকার জনৈক গোবিন্দ এর বসতঘর এর ভাড়াটিয়া ১। মিলন দে, ২। জীবন দে, ৩। তপু দাস, ৪। খোকন মজুমদার, ৫। মিলন নাথ'দের ভাড়া বসতঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুন লেগে ঘরগুলো এবং ঘরে থাকা মালামাল পুড়ে যায়।”
অর্থাৎ, চট্টগ্রারেমর হাটহাজারীতে বৈদ্যুতিক গোলযোগজনিত অগ্নিকাণ্ডকে ‘ বাংলাদেশে হিন্দু নিধন’ দাবি করে প্রচার, যা মিথ্যা।