| বিশ্লেষণ
ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার
৪ জানুয়ারী ২০২৬
সাম্প্রদায়িক কারণে নয়, বরং টাকা ছিনতাইয়ের পর চিনে ফেলায় কুপিয়ে আহত করা ও শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস নিহত হয়েছেন। নিহতের বাবার বরাতে এবং মামলার এজাহার সূত্রে হত্যাকাণ্ডের এই কারণ জানা গেছে। মৃত্যুর আগে খোকন চন্দ্র দাস নিজেও হামলাকারীদের নাম বলে যান।
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তিনি মারা যান। ভারতের একাধিক মিডিয়ায় ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দ্যা হিন্দু, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি মিডিয়ায় এ ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার যোগসূত্র টানা হয়।
১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা করেন। সেই মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, “...পায়ে হেঁটে বাড়ীতে যাওয়ার পথে একই তারিখ রাত ০৯.২০ ঘটিকার সময় ডামুড্যা থানাধীন তিলই বাসিন্দ মিটু মুন্নার বাড়ীর সামনে পৌছালে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা উল্লেখিত ১, ২, ৩ ও ৪ নং আসামীগণ ধারালো চাকু খোড়াসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে হাতে নিয়ে আমার ছেলের পথ আটকিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমার ছেলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করিলে আসামীরা তাদের হাতে থাকা চাকু/খোড়া দিয়ে আমার ছেলেকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করিয়া টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। আসামীদের এলোপাথারি ছুরিকাঘাতে আমার ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আসামীদেরকে চিনে ফেলায় আসামীরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ছেলের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বাংলাফ্যাক্টকে বলেন, "টাকা ছিনতাইয়ের জন্য হামলা হয়েছে। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় পরবর্তীতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।" তিনি প্রথম আলোকে জানান, “টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য এ হামলা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তদন্ত এসেছে। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে এসেছিল। হয়তো মোটরসাইকেল থেকে পেট্রল বের করে শরীরে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
কালের কণ্ঠের ডামুড্যা প্রতিনিধি মাহাদি হাসান বাংলাফ্যাক্টকে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা। ভিক্টিমের পরিবারও এটিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা বলেছে।”
মামলার এজহার, নিহতের বাবার বর্ণনা, পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী স্পষ্ট হয় যে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই খোকন চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং অপরাধমূলক ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড বলা যায়।
Topics:
অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
অন্তর্বর্তী সরকারকে “অবৈধ” বলে আখ্যা: আওয়ামীলীগের পেইজের লেখা যখন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে
বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব
বাংলাভিশনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে পাঠক মনে করছে দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব
‘দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের’ শিরোনামে একযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
গণশিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের খণ্ডাংশ নিয়ে কালের কণ্ঠের বিভ্রান্তিকর শিরোনাম
গণমাধ্যমের শিরোনামে বিভ্রান্তি, বিস্ফোরণের ঘটনাটি ভারতের
জান্নাতারা রুমীর মৃত্যু: ক্রমাগত সাইবার বুলিং ও হত্যা হুমকি পাচ্ছিলেন আওয়ামীপন্থী অ্যাকাউন্ট থেকে
ফিলিস্তিনিদের তুলনায় ইসরায়েলিদের মৃত্যুকে ৩৩ গুণ বেশি কাভারেজ দিয়েছে বিবিসি!
বিশ্লেষণ
ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার
৪ জানুয়ারী ২০২৬
সাম্প্রদায়িক কারণে নয়, বরং টাকা ছিনতাইয়ের পর চিনে ফেলায় কুপিয়ে আহত করা ও শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস নিহত হয়েছেন। নিহতের বাবার বরাতে এবং মামলার এজাহার সূত্রে হত্যাকাণ্ডের এই কারণ জানা গেছে। মৃত্যুর আগে খোকন চন্দ্র দাস নিজেও হামলাকারীদের নাম বলে যান।
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তিনি মারা যান। ভারতের একাধিক মিডিয়ায় ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দ্যা হিন্দু, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি মিডিয়ায় এ ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার যোগসূত্র টানা হয়।
১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা করেন। সেই মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, “...পায়ে হেঁটে বাড়ীতে যাওয়ার পথে একই তারিখ রাত ০৯.২০ ঘটিকার সময় ডামুড্যা থানাধীন তিলই বাসিন্দ মিটু মুন্নার বাড়ীর সামনে পৌছালে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা উল্লেখিত ১, ২, ৩ ও ৪ নং আসামীগণ ধারালো চাকু খোড়াসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে হাতে নিয়ে আমার ছেলের পথ আটকিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমার ছেলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করিলে আসামীরা তাদের হাতে থাকা চাকু/খোড়া দিয়ে আমার ছেলেকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করিয়া টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। আসামীদের এলোপাথারি ছুরিকাঘাতে আমার ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আসামীদেরকে চিনে ফেলায় আসামীরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ছেলের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বাংলাফ্যাক্টকে বলেন, "টাকা ছিনতাইয়ের জন্য হামলা হয়েছে। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় পরবর্তীতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।" তিনি প্রথম আলোকে জানান, “টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য এ হামলা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তদন্ত এসেছে। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে এসেছিল। হয়তো মোটরসাইকেল থেকে পেট্রল বের করে শরীরে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
কালের কণ্ঠের ডামুড্যা প্রতিনিধি মাহাদি হাসান বাংলাফ্যাক্টকে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা। ভিক্টিমের পরিবারও এটিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা বলেছে।”
মামলার এজহার, নিহতের বাবার বর্ণনা, পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী স্পষ্ট হয় যে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই খোকন চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং অপরাধমূলক ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড বলা যায়।