| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
সীমান্তে আরাকান আর্মিকে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়ার পুরোনো ভিডিও প্রচার করে বিজিবিকে নিয়ে অপপ্রচার
১ নভেম্বর ২০২৬
“হঠাৎ বিজিবির সামনে ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি!” – ক্যাপশনে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বিজিবির সামনে অস্ত্র হাতে ইউপিডিএফের উপস্থিতির ঘটনা নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আরাকান আর্মির একটি দল বাংলাদেশ- মায়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিজিবি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গমন করে। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যেতে বাধ্য করে।
ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর “বাংলাদেশের সীমানায় আরাকান আর্মি, বিজিবি'র বা-ধা” ক্যাপশনে ভিডিও প্রচার করে। ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবি করে ছড়ানোর ভিডিওর ঘটনার মিল রয়েছে। সেই সময় একই ক্যাপশনে ভিডিওটি জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজেও প্রচার হতে দেখা যায়। এসএটিভি’ও সেই সময় “বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা আরাকান আর্মির, বিজিবি'র বা-ধা” ক্যাপশনে ভিডিওটি প্রচার করে।
সম্প্রতি ভিডিওটি আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়লে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ঘটনাটির বিষয়ে আজ (১ নভেম্বর) একটি পোস্ট করে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়, “সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এক বছরেরও অধিককাল আগের একটি ভিডিও ‘হঠাৎ করেই বিজিবির মুখোমুখি ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও.....’ শিরোনামে পুনরায় প্রচার করে বিজিবির ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার বিজিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়।
ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী থানচির বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় সংঘটিত হয়। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনোভাবেই ইউপিডিএফের সদস্য ছিলেন না; তারা ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য। অথচ ঘটনাটিকে ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এবং বিজিবির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আংশিক ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে প্রচার করা হচ্ছে।
গত ০১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর নিকটবর্তী স্থানে আরাকান আর্মির একটি দল বাংলাদেশ- মায়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর অধিনায়কের নেতৃত্বে বংকুপাড়া বিওপি থেকে ৩৮ সদস্যের একটি বিজিবি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গমন করে। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যেতে বাধ্য করা হয়। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে বিজিবি তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাংলাদেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে।”
অর্থাৎ, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।
Topics:
শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার এই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের
অর্থ পাচার ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভীর নামে অপপ্রচার
সালমানের স্টুডিও ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার নামে বানোয়াট মন্তব্য প্রচার
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ফেনীতে বাইকে আগুন দেওয়ার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২১ সালের
পারিবারিক কলহের পুরোনো ঘটনাকে অপহরণ ও ধর্ষণ দাবি করে অপপ্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
ফ্যাক্ট চেক
সীমান্তে আরাকান আর্মিকে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়ার পুরোনো ভিডিও প্রচার করে বিজিবিকে নিয়ে অপপ্রচার
১ নভেম্বর ২০২৬
“হঠাৎ বিজিবির সামনে ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি!” – ক্যাপশনে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বিজিবির সামনে অস্ত্র হাতে ইউপিডিএফের উপস্থিতির ঘটনা নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আরাকান আর্মির একটি দল বাংলাদেশ- মায়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিজিবি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গমন করে। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যেতে বাধ্য করে।
ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর “বাংলাদেশের সীমানায় আরাকান আর্মি, বিজিবি'র বা-ধা” ক্যাপশনে ভিডিও প্রচার করে। ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবি করে ছড়ানোর ভিডিওর ঘটনার মিল রয়েছে। সেই সময় একই ক্যাপশনে ভিডিওটি জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজেও প্রচার হতে দেখা যায়। এসএটিভি’ও সেই সময় “বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা আরাকান আর্মির, বিজিবি'র বা-ধা” ক্যাপশনে ভিডিওটি প্রচার করে।
সম্প্রতি ভিডিওটি আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়লে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ঘটনাটির বিষয়ে আজ (১ নভেম্বর) একটি পোস্ট করে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়, “সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এক বছরেরও অধিককাল আগের একটি ভিডিও ‘হঠাৎ করেই বিজিবির মুখোমুখি ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও.....’ শিরোনামে পুনরায় প্রচার করে বিজিবির ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার বিজিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়।
ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী থানচির বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় সংঘটিত হয়। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনোভাবেই ইউপিডিএফের সদস্য ছিলেন না; তারা ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য। অথচ ঘটনাটিকে ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এবং বিজিবির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আংশিক ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে প্রচার করা হচ্ছে।
গত ০১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর নিকটবর্তী স্থানে আরাকান আর্মির একটি দল বাংলাদেশ- মায়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর অধিনায়কের নেতৃত্বে বংকুপাড়া বিওপি থেকে ৩৮ সদস্যের একটি বিজিবি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গমন করে। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যেতে বাধ্য করা হয়। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে বিজিবি তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাংলাদেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে।”
অর্থাৎ, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।