| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি

নারী নির্যাতন
লেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয়

১৭ জুন ২০২৬


নারী নির্যাতনলেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয়
মিথ্যা

পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শরীয়তপুরে খুটিতে বেঁধে এক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে – এমন দাবি করে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। 


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার কারণে এই নারীকে মারধরের দাবিটি মিথ্যা। বরং, ধারের টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত কারণে এই নারী মারধরের শিকার হন।  


এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে গত ১৩ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন ধারের টাকা পরিশোধের জেরে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। 


একই বিষয়ে দৈনিক প্রথম আলোতে গত ১৪ জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রী (৩৭) সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। ওই এলাকার দেলোয়ার কোটারির পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিরোধ শুরু হলে শনিবার (১৩ জুন) সকালে দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী ও মেয়ে ওই নারীকে স্থানীয় একটি মার্কেটের কাছে আটক করেন। স্থানীয় কয়েকজন নারীকে নিয়ে তাঁরা ওই গৃহবধূকে মারধর করে মাথার চুল কেটে মুখে কালি মেখে দেন। এরপর জুতার মালা গলায় পরিয়ে তাঁকে একটির সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।


মারধরের শিকার নারী গণমাধ্যমটিকে জানান, দেলোয়ার কোটারির সঙ্গে তাঁর টাকাপয়সার লেনদেন ছিল এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে দেলোয়ার তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। টাকা চাইলে দেলোয়ার টালবাহানা করতেন। এক সপ্তাহ আগে তিনি টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেন এবং পরে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় যান। ঢাকা থেকে ফিরে এলে দেলোয়ারের স্ত্রী ও মেয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে মারধর করেন। তাঁরা তাঁর মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মেখে এবং তাঁকে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান।


পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা পাওনা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এর জের ধরে কয়েকজন নারী মিলে তাঁকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে ঘটনা জানালে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। ওই নারী কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে চাইলে পুলিশ সহায়তা করবে। 


দেশ রূপান্তর, বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরসহ একাধিক গণমাধ্যম থেকেও একই তথ্য জানা যায়। তবে ভুক্তভোগী নারীর পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল কিংবা চুরি করেছিল – এমন তথ্যের সত্যতা এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 


 অর্থাৎ, পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে শরীয়তপুরে এক নারীকে খুটিতে বেঁধে মারধর করা হয়েছে – এমন দাবি মিথ্যা।





Topics:

Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট

হাসিনা-পুতিনের বৈঠকের ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৩ সালের
বিভ্রান্তিকর
৫ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনা-পুতিনের বৈঠকের ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৩ সালের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ে ছাত্রদের প্রবেশের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৫ সালের
মিথ্যা
৫ অক্টোবর ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ে ছাত্রদের প্রবেশের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৫ সালের


‘বিশ্বব্যাপী যখন বোয়িংয়ের সঙ্কট শুরু হবে, তখন সুযোগ বুঝে আমরা এগুলোকে বেশি দামে বিক্রি করে দেব’ বলে মন্তব্য করেননিরুহুল কবির রিজভী
মিথ্যা
৫ অক্টোবর ২০২৬

‘বিশ্বব্যাপী যখন বোয়িংয়ের সঙ্কট শুরু হবে, তখন সুযোগ বুঝে আমরা এগুলোকে বেশি দামে বিক্রি করে দেব’ বলে মন্তব্য করেননিরুহুল কবির রিজভী


দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার ভিডিওটি ২০১৯ সালের
বিভ্রান্তিকর
৪ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার ভিডিওটি ২০১৯ সালের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবিটি আসল
সত্য
৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবিটি আসল

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



নারী নির্যাতনলেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয়

ফ্যাক্ট চেক

নারী নির্যাতন
লেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয়

১৭ জুন ২০২৬

<p>নারী নির্যাতন<br />লেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয় 
<br /></p>

পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শরীয়তপুরে খুটিতে বেঁধে এক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে – এমন দাবি করে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। 


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার কারণে এই নারীকে মারধরের দাবিটি মিথ্যা। বরং, ধারের টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত কারণে এই নারী মারধরের শিকার হন।  


এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে গত ১৩ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন ধারের টাকা পরিশোধের জেরে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। 


একই বিষয়ে দৈনিক প্রথম আলোতে গত ১৪ জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রী (৩৭) সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। ওই এলাকার দেলোয়ার কোটারির পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিরোধ শুরু হলে শনিবার (১৩ জুন) সকালে দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী ও মেয়ে ওই নারীকে স্থানীয় একটি মার্কেটের কাছে আটক করেন। স্থানীয় কয়েকজন নারীকে নিয়ে তাঁরা ওই গৃহবধূকে মারধর করে মাথার চুল কেটে মুখে কালি মেখে দেন। এরপর জুতার মালা গলায় পরিয়ে তাঁকে একটির সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।


মারধরের শিকার নারী গণমাধ্যমটিকে জানান, দেলোয়ার কোটারির সঙ্গে তাঁর টাকাপয়সার লেনদেন ছিল এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে দেলোয়ার তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। টাকা চাইলে দেলোয়ার টালবাহানা করতেন। এক সপ্তাহ আগে তিনি টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেন এবং পরে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় যান। ঢাকা থেকে ফিরে এলে দেলোয়ারের স্ত্রী ও মেয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে মারধর করেন। তাঁরা তাঁর মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মেখে এবং তাঁকে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান।


পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা পাওনা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এর জের ধরে কয়েকজন নারী মিলে তাঁকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে ঘটনা জানালে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। ওই নারী কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে চাইলে পুলিশ সহায়তা করবে। 


দেশ রূপান্তর, বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরসহ একাধিক গণমাধ্যম থেকেও একই তথ্য জানা যায়। তবে ভুক্তভোগী নারীর পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল কিংবা চুরি করেছিল – এমন তথ্যের সত্যতা এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 


 অর্থাৎ, পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে শরীয়তপুরে এক নারীকে খুটিতে বেঁধে মারধর করা হয়েছে – এমন দাবি মিথ্যা।