| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়
টাকা ও চুল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে দেখাল ভারতীয় গণমাধ্যম
১ নভেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি নামে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনাকে “সংখ্যালঘু নির্যাতন” আখ্যা দিয়ে একটি পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আসাম ট্রিবিউনের প্রতিবেদনেও হত্যাকাণ্ডটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ধারাবাহিক হিন্দু নির্যাতনের অংশ হিসেবে ফ্রেম করা হয়েছে।
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ময়মনসিংহের ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি নিহতের ঘটনায় ধর্মীয় কিংবা সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় নেই। বরঞ্চ সেলুনে চুল কাটিয়ে টাকা না দেওয়া সংক্রান্ত আর্থিক কারণে মারধরের শিকার হয়ে তিনি নিহত হন।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহের ভালুকায় সাদ্দাম হোসেনের হামলায় সেলুনমালিক রবীন্দ্র ঋষি নিহত হয়েছেন। এ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গণমাধ্যমটিকে নিহত রবীন্দ্রর স্ত্রী সুচিত্রা রানী ঋষি বলেন, প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে নেশার জন্য টাকা নিতেন সাদ্দাম। সেলুনে চুল কাটিয়েও টাকা দিতেন না। টাকা না দেওয়া এবং চুল কেটে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে সাদ্দাম রবীন্দ্রকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানান সুচিত্রা।
ভালুকা মডেল থানার পুলিশের বরাতে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত ও সাদ্দামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, প্রায় তিন মাস আগে চুল কাটার টাকা নিয়ে নিহত ব্যক্তি ও আসামির মধ্যে বিরোধ হয়েছিল বলে জানা গেছে। সাদ্দাম রবীন্দ্রর স্ত্রীকে ধর্মের বোন বানানোর আগে থেকেই তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং তাঁদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কের মতো ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিছুদিন আগে সাদ্দাম হাতখরচের কথা বলে রবীন্দ্রর কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় সাদ্দামের বাবার কাছে বিচার দেন রবীন্দ্র। এর মধ্যে পূজার সময় ওই সেলুনে তিনি চুল কাটাতে গেলে রবীন্দ্র তাঁর চুল কাটতে রাজি হননি। এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন সাদ্দাম। এসবের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক আজকের পত্রিকাসহ একাধিক প্রতিবেদনে একই তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব প্রতিবেদনে এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সংঘাতের তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ময়মনসিংহের ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি নামে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে ধর্মীয় কারণে হত্যার দাবিটি মিথ্যা।
Topics:
বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরে নিহতের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হত্যা বলে প্রচার
গণেশ পূজার মণ্ডপে ভাঙচুরের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো
কিশোরীর স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়ার ঘটনাকে 'পুজা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ' বলে প্রচার
মাদক ব্যবসার অভিযোগে মুসলিম ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও, ছড়ানো হচ্ছে সনাতনীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের দাবিতে
কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে হামলার পুরোনো দৃশ্যকে হিন্দুদের মন্দির ভাঙ্গার দৃশ্য বলে প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
হাটহাজারীতে বৈদুতিক গোলযোগজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘বাংলাদেশে হিন্দু নিধন’ দাবি করে অপপ্রচার
পটুয়াখালী অগ্নিকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে অপপ্রচার
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে অগ্নিসংযোগের ছবিটি ২০২২ সালের
মাদক ব্যবসার অভিযোগে মুসলিম ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও, ছড়ানো হচ্ছে সনাতনীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের দাবিতে
ফ্যাক্ট চেক
টাকা ও চুল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে দেখাল ভারতীয় গণমাধ্যম
১ নভেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি নামে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনাকে “সংখ্যালঘু নির্যাতন” আখ্যা দিয়ে একটি পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আসাম ট্রিবিউনের প্রতিবেদনেও হত্যাকাণ্ডটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ধারাবাহিক হিন্দু নির্যাতনের অংশ হিসেবে ফ্রেম করা হয়েছে।
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ময়মনসিংহের ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি নিহতের ঘটনায় ধর্মীয় কিংবা সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় নেই। বরঞ্চ সেলুনে চুল কাটিয়ে টাকা না দেওয়া সংক্রান্ত আর্থিক কারণে মারধরের শিকার হয়ে তিনি নিহত হন।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহের ভালুকায় সাদ্দাম হোসেনের হামলায় সেলুনমালিক রবীন্দ্র ঋষি নিহত হয়েছেন। এ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গণমাধ্যমটিকে নিহত রবীন্দ্রর স্ত্রী সুচিত্রা রানী ঋষি বলেন, প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে নেশার জন্য টাকা নিতেন সাদ্দাম। সেলুনে চুল কাটিয়েও টাকা দিতেন না। টাকা না দেওয়া এবং চুল কেটে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে সাদ্দাম রবীন্দ্রকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানান সুচিত্রা।
ভালুকা মডেল থানার পুলিশের বরাতে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত ও সাদ্দামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, প্রায় তিন মাস আগে চুল কাটার টাকা নিয়ে নিহত ব্যক্তি ও আসামির মধ্যে বিরোধ হয়েছিল বলে জানা গেছে। সাদ্দাম রবীন্দ্রর স্ত্রীকে ধর্মের বোন বানানোর আগে থেকেই তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং তাঁদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কের মতো ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিছুদিন আগে সাদ্দাম হাতখরচের কথা বলে রবীন্দ্রর কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় সাদ্দামের বাবার কাছে বিচার দেন রবীন্দ্র। এর মধ্যে পূজার সময় ওই সেলুনে তিনি চুল কাটাতে গেলে রবীন্দ্র তাঁর চুল কাটতে রাজি হননি। এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন সাদ্দাম। এসবের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক আজকের পত্রিকাসহ একাধিক প্রতিবেদনে একই তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব প্রতিবেদনে এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সংঘাতের তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ময়মনসিংহের ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি নামে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে ধর্মীয় কারণে হত্যার দাবিটি মিথ্যা।