| ফ্যাক্ট চেক | ফ্যাক্ট স্টোরি

মন্ত্রীদের নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়ানো কিছু অপতথ্য

১৫ মার্চ ২০২৬


মন্ত্রীদের নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়ানো কিছু অপতথ্য

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্ল্যার্টফর্মে সরকারে থাকা মন্ত্রীদের নিয়ে নিয়মিতভাবে অপতথ্য প্রচার হতে দেখেছে বাংলাফ্যাক্ট। এই ধরনের অপতথ্য প্রচারের নির্দিষ্ট কৌশল খেয়াল করা যায়। সাধারণত বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া বা বিকৃত ফটোকার্ড, এআই-সৃষ্ট ছবি বা ভিডিও  দিয়ে এই মন্তব্যগুলো প্রচার করা হয়। এই ধরনের ফটোকার্ড বা এআই-সৃষ্ট কনটেন্ট দ্রুত জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে।  


বিগত কয়েকদনে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু অপতথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন করা হয়েছে। এর বাইরেও আরও অপতথ্য প্রচার হয়ে থাকতে পারে। আবার, এই ছবি, ভিডিও ও ফটোকার্ডগুলোও একের অধিক জায়গা থেকে প্রচারিত হয়েছে।  


‘দেশের এই খারাপ সময়ে নতুন করে দেশ সংস্কারে শেখ হাসিনাকে দরকার’


সম্প্রতি, ‘দেশের এই খারাপ সময়ে, নতুন করে দেশ সংস্কারে শেখ হাসিনাকে দরকার’- এমন মন্তব্য বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করেছেন দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। নেটিজেনরাও বিভ্রান্ত হয়েছেন এমন ভিডিও দেখে।




তবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন কোনো মন্তব্য করেননি। মূলত, এই ভিডিও বক্তব্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


প্রধানমন্ত্রীর অফিসের দেয়ালে শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিযুক্ত ছবি


এছাড়া, ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অফিস করছেন এবং তাঁর ঠিক পেছনের দেয়ালে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি টাঙানো রয়েছে। এমন ছবি দেখে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অস্বভাবিক নয়।





তবে , প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ছবিটিও আসল নয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ দেন তিনি। মূলত সেই ভিডিওর একটি স্থিরচিত্র সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি যুক্ত করে এই বিভ্রান্তিকর ছবিটি প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘বাংলাদেশে মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাধ্যমূলক করতে চাই’


তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে ‘বাংলাদেশে মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাধ্যমূলক করতে চাই’ শিরোনামের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করতে দেখা যায়। বিষয়টিকে সত্য মনেকরে এসব পোস্টের কমেন্টে অধিকাংশ ব্যবহারকারীকে প্রধানমন্ত্রীকে বাহবা দিতে দেখা যায়।






তবে, তারেক রহমান এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে Janina Television নামের একটি ব্যাঙ্গাত্মক পেজের কনটেন্টকে আসল ভেবে প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘দ্রুতই আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম সচল করা হবে’


এছাড়াও, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করে ‘দ্রুতই আওয়ামিলীগের সকল কার্যক্রম সচল করা হবে’ (বানান অপরিবর্তিত) শিরোনামের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন কিনা। এসব পোস্টের কমেন্টে অনেককেই বিষয়টি বিশ্বাস করতে দেখা যায়।






তবে, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, ‘আশার আলো’ নামের একটি ব্যাঙ্গাত্মক পেজের কনটেন্টকে আসল ভেবে প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘চাঁদাবাজী বন্ধ করা সংবিধানে নাই’ 


এসব অপতথ্যের হাত থেকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও রক্ষা পাননি। সম্প্রতি তাকে নিয়েও একাধিক অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে। ‘চাঁদাবাজী বন্ধ করা সংবিধানে নাই’- তিনি এমন মন্তব্য করেছেন দাবি করে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বিডিক্রিকটাইমের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে।





তবে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং বিডিক্রিকটাইমও আলোচিত তথ্যে কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। আসলে বিডিক্রিকটাইমের ভিন্ন একটি ফটোকার্ডের শিরোনাম বিকৃত করে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’


আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে নিয়ে জুলাই ও সংবিধানকে জড়িয়েও অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি, তাকে উদ্ধৃত করে ‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’ শিরোনামে ‘Chattala songbad-চট্টলা সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে তাঁর ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।




তবে, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। বরং, কোনো প্রকার তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে আলোচিত মন্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘৫ আগষ্ট সহ সকল মবের মামলা করতে পারবে’


গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভি সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে ‘দেশে মব কালচারের দিন শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করেছিল। এই শিরোনামকে বিকৃত করে ইন্টারনেটে নাগরিক টিভির লোগো ও ডিজাইন সংবলিত আরেকটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে বলা হয়, ‘৫ আগষ্ট সহ সকল মবের মামলা করতে পারবে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।






এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


পর্যালোচনায় দেখা যায়, মন্ত্রীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো আলোচিত দাবিগুলোর কোনোটির পক্ষেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূলধারার গণমাধ্যমের আদলে তৈরি জাল ফটোকার্ড, বিকৃত শিরোনাম, এআই ছবি বা ভিডিও অথবা স্যাটায়ার পেজের কনটেন্টকে আসল বলে প্রচার করা হয়েছে। নির্বাচনপরবর্তী সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। 


তাই তথ্য যাচাই ছাড়া এমন কোনো দাবি বিশ্বাস বা শেয়ার না করার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।





Topics:



আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

0%

100%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!

| আরও পড়ুন



মন্ত্রীদের নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়ানো কিছু অপতথ্য

ফ্যাক্ট চেক

মন্ত্রীদের নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়ানো কিছু অপতথ্য

১৫ মার্চ ২০২৬

<p><span style="font-size: 24px;">মন্ত্রীদের নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়ানো কিছু অপতথ্য</span><br /></p>

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্ল্যার্টফর্মে সরকারে থাকা মন্ত্রীদের নিয়ে নিয়মিতভাবে অপতথ্য প্রচার হতে দেখেছে বাংলাফ্যাক্ট। এই ধরনের অপতথ্য প্রচারের নির্দিষ্ট কৌশল খেয়াল করা যায়। সাধারণত বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া বা বিকৃত ফটোকার্ড, এআই-সৃষ্ট ছবি বা ভিডিও  দিয়ে এই মন্তব্যগুলো প্রচার করা হয়। এই ধরনের ফটোকার্ড বা এআই-সৃষ্ট কনটেন্ট দ্রুত জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে।  


বিগত কয়েকদনে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু অপতথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন করা হয়েছে। এর বাইরেও আরও অপতথ্য প্রচার হয়ে থাকতে পারে। আবার, এই ছবি, ভিডিও ও ফটোকার্ডগুলোও একের অধিক জায়গা থেকে প্রচারিত হয়েছে।  


‘দেশের এই খারাপ সময়ে নতুন করে দেশ সংস্কারে শেখ হাসিনাকে দরকার’


সম্প্রতি, ‘দেশের এই খারাপ সময়ে, নতুন করে দেশ সংস্কারে শেখ হাসিনাকে দরকার’- এমন মন্তব্য বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করেছেন দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। নেটিজেনরাও বিভ্রান্ত হয়েছেন এমন ভিডিও দেখে।




তবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন কোনো মন্তব্য করেননি। মূলত, এই ভিডিও বক্তব্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


প্রধানমন্ত্রীর অফিসের দেয়ালে শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিযুক্ত ছবি


এছাড়া, ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অফিস করছেন এবং তাঁর ঠিক পেছনের দেয়ালে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি টাঙানো রয়েছে। এমন ছবি দেখে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অস্বভাবিক নয়।





তবে , প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ছবিটিও আসল নয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ দেন তিনি। মূলত সেই ভিডিওর একটি স্থিরচিত্র সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি যুক্ত করে এই বিভ্রান্তিকর ছবিটি প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘বাংলাদেশে মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাধ্যমূলক করতে চাই’


তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে ‘বাংলাদেশে মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাধ্যমূলক করতে চাই’ শিরোনামের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করতে দেখা যায়। বিষয়টিকে সত্য মনেকরে এসব পোস্টের কমেন্টে অধিকাংশ ব্যবহারকারীকে প্রধানমন্ত্রীকে বাহবা দিতে দেখা যায়।






তবে, তারেক রহমান এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে Janina Television নামের একটি ব্যাঙ্গাত্মক পেজের কনটেন্টকে আসল ভেবে প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘দ্রুতই আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম সচল করা হবে’


এছাড়াও, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করে ‘দ্রুতই আওয়ামিলীগের সকল কার্যক্রম সচল করা হবে’ (বানান অপরিবর্তিত) শিরোনামের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন কিনা। এসব পোস্টের কমেন্টে অনেককেই বিষয়টি বিশ্বাস করতে দেখা যায়।






তবে, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, ‘আশার আলো’ নামের একটি ব্যাঙ্গাত্মক পেজের কনটেন্টকে আসল ভেবে প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘চাঁদাবাজী বন্ধ করা সংবিধানে নাই’ 


এসব অপতথ্যের হাত থেকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও রক্ষা পাননি। সম্প্রতি তাকে নিয়েও একাধিক অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে। ‘চাঁদাবাজী বন্ধ করা সংবিধানে নাই’- তিনি এমন মন্তব্য করেছেন দাবি করে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বিডিক্রিকটাইমের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে।





তবে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং বিডিক্রিকটাইমও আলোচিত তথ্যে কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। আসলে বিডিক্রিকটাইমের ভিন্ন একটি ফটোকার্ডের শিরোনাম বিকৃত করে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’


আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে নিয়ে জুলাই ও সংবিধানকে জড়িয়েও অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি, তাকে উদ্ধৃত করে ‘জুলাই যোদ্ধা বলতে কিছু নেই, সংবিধান অনুযায়ী এটা অন্যায়’ শিরোনামে ‘Chattala songbad-চট্টলা সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে তাঁর ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।




তবে, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। বরং, কোনো প্রকার তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে আলোচিত মন্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


‘৫ আগষ্ট সহ সকল মবের মামলা করতে পারবে’


গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভি সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে ‘দেশে মব কালচারের দিন শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করেছিল। এই শিরোনামকে বিকৃত করে ইন্টারনেটে নাগরিক টিভির লোগো ও ডিজাইন সংবলিত আরেকটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে বলা হয়, ‘৫ আগষ্ট সহ সকল মবের মামলা করতে পারবে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।






এ বিষয়ে বাংলাফ্যাক্টের বিস্তারিত ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে


পর্যালোচনায় দেখা যায়, মন্ত্রীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো আলোচিত দাবিগুলোর কোনোটির পক্ষেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূলধারার গণমাধ্যমের আদলে তৈরি জাল ফটোকার্ড, বিকৃত শিরোনাম, এআই ছবি বা ভিডিও অথবা স্যাটায়ার পেজের কনটেন্টকে আসল বলে প্রচার করা হয়েছে। নির্বাচনপরবর্তী সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। 


তাই তথ্য যাচাই ছাড়া এমন কোনো দাবি বিশ্বাস বা শেয়ার না করার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।