| ফ্যাক্ট চেক | আন্তর্জাতিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নামাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে হিন্দুরা– এমন দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি বারাণসীর সম্প্রীতির দৃশ্য
৭ জুন ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা নামাজ আদায় করছেন কিন্তু নামাজের সময় উগ্রবাদী হিন্দুরা সেখানে পূজা পালনের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা করছেন - এমন দাবি করে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোনো ঘটনার নয়। এটি আসলে উত্তর প্রদেশের বারাণসীর লাট ভৈরব মন্দির চত্বরে ধারণ করা হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির দৃশ্য। ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে একই সঙ্গে নামাজ পড়ার ও রামলীলা অনুষ্ঠিত হওয়ার দৃশ্য এটি।
ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে সংবাদভিত্তিক এক্স অ্যাকাউন্ট ‘UP NEWS’-এ পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পোস্টে হিন্দি ক্যাপশন যুক্ত ছিল ‘वाराणसी में एक तरफ रामलीला तो दूसरी तरफ नमाज अदा है रही है यही है गंगा जमुनी तहजीब’। ক্যাপশন থেকে স্পষ্ট, এটি ভারতের বারাণসীতে একদিকে রামলীলা আর অন্যদিকে নামাজ আদায়ের দৃশ্য।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘আমার উজালা’ ওয়েবসাইটে একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়। ভারতের বিভিন্ন সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ও এক্স অ্যাকাউন্টের তথ্যে জানা যায়, উত্তর প্রদেশের বারাণসীর লাট ভৈরব মন্দির চত্বরে (চবুতরায়) প্রতি বছরই হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে অংশ নেন—একপাশে অনুষ্ঠিত হয় রামলীলার মঞ্চায়ন, আর অন্যপাশে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নামাজ আদায় করেন।
এছাড়াও, etvbharat, abplive -এ প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, ভারতের উত্তর প্রদেশের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির দৃশ্যকে পশ্চিমবেঙ্গ মুসলিমদের নামাজের সময় হিন্দুদের বিশৃঙ্খলার দৃশ্য দাবি করে ছড়ানো হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।
Topics:
ভারতের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের নাটিকাকে বাস্তব দাবি করে গণমাধ্যমে প্রচার
ট্রাম্পেট বাজিয়ে নামাজে বাধা দেওয়ার দাবি করে ছড়ানো
ভিডিওটি ভারতের নয়, চট্টগ্রামের রাউজানের
বিজেপি জয়ের পর কলকাতায় কবরস্থানে সমর্থকরা আগুন দেওয়ার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃতদেহ উদ্ধারের দৃশ্য দাবি করে ছড়ানো ছবিটি এআই সৃষ্ট
বৃদ্ধকে বিএনপি নেতার মারধরের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি নেপালের
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
মিয়ানমার থেকে রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরানো নিয়ে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার
হিজবুত তাহ্রীরের মিছিলের এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়
ট্রাম্পেট বাজিয়ে নামাজে বাধা দেওয়ার দাবি করে ছড়ানো
ভিডিওটি ভারতের নয়, চট্টগ্রামের রাউজানের
যমুনা টিভির এডিটেড ফটোকার্ডে প্রধান উপদেষ্টার ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার।
ফ্যাক্ট চেক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নামাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে হিন্দুরা– এমন দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি বারাণসীর সম্প্রীতির দৃশ্য
৭ জুন ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা নামাজ আদায় করছেন কিন্তু নামাজের সময় উগ্রবাদী হিন্দুরা সেখানে পূজা পালনের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা করছেন - এমন দাবি করে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোনো ঘটনার নয়। এটি আসলে উত্তর প্রদেশের বারাণসীর লাট ভৈরব মন্দির চত্বরে ধারণ করা হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির দৃশ্য। ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে একই সঙ্গে নামাজ পড়ার ও রামলীলা অনুষ্ঠিত হওয়ার দৃশ্য এটি।
ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে সংবাদভিত্তিক এক্স অ্যাকাউন্ট ‘UP NEWS’-এ পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পোস্টে হিন্দি ক্যাপশন যুক্ত ছিল ‘वाराणसी में एक तरफ रामलीला तो दूसरी तरफ नमाज अदा है रही है यही है गंगा जमुनी तहजीब’। ক্যাপশন থেকে স্পষ্ট, এটি ভারতের বারাণসীতে একদিকে রামলীলা আর অন্যদিকে নামাজ আদায়ের দৃশ্য।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘আমার উজালা’ ওয়েবসাইটে একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়। ভারতের বিভিন্ন সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ও এক্স অ্যাকাউন্টের তথ্যে জানা যায়, উত্তর প্রদেশের বারাণসীর লাট ভৈরব মন্দির চত্বরে (চবুতরায়) প্রতি বছরই হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে অংশ নেন—একপাশে অনুষ্ঠিত হয় রামলীলার মঞ্চায়ন, আর অন্যপাশে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নামাজ আদায় করেন।
এছাড়াও, etvbharat, abplive -এ প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, ভারতের উত্তর প্রদেশের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির দৃশ্যকে পশ্চিমবেঙ্গ মুসলিমদের নামাজের সময় হিন্দুদের বিশৃঙ্খলার দৃশ্য দাবি করে ছড়ানো হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।