| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নয়, ফ্যাসিস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে চলে যেতে বলেছিলেন আসিফ নজরুল
২০ আগস্ট ২০২৫
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ চেয়েছেন বলে দাবি করা একটি ভিডিও সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, আসিফ নজরুল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ চাননি। প্রকৃতপক্ষে, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বোরোবি) অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় সেই সময় অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পদত্যাগ চান। সেই ভিডিওটিই জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগের দাবি বলে ছড়িয়েছে।
আলোচিত ভিডিওটি থেকে কিছু স্থিরচিত্র নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিউজ টুয়েন্টিফোরের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় আসিফ নজরুল ওই দিন পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পদত্যাগ দাবি করেন।
আসিফ নজরুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমি শুধু ওই পুলিশ সদস্যের শাস্তি চাই না, আমি এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। ওনার যদি লজ্জা থাকে, ওনার মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকে, ওনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি এই ছিল? ১৯৭১ সনে উনি কী করেছে? অপরাধবোধ ঢাকার জন্য উনি অতিরিক্ত মুক্তিযোদ্ধা সাজার চেষ্টা করে। ওনার কাছে শুধু আমার একটাই প্রশ্ন—আপনি কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুঝেন? আপনি কি পড়াশোনা করেছেন? এরকম একটা দৃশ্যের পর কেন ওই ছেলেকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না, ওই পুলিশকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? আবু সাঈদকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা একটা ঠান্ডামাথার হত্যাকাণ্ড, এটা খুন। এটা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। আমাদের পুলিশের আইনে আছে আপনি ততটুক শক্তি প্রয়োগ করতে পারবেন, যেটুকু আপনাকে প্রতিরোধ আপনার প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজন। আবু সাঈদ কাউকে মারতে যায়নি, তার হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। সে জাস্ট দাঁড়িয়ে ছিল। এ অবস্থায় তাকে যেভাবে গুলি করে মারা হয়েছে, এটা একটা বর্বরোচিত ঘটনা। একটা দেশের বাহিনী একটা দেশের ছাত্রকে এভাবে গুলি করে মারে, আমাদের এটা দেখতে হয়েছে। আমি শুধু ওই পুলিশ সদস্যের শাস্তি চাই না, আমি এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।’
দৈনিক ইত্তেফাকে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
তাছাড়া, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ চাওয়ার দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় অধ্যাপক আসিফ নজরুল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পদত্যাগ চাওয়ার ভিডিও সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগের দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে; যা মিথ্যা।
Topics:
আওয়ামী লীগকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে মন্তব্য করেননি তারেক রহমান
চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ফটোকার্ড বিকৃত করে মির্জা আব্বাসকে জড়িয়ে ডিএমপি কমিশনারের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
আওয়ামী লীগ নেতার সন্তানকে বিএনপির কর্মীরা হত্যা করেনি, ভিডিওটি সাজানো
মির্জা আব্বাসের সঙ্গে হাদি হত্যার প্রধান আসামীর ছবিটি এআই-সৃষ্ট
মির্জা ফখরুল সম্প্রতি মিছিলের মধ্যে অসুস্থ হন নি, ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
ফ্যাক্ট চেক
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নয়, ফ্যাসিস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে চলে যেতে বলেছিলেন আসিফ নজরুল
২০ আগস্ট ২০২৫
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ চেয়েছেন বলে দাবি করা একটি ভিডিও সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, আসিফ নজরুল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ চাননি। প্রকৃতপক্ষে, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বোরোবি) অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় সেই সময় অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পদত্যাগ চান। সেই ভিডিওটিই জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগের দাবি বলে ছড়িয়েছে।
আলোচিত ভিডিওটি থেকে কিছু স্থিরচিত্র নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিউজ টুয়েন্টিফোরের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় আসিফ নজরুল ওই দিন পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পদত্যাগ দাবি করেন।
আসিফ নজরুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমি শুধু ওই পুলিশ সদস্যের শাস্তি চাই না, আমি এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। ওনার যদি লজ্জা থাকে, ওনার মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকে, ওনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি এই ছিল? ১৯৭১ সনে উনি কী করেছে? অপরাধবোধ ঢাকার জন্য উনি অতিরিক্ত মুক্তিযোদ্ধা সাজার চেষ্টা করে। ওনার কাছে শুধু আমার একটাই প্রশ্ন—আপনি কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুঝেন? আপনি কি পড়াশোনা করেছেন? এরকম একটা দৃশ্যের পর কেন ওই ছেলেকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না, ওই পুলিশকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? আবু সাঈদকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা একটা ঠান্ডামাথার হত্যাকাণ্ড, এটা খুন। এটা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। আমাদের পুলিশের আইনে আছে আপনি ততটুক শক্তি প্রয়োগ করতে পারবেন, যেটুকু আপনাকে প্রতিরোধ আপনার প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজন। আবু সাঈদ কাউকে মারতে যায়নি, তার হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। সে জাস্ট দাঁড়িয়ে ছিল। এ অবস্থায় তাকে যেভাবে গুলি করে মারা হয়েছে, এটা একটা বর্বরোচিত ঘটনা। একটা দেশের বাহিনী একটা দেশের ছাত্রকে এভাবে গুলি করে মারে, আমাদের এটা দেখতে হয়েছে। আমি শুধু ওই পুলিশ সদস্যের শাস্তি চাই না, আমি এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।’
দৈনিক ইত্তেফাকে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
তাছাড়া, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ চাওয়ার দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় অধ্যাপক আসিফ নজরুল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পদত্যাগ চাওয়ার ভিডিও সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগের দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে; যা মিথ্যা।