| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
রায় প্রত্যাখ্যান করে ১০০১ শিক্ষকের বিবৃতি
অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই বিবৃতিতে নাম ব্যবহারের অভিযোগ
১৮ নভেম্বর ২০২৫
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ‘বাহান্ন নিউজ’ নামে একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রত্যাখ্যান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ শিক্ষকের বিবৃতি’- এমন শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। এই নিউজে ৬৩১ জনের নাম উল্লেখ ছিল।
বিবৃতিতে নাম থাকা শিক্ষকদের অনেকেই বলেছেন, তাঁরা নাম অন্তর্ভূক্তির ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। তাদের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই নাম ব্যহার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাত ১১টার দিকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আজকের রায়কে কেন্দ্র করে কোথাও কোন বিবৃতিতে আমি স্বাক্ষর করিনি এবং এ বিষয়ে কারও সাথে আমার কোন ধরনের আলাপও হয়নি। বর্তমানে আমি দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে কারো সাথে আমার কোন ধরনের যোগাযোগও হয়নি। সারাদিন নিজের পড়াশোনা, অধ্যাপনা ও গবেষণার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। সন্ধ্যায় আমার কিছু প্রিয় শিক্ষার্থী বিষয়টি আমার নজরে এনেছে যা অত্যন্ত দু:খজনক। কাউকে এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না-হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমেদ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ এর দিকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে একটি রায় প্রত্যাখ্যান করে ১ হাজার অধ্যাপক স্বাক্ষর দিয়েছেন, যেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে আমার কোনো অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই এই বিবৃতিতে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিবৃতিটির বিষয়ে আমাকে আগে কোনোভাবে অবহিতও করা হয়নি। তাই উক্ত বিবৃতিতে আমার নাম অন্তর্ভুক্তকরণ সম্পূর্ণ অননুমোদিত। আমি এ ধরনের প্রচেষ্টাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ এর দিকে ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘নামের সাথে নাম মিলে যেতে পারে! ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে! মানবতাবিরোধী ঐতিহাসিক রায় নিয়ে কোন ধরণের বিবৃতির সাথে আমার কোন রকম সংশ্লিষ্টতা নেই!’
এ বিষয়ে জানার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছারকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ও তালিকার প্রথমে থাকা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামানকে ফোন দেওয়া হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নীলিমা আক্তার স্বাক্ষর করেছেন বলে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক লায়লা আঞ্জুমান বানুর সঙ্গে বাংলাফ্যাক্ট মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘আমি এই বিবৃতির বিষয়ে কিছুই জানিনা। কে বা কারা আমার নাম দিয়ে দিয়েছে। আমি নাম দিলে তো আমার সাক্ষর থাকত।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক উমর ফারুক জানান, ‘আমি এই বিবৃতির বিষয়ে অবগত না। আমি নাম দেইনি।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড. সুজন সেন জানান, ‘এই বিষয়ে আমি জানিই না। এতে আমি সংশ্লিষ্ট নই।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল কাইউম আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেলা ১১টার দিকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘আমার নাম নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কোন সুযোগ নাই। উল্লেখিত নামটি আমার নয়। কারন আমার কোনো অনুমতি বা সম্মতি নেই। আমি কোথাও কোন লেখা বা বিবৃতি দিলে আমার নাম, পদবী, বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে নিজের স্বাক্ষর দিয়ে পাঠাই। সবাইকে ধন্যবাদ।’
অর্থাৎ, এই বিবৃতিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই তাদের নাম ব্যবহার হয়েছে'।
Topics:
banglafact বাংলা ফ্যাক্ট
আওয়ামী লীগকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে মন্তব্য করেননি তারেক রহমান
চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ফটোকার্ড বিকৃত করে মির্জা আব্বাসকে জড়িয়ে ডিএমপি কমিশনারের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
আওয়ামী লীগ নেতার সন্তানকে বিএনপির কর্মীরা হত্যা করেনি, ভিডিওটি সাজানো
মির্জা আব্বাসের সঙ্গে হাদি হত্যার প্রধান আসামীর ছবিটি এআই-সৃষ্ট
মির্জা ফখরুল সম্প্রতি মিছিলের মধ্যে অসুস্থ হন নি, ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি পুরনো
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২২ সালে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের সংঘর্ষের
ভিডিওর অস্ত্রটি খেলনা; ব্যক্তি জঙ্গী নয়, শিক্ষক
সম্পাদিত ছবি দিয়ে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে প্রধান উপদেষ্টার নামে অপপ্রচার
ফ্যাক্ট চেক
রায় প্রত্যাখ্যান করে ১০০১ শিক্ষকের বিবৃতি
অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই বিবৃতিতে নাম ব্যবহারের অভিযোগ
১৮ নভেম্বর ২০২৫
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ‘বাহান্ন নিউজ’ নামে একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রত্যাখ্যান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ শিক্ষকের বিবৃতি’- এমন শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। এই নিউজে ৬৩১ জনের নাম উল্লেখ ছিল।
বিবৃতিতে নাম থাকা শিক্ষকদের অনেকেই বলেছেন, তাঁরা নাম অন্তর্ভূক্তির ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। তাদের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই নাম ব্যহার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাত ১১টার দিকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আজকের রায়কে কেন্দ্র করে কোথাও কোন বিবৃতিতে আমি স্বাক্ষর করিনি এবং এ বিষয়ে কারও সাথে আমার কোন ধরনের আলাপও হয়নি। বর্তমানে আমি দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে কারো সাথে আমার কোন ধরনের যোগাযোগও হয়নি। সারাদিন নিজের পড়াশোনা, অধ্যাপনা ও গবেষণার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। সন্ধ্যায় আমার কিছু প্রিয় শিক্ষার্থী বিষয়টি আমার নজরে এনেছে যা অত্যন্ত দু:খজনক। কাউকে এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না-হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমেদ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ এর দিকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে একটি রায় প্রত্যাখ্যান করে ১ হাজার অধ্যাপক স্বাক্ষর দিয়েছেন, যেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে আমার কোনো অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই এই বিবৃতিতে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিবৃতিটির বিষয়ে আমাকে আগে কোনোভাবে অবহিতও করা হয়নি। তাই উক্ত বিবৃতিতে আমার নাম অন্তর্ভুক্তকরণ সম্পূর্ণ অননুমোদিত। আমি এ ধরনের প্রচেষ্টাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ এর দিকে ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘নামের সাথে নাম মিলে যেতে পারে! ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে! মানবতাবিরোধী ঐতিহাসিক রায় নিয়ে কোন ধরণের বিবৃতির সাথে আমার কোন রকম সংশ্লিষ্টতা নেই!’
এ বিষয়ে জানার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছারকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ও তালিকার প্রথমে থাকা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামানকে ফোন দেওয়া হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নীলিমা আক্তার স্বাক্ষর করেছেন বলে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক লায়লা আঞ্জুমান বানুর সঙ্গে বাংলাফ্যাক্ট মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘আমি এই বিবৃতির বিষয়ে কিছুই জানিনা। কে বা কারা আমার নাম দিয়ে দিয়েছে। আমি নাম দিলে তো আমার সাক্ষর থাকত।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক উমর ফারুক জানান, ‘আমি এই বিবৃতির বিষয়ে অবগত না। আমি নাম দেইনি।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড. সুজন সেন জানান, ‘এই বিষয়ে আমি জানিই না। এতে আমি সংশ্লিষ্ট নই।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল কাইউম আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেলা ১১টার দিকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘আমার নাম নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কোন সুযোগ নাই। উল্লেখিত নামটি আমার নয়। কারন আমার কোনো অনুমতি বা সম্মতি নেই। আমি কোথাও কোন লেখা বা বিবৃতি দিলে আমার নাম, পদবী, বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে নিজের স্বাক্ষর দিয়ে পাঠাই। সবাইকে ধন্যবাদ।’
অর্থাৎ, এই বিবৃতিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই তাদের নাম ব্যবহার হয়েছে'।