| মিডিয়া লিটারেসি | সাংবাদিকতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।। সাংবাদিকতার গাইড।। পর্ব–০২
নির্বাচন–আইন কাঠামো ম্যাপ
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইন আছে—কিন্তু কোনটা কখন কাজে লাগবে?
নির্বাচনের রিপোর্টিংয়ে এটা সবচেয়ে কমন সমস্যা। একজন বলল “আইন ভেঙেছে”, আরেকজন বলল “ভুল বলছেন”—আপনি মাঝখানে। যদি আপনার কাছে একটা Law Map না থাকে, আপনি হয়তো ভুল নথি ধরবেন, বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মিস করবেন।
এই পর্বে আপনি শিখবেন কীভাবে রিপোর্টিংয়ের জন্য একটা নির্বাচন–আইন কাঠামো ম্যাপ (Election Law Map) বানাবেন—যাতে যেকোনো ঘটনায় আপনি দ্রুত বুঝতে পারেন: প্রশ্নটা কী, নথিটা কোনটা, আর কোথায় ক্রসচেক করতে হবে?
আপনি কী শিখবেন
রিপোর্টিংয়ের জন্য Law Map কেন জরুরি, কীভাবে বানাবেন
সংবিধান (Constitution) নির্বাচনকে কী কাঠামো/নীতি দেয় (বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন—EC প্রসঙ্গ)
RPO (Representation of the People Order) কেন “অপারেশন ম্যানুয়াল”—প্রার্থী, ব্যয়, অপরাধ, EC ক্ষমতা
Supporting laws/guidelines: আচরণবিধি (Code of Conduct), সাংবাদিক নীতিমালা (Journalist Guideline), পোলিং পলিসি (Polling policy), অবজারভেশন গাইডলাইন (Observation guideline)
৪টি বাস্তব প্রশ্নে—কোন নথি ধরবেন
আপনার নিজের জন্য ৩ কলামের Law Map টেমপ্লেট (Template)
প্রথম কথা: আপনার Law Map কেন দরকার
নির্বাচনের সময় “ভাইরাল দাবি” আর “আইনি সত্য”—এক জিনিস নয়। Law Map থাকলে আপনি—
“আইন ভাঙা হয়েছে” টাইপ দাবি শুনে সঠিক নথিতে যেতে পারবেন
রিপোর্টে “কথার লড়াই” নয়—প্রক্রিয়া ও নিয়ম দেখাতে পারবেন
অযথা শিরোনামে “অবৈধ/জালিয়াতি” টাইপ সিদ্ধান্তমূলক শব্দ এড়াতে পারবেন
দ্রুত বুঝবেন: এটা আচরণবিধি বিষয়, নাকি RPO বিষয়, নাকি পোলিং পলিসি বিষয়
এক লাইনে: Law Map আপনার রিপোর্টিংকে “হাইপ” থেকে “প্রমাণভিত্তিক” করে।
সংবিধান (Constitution) কী দেয়: নীতি ও কাঠামো
সংবিধান সাধারণত “ডিটেইল অপারেশন” বলে না—এটা দেয় বড় কাঠামো:
নির্বাচন কমিশন (EC) কীভাবে কাজ করবে—তার নীতি/অধিকার/দায়িত্বের কাঠামো
নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণা—কার কর্তৃত্ব, কোন প্রক্রিয়ায়
আপনি রিপোর্টিংয়ে সংবিধান ধরবেন যখন—
EC–র ভূমিকা/স্বাধীনতা/কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে
নির্বাচন আয়োজনের মূল কাঠামো বা সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক হয়
“এটা EC–র এখতিয়ার কি না”—এ ধরনের বেসিক প্রশ্ন আসে
সহজভাবে ভাবুন:
Constitution = “কাঠামোর মানচিত্র” (Structure map)
RPO = অপারেশন ম্যানুয়াল (Operation manual)
RPO (Representation of the People Order) হলো নির্বাচন পরিচালনার “কাজের বই”—যেখানে মাঠের বাস্তব প্রশ্নের উত্তর বেশি থাকে। আপনার রিপোর্টিংয়ে RPO সবচেয়ে বেশি আসবে যখন বিষয় হবে:
প্রার্থী (Candidate): যোগ্যতা/অযোগ্যতা, মনোনয়ন, হলফনামা (affidavit)
ব্যয় (Expenditure): ব্যয় সীমা, হিসাব, প্রচার ব্যয়ের নীতি
অপরাধ (Offences): ভয়ভীতি, ভোট কেনাবেচা, ব্যালট/কেন্দ্র সংক্রান্ত অপরাধ
EC power: স্থগিত/বাতিল, ফল স্থগিত, fresh poll, ট্রাইব্যুনাল (tribunal) ইত্যাদি
সহজভাবে ভাবুন:
RPO = “এটা হলে কী হবে”—এর নিয়মপুস্তক (Rulebook for actions)
Supporting laws/guidelines: আপনার “দৈনন্দিন কভারেজ টুলস’’
শুধু সংবিধান আর RPO নয়—নির্বাচনে অনেক গাইডলাইন/নীতিমালা থাকে, যেগুলো বাস্তবে আপনার রিপোর্টিংকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। যেমন:
আচরণবিধি (Code of Conduct):
প্রচার, সরকারি সুবিধা ব্যবহার, শোভাযাত্রা/মিছিল, আচরণ—কোনটা ভাঙা, কোনটা অনুমোদিতসাংবাদিক নীতিমালা (Journalist Guideline):
কেন্দ্রে কী করা যাবে/যাবে না, বুথ গোপনীয়তা, লাইভ কভারেজের সীমা, প্রবেশাধিকারপোলিং পলিসি (Polling policy):
কেন্দ্র পরিচালনা, প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ, ভোটগ্রহণের ধাপ, সহায়তা ব্যবস্থা—“কেন্দ্রে কীভাবে হবে”অবজারভেশন গাইডলাইন (Observation guideline):
অবজারভার কারা, কোথায় থাকতে পারে, কী করতে পারে, কীভাবে রিপোর্ট করবে—মিডিয়া/অবজারভার ইস্যুতে কাজে লাগে
রুল: গাইডলাইন/নীতিমালা মানে “আইনের জায়গা দখল” নয়—কিন্তু রিপোর্টিংয়ের দৈনন্দিন প্রশ্নে এগুলোই সবচেয়ে দ্রুত রেফারেন্স।
৪টা বাস্তব প্রশ্ন → কোন নথি ধরবেন? (Quick mapping)
নিচের চারটা প্রশ্ন নির্বাচন কভারেজে খুব কমন—আপনি চাইলে এগুলোকে “মেমোরি ম্যাপ” হিসেবে রাখুন।
প্রশ্ন ১: প্রার্থী অযোগ্য (Disqualified) হবে কি?
আপনি কী ধরবেন:
RPO (প্রার্থী যোগ্যতা/অযোগ্যতা, মনোনয়ন, স্ক্রুটিনি ইত্যাদি)
সহায়ক: সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা/ফর্ম/হলফনামা (যদি প্রযোজ্য)
আপনার রিপোর্টিং লাইন: “অযোগ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত/প্রক্রিয়া কী—নথি অনুযায়ী…”
প্রশ্ন ২: সরকারি সুবিধা (Government facilities) ব্যবহার হচ্ছে—এটা বৈধ?
আপনি কী ধরবেন:
আচরণবিধি (Code of Conduct) — সরকারি গাড়ি/ভবন/সুবিধা, প্রচার সীমা
সহায়ক: RPO/অফিশিয়াল নির্দেশনা (যদি প্রযোজ্য)
আপনার রিপোর্টিং লাইন: “আচরণবিধি অনুযায়ী কোনটা অনুমোদিত/নিষিদ্ধ—এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান…”
প্রশ্ন ৩: সাংবাদিককে কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে
আপনি কী ধরবেন:
সাংবাদিক নীতিমালা (Journalist Guideline) — প্রবেশাধিকার/সীমা
পোলিং পলিসি (Polling policy) — কেন্দ্র পরিচালনার নিয়ম
সহায়ক: ঘটনাটি “অপরাধ/বাধা” পর্যায়ে গেলে RPO প্রসঙ্গও আসতে পারে
আপনার রিপোর্টিং লাইন: “নীতিমালা অনুযায়ী সাংবাদিকের অধিকার/সীমা—কর্তৃপক্ষ কী বলছে…”
প্রশ্ন ৪: অবজারভার (Observer) বাধা পেল/উচ্ছেদ হলো—কেন?
আপনি কী ধরবেন:
অবজারভেশন গাইডলাইন (Observation guideline)
সহায়ক: কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে পোলিং পলিসি
আপনার রিপোর্টিং লাইন: “গাইডলাইন অনুযায়ী অবজারভারের ভূমিকা/সীমা—কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা…”
আপনার Law Map টেমপ্লেট (Template): ৩ কলাম
এটাই এই পর্বের মূল ডেলিভারি—আপনি চাইলে নোটবুক/গুগল শিট/ওয়ার্কশিট—যেকোনো জায়গায় রাখুন।
কলাম ১: প্রশ্ন (Question)
আপনার এলাকাভিত্তিক বাস্তব প্রশ্ন লিখুন।
উদাহরণ: “কেন্দ্রে সাংবাদিক বাধা পেল”, “সরকারি গাড়ি প্রচারে ব্যবহার”, “ভোট বন্ধ গুজব” ইত্যাদি।
কলাম ২: সম্ভাব্য আইন/নথি (Possible document/law)
Constitution / RPO / Code of Conduct / Journalist Guideline / Polling policy / Observation guideline—যেটা মিলে।
কলাম ৩: লোকাল নোট (Local notes)
কোন অফিসিয়াল/RO/থানা/EC অফিসে যোগাযোগ করবেন
কোন ডকুমেন্ট/ফর্ম/নোটিশ লোকালি পাওয়া যায়
আপনার এলাকার ঝুঁকি/প্যাটার্ন (যেমন: “এই কেন্দ্রে আগেও ঢোকা কঠিন ছিল”)
আপনি চাইলে একটা চতুর্থ লাইন যোগ করতে পারেন:
“ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাস”—কী নিশ্চিত, কী যাচাই চলছে।
আপনি যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
“আইন ভাঙা হয়েছে” বলে নথি না দেখেই সিদ্ধান্ত
RPO/আচরণবিধি/নীতিমালা—সবকিছুকে একসাথে “আইন” বলে গুলিয়ে ফেলা
শুধু একজনের ব্যাখ্যায় নির্ভর করা—ক্রসচেক না করা
সাংবাদিক/অবজারভার ইস্যুতে নীতিমালা না দেখে “বড় অভিযোগ” তৈরি করা
শিরোনামে সিদ্ধান্তমূলক শব্দ (“অবৈধ”, “কারচুপি”)—অফিশিয়াল স্ট্যাটাস ছাড়া
Quick checklist: Law Map বানাতে ৫ মিনিট
✓ আজই আপনার এলাকার ১০টি কমন প্রশ্ন লিখুন
✓ প্রতিটির পাশে ১–২টি সম্ভাব্য নথি বসান
✓ RO/EC/থানা—৩টা অফিসিয়াল কন্ট্যাক্ট লিস্ট করুন
✓ আপনার রিপোর্টিং ফোল্ডারে “Law Map” নামে একটা নোট রাখুন
✓ প্রতিবার কভারেজ শেষে ১টা করে লোকাল নোট যোগ করুন
✅ Worksheetডাইনলোড লিংক এখানে
▶ পূর্ণ ভিডিও লিংক এখানে
▶ Full Series Playlist এখানে
➡ Next episode: পর্ব–০৩ — নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রতিষ্ঠান ও Stakeholder ম্যাপসতর্কতা:
এটি শিক্ষামূলক কনটেন্ট; কোনো দল/পক্ষের প্রচার নয়। যাচাই ছাড়া দাবি/ফলাফল/অভিযোগ নিশ্চিত বলে উপস্থাপন করবেন না। আইন/নীতিমালা সময়ের সাথে আপডেট হতে পারে—সর্বশেষ অফিসিয়াল নথি দেখে রিপোর্টিং করুন। নিরাপত্তা ঝুঁকি হলে আগে সেফটি নিশ্চিত করুন—তারপর রিপোর্টিং।
Topics:
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
মিডিয়া লিটারেসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।। সাংবাদিকতার গাইড।। পর্ব–০২
নির্বাচন–আইন কাঠামো ম্যাপ
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইন আছে—কিন্তু কোনটা কখন কাজে লাগবে?
নির্বাচনের রিপোর্টিংয়ে এটা সবচেয়ে কমন সমস্যা। একজন বলল “আইন ভেঙেছে”, আরেকজন বলল “ভুল বলছেন”—আপনি মাঝখানে। যদি আপনার কাছে একটা Law Map না থাকে, আপনি হয়তো ভুল নথি ধরবেন, বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মিস করবেন।
এই পর্বে আপনি শিখবেন কীভাবে রিপোর্টিংয়ের জন্য একটা নির্বাচন–আইন কাঠামো ম্যাপ (Election Law Map) বানাবেন—যাতে যেকোনো ঘটনায় আপনি দ্রুত বুঝতে পারেন: প্রশ্নটা কী, নথিটা কোনটা, আর কোথায় ক্রসচেক করতে হবে?
আপনি কী শিখবেন
রিপোর্টিংয়ের জন্য Law Map কেন জরুরি, কীভাবে বানাবেন
সংবিধান (Constitution) নির্বাচনকে কী কাঠামো/নীতি দেয় (বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন—EC প্রসঙ্গ)
RPO (Representation of the People Order) কেন “অপারেশন ম্যানুয়াল”—প্রার্থী, ব্যয়, অপরাধ, EC ক্ষমতা
Supporting laws/guidelines: আচরণবিধি (Code of Conduct), সাংবাদিক নীতিমালা (Journalist Guideline), পোলিং পলিসি (Polling policy), অবজারভেশন গাইডলাইন (Observation guideline)
৪টি বাস্তব প্রশ্নে—কোন নথি ধরবেন
আপনার নিজের জন্য ৩ কলামের Law Map টেমপ্লেট (Template)
প্রথম কথা: আপনার Law Map কেন দরকার
নির্বাচনের সময় “ভাইরাল দাবি” আর “আইনি সত্য”—এক জিনিস নয়। Law Map থাকলে আপনি—
“আইন ভাঙা হয়েছে” টাইপ দাবি শুনে সঠিক নথিতে যেতে পারবেন
রিপোর্টে “কথার লড়াই” নয়—প্রক্রিয়া ও নিয়ম দেখাতে পারবেন
অযথা শিরোনামে “অবৈধ/জালিয়াতি” টাইপ সিদ্ধান্তমূলক শব্দ এড়াতে পারবেন
দ্রুত বুঝবেন: এটা আচরণবিধি বিষয়, নাকি RPO বিষয়, নাকি পোলিং পলিসি বিষয়
এক লাইনে: Law Map আপনার রিপোর্টিংকে “হাইপ” থেকে “প্রমাণভিত্তিক” করে।
সংবিধান (Constitution) কী দেয়: নীতি ও কাঠামো
সংবিধান সাধারণত “ডিটেইল অপারেশন” বলে না—এটা দেয় বড় কাঠামো:
নির্বাচন কমিশন (EC) কীভাবে কাজ করবে—তার নীতি/অধিকার/দায়িত্বের কাঠামো
নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণা—কার কর্তৃত্ব, কোন প্রক্রিয়ায়
আপনি রিপোর্টিংয়ে সংবিধান ধরবেন যখন—
EC–র ভূমিকা/স্বাধীনতা/কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে
নির্বাচন আয়োজনের মূল কাঠামো বা সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক হয়
“এটা EC–র এখতিয়ার কি না”—এ ধরনের বেসিক প্রশ্ন আসে
সহজভাবে ভাবুন:
Constitution = “কাঠামোর মানচিত্র” (Structure map)
RPO = অপারেশন ম্যানুয়াল (Operation manual)
RPO (Representation of the People Order) হলো নির্বাচন পরিচালনার “কাজের বই”—যেখানে মাঠের বাস্তব প্রশ্নের উত্তর বেশি থাকে। আপনার রিপোর্টিংয়ে RPO সবচেয়ে বেশি আসবে যখন বিষয় হবে:
প্রার্থী (Candidate): যোগ্যতা/অযোগ্যতা, মনোনয়ন, হলফনামা (affidavit)
ব্যয় (Expenditure): ব্যয় সীমা, হিসাব, প্রচার ব্যয়ের নীতি
অপরাধ (Offences): ভয়ভীতি, ভোট কেনাবেচা, ব্যালট/কেন্দ্র সংক্রান্ত অপরাধ
EC power: স্থগিত/বাতিল, ফল স্থগিত, fresh poll, ট্রাইব্যুনাল (tribunal) ইত্যাদি
সহজভাবে ভাবুন:
RPO = “এটা হলে কী হবে”—এর নিয়মপুস্তক (Rulebook for actions)
Supporting laws/guidelines: আপনার “দৈনন্দিন কভারেজ টুলস’’
শুধু সংবিধান আর RPO নয়—নির্বাচনে অনেক গাইডলাইন/নীতিমালা থাকে, যেগুলো বাস্তবে আপনার রিপোর্টিংকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। যেমন:
আচরণবিধি (Code of Conduct):
প্রচার, সরকারি সুবিধা ব্যবহার, শোভাযাত্রা/মিছিল, আচরণ—কোনটা ভাঙা, কোনটা অনুমোদিতসাংবাদিক নীতিমালা (Journalist Guideline):
কেন্দ্রে কী করা যাবে/যাবে না, বুথ গোপনীয়তা, লাইভ কভারেজের সীমা, প্রবেশাধিকারপোলিং পলিসি (Polling policy):
কেন্দ্র পরিচালনা, প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ, ভোটগ্রহণের ধাপ, সহায়তা ব্যবস্থা—“কেন্দ্রে কীভাবে হবে”অবজারভেশন গাইডলাইন (Observation guideline):
অবজারভার কারা, কোথায় থাকতে পারে, কী করতে পারে, কীভাবে রিপোর্ট করবে—মিডিয়া/অবজারভার ইস্যুতে কাজে লাগে
রুল: গাইডলাইন/নীতিমালা মানে “আইনের জায়গা দখল” নয়—কিন্তু রিপোর্টিংয়ের দৈনন্দিন প্রশ্নে এগুলোই সবচেয়ে দ্রুত রেফারেন্স।
৪টা বাস্তব প্রশ্ন → কোন নথি ধরবেন? (Quick mapping)
নিচের চারটা প্রশ্ন নির্বাচন কভারেজে খুব কমন—আপনি চাইলে এগুলোকে “মেমোরি ম্যাপ” হিসেবে রাখুন।
প্রশ্ন ১: প্রার্থী অযোগ্য (Disqualified) হবে কি?
আপনি কী ধরবেন:
RPO (প্রার্থী যোগ্যতা/অযোগ্যতা, মনোনয়ন, স্ক্রুটিনি ইত্যাদি)
সহায়ক: সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা/ফর্ম/হলফনামা (যদি প্রযোজ্য)
আপনার রিপোর্টিং লাইন: “অযোগ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত/প্রক্রিয়া কী—নথি অনুযায়ী…”
প্রশ্ন ২: সরকারি সুবিধা (Government facilities) ব্যবহার হচ্ছে—এটা বৈধ?
আপনি কী ধরবেন:
আচরণবিধি (Code of Conduct) — সরকারি গাড়ি/ভবন/সুবিধা, প্রচার সীমা
সহায়ক: RPO/অফিশিয়াল নির্দেশনা (যদি প্রযোজ্য)
আপনার রিপোর্টিং লাইন: “আচরণবিধি অনুযায়ী কোনটা অনুমোদিত/নিষিদ্ধ—এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান…”
প্রশ্ন ৩: সাংবাদিককে কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে
আপনি কী ধরবেন:
সাংবাদিক নীতিমালা (Journalist Guideline) — প্রবেশাধিকার/সীমা
পোলিং পলিসি (Polling policy) — কেন্দ্র পরিচালনার নিয়ম
সহায়ক: ঘটনাটি “অপরাধ/বাধা” পর্যায়ে গেলে RPO প্রসঙ্গও আসতে পারে
আপনার রিপোর্টিং লাইন: “নীতিমালা অনুযায়ী সাংবাদিকের অধিকার/সীমা—কর্তৃপক্ষ কী বলছে…”
প্রশ্ন ৪: অবজারভার (Observer) বাধা পেল/উচ্ছেদ হলো—কেন?
আপনি কী ধরবেন:
অবজারভেশন গাইডলাইন (Observation guideline)
সহায়ক: কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে পোলিং পলিসি
আপনার রিপোর্টিং লাইন: “গাইডলাইন অনুযায়ী অবজারভারের ভূমিকা/সীমা—কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা…”
আপনার Law Map টেমপ্লেট (Template): ৩ কলাম
এটাই এই পর্বের মূল ডেলিভারি—আপনি চাইলে নোটবুক/গুগল শিট/ওয়ার্কশিট—যেকোনো জায়গায় রাখুন।
কলাম ১: প্রশ্ন (Question)
আপনার এলাকাভিত্তিক বাস্তব প্রশ্ন লিখুন।
উদাহরণ: “কেন্দ্রে সাংবাদিক বাধা পেল”, “সরকারি গাড়ি প্রচারে ব্যবহার”, “ভোট বন্ধ গুজব” ইত্যাদি।
কলাম ২: সম্ভাব্য আইন/নথি (Possible document/law)
Constitution / RPO / Code of Conduct / Journalist Guideline / Polling policy / Observation guideline—যেটা মিলে।
কলাম ৩: লোকাল নোট (Local notes)
কোন অফিসিয়াল/RO/থানা/EC অফিসে যোগাযোগ করবেন
কোন ডকুমেন্ট/ফর্ম/নোটিশ লোকালি পাওয়া যায়
আপনার এলাকার ঝুঁকি/প্যাটার্ন (যেমন: “এই কেন্দ্রে আগেও ঢোকা কঠিন ছিল”)
আপনি চাইলে একটা চতুর্থ লাইন যোগ করতে পারেন:
“ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাস”—কী নিশ্চিত, কী যাচাই চলছে।
আপনি যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
“আইন ভাঙা হয়েছে” বলে নথি না দেখেই সিদ্ধান্ত
RPO/আচরণবিধি/নীতিমালা—সবকিছুকে একসাথে “আইন” বলে গুলিয়ে ফেলা
শুধু একজনের ব্যাখ্যায় নির্ভর করা—ক্রসচেক না করা
সাংবাদিক/অবজারভার ইস্যুতে নীতিমালা না দেখে “বড় অভিযোগ” তৈরি করা
শিরোনামে সিদ্ধান্তমূলক শব্দ (“অবৈধ”, “কারচুপি”)—অফিশিয়াল স্ট্যাটাস ছাড়া
Quick checklist: Law Map বানাতে ৫ মিনিট
✓ আজই আপনার এলাকার ১০টি কমন প্রশ্ন লিখুন
✓ প্রতিটির পাশে ১–২টি সম্ভাব্য নথি বসান
✓ RO/EC/থানা—৩টা অফিসিয়াল কন্ট্যাক্ট লিস্ট করুন
✓ আপনার রিপোর্টিং ফোল্ডারে “Law Map” নামে একটা নোট রাখুন
✓ প্রতিবার কভারেজ শেষে ১টা করে লোকাল নোট যোগ করুন
✅ Worksheetডাইনলোড লিংক এখানে
▶ পূর্ণ ভিডিও লিংক এখানে
▶ Full Series Playlist এখানে
➡ Next episode: পর্ব–০৩ — নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রতিষ্ঠান ও Stakeholder ম্যাপসতর্কতা:
এটি শিক্ষামূলক কনটেন্ট; কোনো দল/পক্ষের প্রচার নয়। যাচাই ছাড়া দাবি/ফলাফল/অভিযোগ নিশ্চিত বলে উপস্থাপন করবেন না। আইন/নীতিমালা সময়ের সাথে আপডেট হতে পারে—সর্বশেষ অফিসিয়াল নথি দেখে রিপোর্টিং করুন। নিরাপত্তা ঝুঁকি হলে আগে সেফটি নিশ্চিত করুন—তারপর রিপোর্টিং।