| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
হাসিনা-জয়ের মন্তব্যকে রয়টার্সের বলে প্রচার
১৯ নভেম্বর ২০২৫
‘বাংলাদেশি ভোটারদের প্রায় অর্ধেক শেখ হাসিনার দলকে সমর্থন করে’ - এমন একটি মন্তব্য সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে।
এসব পোস্টে সংবাদমাধ্যমটির একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট যুক্ত করা হয়েছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, সংবাদমাধ্যমটি এমন কোনো মন্তব্য করেনি।
আদতে একটি পডকাস্টে শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের সাংবাদিক কৃষ্ণ দাস মন্তব্যটি করেন। পরবর্তীতে এই মন্তব্যকে রয়টার্সের বলে আওয়ামীপন্থি ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে রয়টার্সের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গত ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। পোস্টটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, সেখানে শুরুতেই কোট করে লেখা আছে ‘Nearly half of Bangladeshi voters support Hasina's party.’
অর্থাৎ, মন্তব্যটি সরাসরি রয়টার্সের নয়।
পরবর্তীতে পোস্টটিতে উল্লেখিত লিংকে স্পটিফাইয়ে প্রকাশিত পডকাস্টটি পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলেও পডকাস্টটি একই দিনে প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের ওয়েবসাইটে পডকাস্টটির ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়া যায়। সেখানে ভারতীয় সাংবাদিক কৃষ্ণ দাসের বক্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘Hasina's Awami League party, as the party claims the biggest party in Bangladesh, but they have been banned from the election due in the first half of February next year. So Hasina's son told us that they have been, Hasina and the son himself, Sajeeb Wazed. Both of them are abroad, but they're in touch with their activists in Bangladesh, and they said there will be violence ahead of the elections if the ban on the party is not lifted. They say that nearly half of Bangladeshi voters support Hasina's party, the Awami League, and if they cannot participate in the election, you are simply robbing the chance of a lot of people to vote in the election because they do not have their own first choice party contesting.’
যা বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে যে নির্বাচন হতে চলেছে, তাতে হাসিনা'র দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দলটি বাংলাদেশে নিজেদেরকে বৃহত্তম দল বলে দাবি করে। তাই হাসিনা'র ছেলে আমাদের জানিয়েছেন যে, হাসিনা এবং ছেলে নিজে, সজীব ওয়াজেদ—উভয়েই বিদেশে থাকলেও, তাঁরা বাংলাদেশে তাঁদের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁরা বলেছেন, যদি দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া না হয়, তবে নির্বাচনের আগে সহিংসতা হতে পারে। তাঁরা আরও বলেছেন যে, বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার হাসিনা'র দল আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন, এবং যদি দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, তবে আপনি বহু মানুষের নির্বাচনের ভোট দেওয়ার সুযোগকে কেড়ে নিচ্ছেন, কারণ তাদের পছন্দের প্রথম দলটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না।’
এটি স্পষ্ট যে, রয়টার্স আলোচিত মন্তব্যটি করেনি। এটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মন্তব্য।
অর্থাৎ, দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
Topics:
Bangla Fact বাংলা ফ্যাক্ট
ফটোকার্ড নকল করে ঢাকায় নিযুক্ত বর্তমান জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
এনসিপি নেত্রী মাহমুদা মিতুকে জড়িয়ে কালের কণ্ঠের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার
একাত্তর টিভির ফটোকার্ড নকল করে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
বাংলাদেশের ভূমিকম্পের ঘটনায় পুরোনো ও এআই-সৃষ্ট দৃশ্যের প্রচার
রায় প্রত্যাখ্যান করে ১০০১ শিক্ষকের বিবৃতি
অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই বিবৃতিতে নাম ব্যবহারের অভিযোগ
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরলে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাতিল করা হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দেশ রূপান্তরের শিরোনামটি এক্ষেত্রে পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে।
মোদির সঙ্গে হাসিনা–জয়ের বৈঠকের ছবিটি পুরোনো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এই ছবিটি বাস্তব নয়
গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা দাবি করে পুরোনো ভিডিও প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
হাসিনা-জয়ের মন্তব্যকে রয়টার্সের বলে প্রচার
১৯ নভেম্বর ২০২৫
‘বাংলাদেশি ভোটারদের প্রায় অর্ধেক শেখ হাসিনার দলকে সমর্থন করে’ - এমন একটি মন্তব্য সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে।
এসব পোস্টে সংবাদমাধ্যমটির একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট যুক্ত করা হয়েছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, সংবাদমাধ্যমটি এমন কোনো মন্তব্য করেনি।
আদতে একটি পডকাস্টে শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের সাংবাদিক কৃষ্ণ দাস মন্তব্যটি করেন। পরবর্তীতে এই মন্তব্যকে রয়টার্সের বলে আওয়ামীপন্থি ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে রয়টার্সের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গত ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। পোস্টটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, সেখানে শুরুতেই কোট করে লেখা আছে ‘Nearly half of Bangladeshi voters support Hasina's party.’
অর্থাৎ, মন্তব্যটি সরাসরি রয়টার্সের নয়।
পরবর্তীতে পোস্টটিতে উল্লেখিত লিংকে স্পটিফাইয়ে প্রকাশিত পডকাস্টটি পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলেও পডকাস্টটি একই দিনে প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের ওয়েবসাইটে পডকাস্টটির ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়া যায়। সেখানে ভারতীয় সাংবাদিক কৃষ্ণ দাসের বক্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘Hasina's Awami League party, as the party claims the biggest party in Bangladesh, but they have been banned from the election due in the first half of February next year. So Hasina's son told us that they have been, Hasina and the son himself, Sajeeb Wazed. Both of them are abroad, but they're in touch with their activists in Bangladesh, and they said there will be violence ahead of the elections if the ban on the party is not lifted. They say that nearly half of Bangladeshi voters support Hasina's party, the Awami League, and if they cannot participate in the election, you are simply robbing the chance of a lot of people to vote in the election because they do not have their own first choice party contesting.’
যা বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে যে নির্বাচন হতে চলেছে, তাতে হাসিনা'র দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দলটি বাংলাদেশে নিজেদেরকে বৃহত্তম দল বলে দাবি করে। তাই হাসিনা'র ছেলে আমাদের জানিয়েছেন যে, হাসিনা এবং ছেলে নিজে, সজীব ওয়াজেদ—উভয়েই বিদেশে থাকলেও, তাঁরা বাংলাদেশে তাঁদের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁরা বলেছেন, যদি দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া না হয়, তবে নির্বাচনের আগে সহিংসতা হতে পারে। তাঁরা আরও বলেছেন যে, বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার হাসিনা'র দল আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন, এবং যদি দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, তবে আপনি বহু মানুষের নির্বাচনের ভোট দেওয়ার সুযোগকে কেড়ে নিচ্ছেন, কারণ তাদের পছন্দের প্রথম দলটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না।’
এটি স্পষ্ট যে, রয়টার্স আলোচিত মন্তব্যটি করেনি। এটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মন্তব্য।
অর্থাৎ, দাবিটি বিভ্রান্তিকর।