| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
‘জামায়াত নেতার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড’ বলে চালানো ভিডিওটি কার্যত ভারতের অন্য ঘটনার
১৪ আগস্ট ২০২৫
জামায়াত নেতার কথামতো ফাইলে স্বাক্ষর করেননি বলে ‘একজন সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা করে অমানবিকভাবে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে তোলার দৃশ্য’ বলে দাবি করা একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি একটি ভবনের সিঁড়ি দিয়ে উলঙ্গ একজনের দেহ উল্টো করে টেনে তুলছেন।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, এ ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, চলতি বছরের ১১ আগস্ট ভারতের বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার বেত্তিয়া শহরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (জিএমসিএইচ) সিঁড়িতে এক ব্যক্তির মৃতদেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কিছু কী-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান NDTV-র ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ আগস্ট বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার বেত্তিয়া শহরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (জিএমসিএইচ) সিঁড়িতে এক ব্যক্তির মৃতদেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালটির সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ধর্মেন্দ্র কুমার গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানটিকে জানান, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালটির অধ্যক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে পাওয়া প্রতিবেদন চাওয়া হয়। তাতে দেখা যায়, হাসপাতালটির মর্গ সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এতে এক পুলিশ সদস্যও জড়িত। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এসপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, ভারতের হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে মৃতদেহ টেনে তোলার ভিডিওকে ‘জমায়াত নেতার নির্দেশে খুন’ করা হয়েছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে, যা মিথ্যা।
Topics:
পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে অপপ্রচার
কালের কণ্ঠের ফটোকার্ড বিকৃত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে অপপ্রচার
মেহেরপুরের দুই ফার্মেসির দ্বন্দ্বের ভিডিও ব্যবহার করে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা
নারী নির্যাতন
লেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয়
চুরির অভিযোগে মারধরের ঘটনায়
বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা করে গুজব প্রচার
চকরিয়ায় মধ্যরাতে ব্যালটে সিল দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২২ সালে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের সংঘর্ষের
নারীদের মাদক গ্রহণ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
‘জামায়াত নেতার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড’ বলে চালানো ভিডিওটি কার্যত ভারতের অন্য ঘটনার
১৪ আগস্ট ২০২৫
জামায়াত নেতার কথামতো ফাইলে স্বাক্ষর করেননি বলে ‘একজন সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা করে অমানবিকভাবে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে তোলার দৃশ্য’ বলে দাবি করা একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি একটি ভবনের সিঁড়ি দিয়ে উলঙ্গ একজনের দেহ উল্টো করে টেনে তুলছেন।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, এ ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, চলতি বছরের ১১ আগস্ট ভারতের বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার বেত্তিয়া শহরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (জিএমসিএইচ) সিঁড়িতে এক ব্যক্তির মৃতদেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কিছু কী-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান NDTV-র ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ আগস্ট বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার বেত্তিয়া শহরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (জিএমসিএইচ) সিঁড়িতে এক ব্যক্তির মৃতদেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালটির সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ধর্মেন্দ্র কুমার গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানটিকে জানান, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালটির অধ্যক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে পাওয়া প্রতিবেদন চাওয়া হয়। তাতে দেখা যায়, হাসপাতালটির মর্গ সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এতে এক পুলিশ সদস্যও জড়িত। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এসপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, ভারতের হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে মৃতদেহ টেনে তোলার ভিডিওকে ‘জমায়াত নেতার নির্দেশে খুন’ করা হয়েছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে, যা মিথ্যা।