| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি

হাসিনার নয়, বেগম খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছিলেন মির্জা ফখরুল

২৪ মার্চ ২০২৬


হাসিনার নয়, বেগম খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছিলেন মির্জা ফখরুল
বিভ্রান্তিকর

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রশংসনীয় বক্তব্য দিয়েছেন- এমন দাবি করে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।


ভিডিওর শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা একজন মহীয়সী মহিলা, একজন অসম সাহসী নেত্রী, একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক।’ তবে এই বক্তব্যে ‘শেখ হাসিনা’ শব্দটি একটু ভিন্নভাবে শুনতে পাওয়া যায়।


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদের অধিবেশনে শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রশংসনীয় বক্তব্য রাখেননি। বরং, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তাঁর শাসনামলে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এই ঘটনার ভিডিওতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় শেখ হাসিনার নামের অডিও যুক্ত করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে।


অনুসন্ধানে এটিএন বাংলা নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১২ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। এর ১ মিনিট ০১ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একই বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। ভিডিও থেকে জানা যায়, সেদিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তাঁর প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।


বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে অল্প সময়ে কথা বলা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। একজন মহীয়সী মহিলা, একজন অসম সাহসী নেত্রী, একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। যিনি বাংলাদেশের এই ৫৪ বছরের মধ্যে ৪৩ বছর রাজনীতিতে দাপটের সঙ্গে বিচরণ করেছেন। এই নেত্রী বাংলাদেশের তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিপুল ভোটে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে। তিনি দুইবার বিরোধী দলের নেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আমরা দেখেছি, যখন তিনি সরকারে ছিলেন, সেই সময় তিনি এমন কাজগুলো করেছেন যেমন প্রেসিডেনশিয়াল ফর্ম অব গভর্নমেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফর্ম অব গভর্নমেন্টে নিয়ে আসা এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা।’


তবে সম্পূর্ণ বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে শোনা যায়নি।


বরং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেদিন পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে বক্তব্যের শেষের দিকে বলেন, ‘তিনি (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা) জাগিয়ে তুলেছেন সে আশা। তিনি হেঁটে গিয়েছিলেন কারাগারে ভালোভাবেই। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁকে হত্যা করার জন্য ফ্যাসিস্টরা যে ষড়যন্ত্র করেছিল, সেই ষড়যন্ত্র টিকতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্ত হয়েছেন…।’


সেদিন সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।


অর্থাৎ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদের অধিবেশনে শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রশংসনীয় বক্তব্য রেখেছেন- এমন দাবিটি মিথ্যা। বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনার নাম যুক্ত করে প্রচার কর হয়েছে।





Topics:

মির্জা ফখরুল Bangla Fact বাংলা ফ্যাক্ট

হাসিনা-পুতিনের বৈঠকের ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৩ সালের
বিভ্রান্তিকর
৫ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনা-পুতিনের বৈঠকের ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৩ সালের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ে ছাত্রদের প্রবেশের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৫ সালের
মিথ্যা
৫ অক্টোবর ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ে ছাত্রদের প্রবেশের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৫ সালের


‘বিশ্বব্যাপী যখন বোয়িংয়ের সঙ্কট শুরু হবে, তখন সুযোগ বুঝে আমরা এগুলোকে বেশি দামে বিক্রি করে দেব’ বলে মন্তব্য করেননিরুহুল কবির রিজভী
মিথ্যা
৫ অক্টোবর ২০২৬

‘বিশ্বব্যাপী যখন বোয়িংয়ের সঙ্কট শুরু হবে, তখন সুযোগ বুঝে আমরা এগুলোকে বেশি দামে বিক্রি করে দেব’ বলে মন্তব্য করেননিরুহুল কবির রিজভী


দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার ভিডিওটি ২০১৯ সালের
বিভ্রান্তিকর
৪ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার ভিডিওটি ২০১৯ সালের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবিটি আসল
সত্য
৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবিটি আসল

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



হাসিনার নয়, বেগম খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছিলেন মির্জা ফখরুল

ফ্যাক্ট চেক

হাসিনার নয়, বেগম খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছিলেন মির্জা ফখরুল

২৪ মার্চ ২০২৬

<p>হাসিনার নয়, বেগম খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছিলেন মির্জা ফখরুল<br /></p>

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রশংসনীয় বক্তব্য দিয়েছেন- এমন দাবি করে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।


ভিডিওর শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা একজন মহীয়সী মহিলা, একজন অসম সাহসী নেত্রী, একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক।’ তবে এই বক্তব্যে ‘শেখ হাসিনা’ শব্দটি একটু ভিন্নভাবে শুনতে পাওয়া যায়।


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদের অধিবেশনে শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রশংসনীয় বক্তব্য রাখেননি। বরং, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তাঁর শাসনামলে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এই ঘটনার ভিডিওতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় শেখ হাসিনার নামের অডিও যুক্ত করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে।


অনুসন্ধানে এটিএন বাংলা নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১২ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। এর ১ মিনিট ০১ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একই বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। ভিডিও থেকে জানা যায়, সেদিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তাঁর প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।


বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে অল্প সময়ে কথা বলা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। একজন মহীয়সী মহিলা, একজন অসম সাহসী নেত্রী, একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। যিনি বাংলাদেশের এই ৫৪ বছরের মধ্যে ৪৩ বছর রাজনীতিতে দাপটের সঙ্গে বিচরণ করেছেন। এই নেত্রী বাংলাদেশের তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিপুল ভোটে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে। তিনি দুইবার বিরোধী দলের নেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আমরা দেখেছি, যখন তিনি সরকারে ছিলেন, সেই সময় তিনি এমন কাজগুলো করেছেন যেমন প্রেসিডেনশিয়াল ফর্ম অব গভর্নমেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফর্ম অব গভর্নমেন্টে নিয়ে আসা এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা।’


তবে সম্পূর্ণ বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে শোনা যায়নি।


বরং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেদিন পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে বক্তব্যের শেষের দিকে বলেন, ‘তিনি (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা) জাগিয়ে তুলেছেন সে আশা। তিনি হেঁটে গিয়েছিলেন কারাগারে ভালোভাবেই। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁকে হত্যা করার জন্য ফ্যাসিস্টরা যে ষড়যন্ত্র করেছিল, সেই ষড়যন্ত্র টিকতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্ত হয়েছেন…।’


সেদিন সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।


অর্থাৎ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদের অধিবেশনে শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রশংসনীয় বক্তব্য রেখেছেন- এমন দাবিটি মিথ্যা। বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনার নাম যুক্ত করে প্রচার কর হয়েছে।