| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
ছাত্রলীগ করার কারণে যুবককে মারধর করার দাবিটি অসত্য
১৩ মে ২০২৬
রাজশাহীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করা হয়েছে দাবি করে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। বরং চুরির অভিযোগে এক যুবককে মারধরের ঘটনার ভিডিও এটি। ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘DX Muhih Manik’ নামক ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটির একটি দীর্ঘ সংষ্করণ খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন অনুযায়ী, এটি চুরির অভিযোগে মারধরের ঘটনা।
একই অ্যাকাউন্টে ১১ তারিখে আপলোড করা ওই ঘটনার আরও একটি ভিডিও পাওয়া যায়, ভিডিওটিতে ভুক্তভোগীকে এমন কাজ আর না করার কথা বলতে শোনা যায়।
এছাড়া রাজশাহীর স্থানীয় কমিউনিটি রেডিও ‘Radio Padma 99.2 FM’ -এর ফেসবুক পেজেও ভিডিওটি প্রচার হতে দেখা যায়। সেখানে মন্তব্যের ঘরে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ১০ মে রাজশাহী মহানগরীর কাজলা এলাকার। নির্যাতনের শিকার তুষার (৩৫) মতিহার থানার কাজলা এলাকার নাজিরের ছেলে। স্থানীয় সূত্রমতে, সে ওই এলাকার একজন চিহ্নিত চোর।
এই বিষয়ে যুগান্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১১ মে নির্যাতনের শিকার তুষারের বাবা নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন।উক্ত ঘটনায় মুহিন ও আলী হাসান মো. মুজাহিদ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এজাহারে নাম থাকলেও তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এবং চলমান এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে মুজাহিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “৯ মে রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন ব্যক্তি তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করেন। সেই সময় তুষারের বাবা তাকে বাড়িতে নেই বলে জানালে অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরদিন সকালে তুষার হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযানে নামে।”
অর্থাৎ, চুরির অভিযোগে রাজশাহীতে এক যুবককে মারধরের ঘটনাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মারধরের ঘটনা দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যা মিথ্যা।
Topics:
হাসিনা-পুতিনের বৈঠকের ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৩ সালের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ে ছাত্রদের প্রবেশের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৫ সালের
‘বিশ্বব্যাপী যখন বোয়িংয়ের সঙ্কট শুরু হবে, তখন সুযোগ বুঝে আমরা এগুলোকে বেশি দামে বিক্রি করে দেব’ বলে মন্তব্য করেননিরুহুল কবির রিজভী
দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার ভিডিওটি ২০১৯ সালের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবিটি আসল
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হ্যান্ডশেকের এই ছবিটি এডিটেড।
এক ব্যক্তির একাধিক ব্যালটে সিল দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো
মির্জা আব্বাসকে জড়িয়ে চ্যানেল ২৪ এর নামে ভুয়া ফটোকার্ড
অগ্নিকাণ্ডের ভিডিওটি ডেমরার নয়, নেপালের
ফ্যাক্ট চেক
ছাত্রলীগ করার কারণে যুবককে মারধর করার দাবিটি অসত্য
১৩ মে ২০২৬
রাজশাহীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করা হয়েছে দাবি করে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। বরং চুরির অভিযোগে এক যুবককে মারধরের ঘটনার ভিডিও এটি। ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘DX Muhih Manik’ নামক ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটির একটি দীর্ঘ সংষ্করণ খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন অনুযায়ী, এটি চুরির অভিযোগে মারধরের ঘটনা।
একই অ্যাকাউন্টে ১১ তারিখে আপলোড করা ওই ঘটনার আরও একটি ভিডিও পাওয়া যায়, ভিডিওটিতে ভুক্তভোগীকে এমন কাজ আর না করার কথা বলতে শোনা যায়।
এছাড়া রাজশাহীর স্থানীয় কমিউনিটি রেডিও ‘Radio Padma 99.2 FM’ -এর ফেসবুক পেজেও ভিডিওটি প্রচার হতে দেখা যায়। সেখানে মন্তব্যের ঘরে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ১০ মে রাজশাহী মহানগরীর কাজলা এলাকার। নির্যাতনের শিকার তুষার (৩৫) মতিহার থানার কাজলা এলাকার নাজিরের ছেলে। স্থানীয় সূত্রমতে, সে ওই এলাকার একজন চিহ্নিত চোর।
এই বিষয়ে যুগান্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১১ মে নির্যাতনের শিকার তুষারের বাবা নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন।উক্ত ঘটনায় মুহিন ও আলী হাসান মো. মুজাহিদ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এজাহারে নাম থাকলেও তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এবং চলমান এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে মুজাহিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “৯ মে রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন ব্যক্তি তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করেন। সেই সময় তুষারের বাবা তাকে বাড়িতে নেই বলে জানালে অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরদিন সকালে তুষার হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযানে নামে।”
অর্থাৎ, চুরির অভিযোগে রাজশাহীতে এক যুবককে মারধরের ঘটনাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মারধরের ঘটনা দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যা মিথ্যা।