| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি

শিরোনামে ‘ভারতের কৃতিত্ব’ যোগ করে তারেক রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে ভারতীয় গণমাধ্যমের অপপ্রচার

৯ অক্টোবর ২০২৬


শিরোনামে ‘ভারতের কৃতিত্ব’ যোগ করে তারেক রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে ভারতীয় গণমাধ্যমের অপপ্রচার
মিথ্যা


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য ভারতকে কৃতিত্ব দিয়েছেন- এমন দাবি করে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ফার্স্টপোস্ট। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট (ডিইউএফ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এমন কথা বলেছেন বলে উল্লেখ আছে প্রতিবেদনটিতে। 


তবে যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে, তারেক রহমান গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট (ডিইউএফ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এমন কোনো মন্তব্য করেননি। বরং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথে বলেছিলেন। 


গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) তারেক রহমানের সঙ্গে ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট (ডিইউএফ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে সেদিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ও দৈনিক ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। 


সাক্ষাৎকালে ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্টের (ডিইউএফ) নেতাদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না।’


তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে একসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’


জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে হবে।’ 


পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্টের (ডিইউএফ) নেতারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তবে এসব প্রতিবেদনে ভারত নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, দেশের অন্যান্য গণমাধ্যম সূত্রেও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। 


তাছাড়া, ফার্স্টপোস্ট তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতকে জড়িয়ে এই প্রতিবেদনের শিরোনাম লিখলেও পুরো সংবাদে এই বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেনি। এমনকি সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ে এর শিরোনাম ছাড়া অন্য কোনো অংশে ‘ভারত’ শব্দই উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য ভারতকে কৃতিত্ব দিয়েছেন- এমন দাবি করে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ফার্স্টপোস্টে প্রকাশিত তথ্যটি মিথ্যা। 


তথ্যসূত্র

  • বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা 

  • দৈনিক ইত্তেফাক




Topics:



হাসিনা-পুতিনের বৈঠকের ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৩ সালের
বিভ্রান্তিকর
৫ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনা-পুতিনের বৈঠকের ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৩ সালের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ে ছাত্রদের প্রবেশের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৫ সালের
মিথ্যা
৫ অক্টোবর ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ে ছাত্রদের প্রবেশের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৫ সালের


‘বিশ্বব্যাপী যখন বোয়িংয়ের সঙ্কট শুরু হবে, তখন সুযোগ বুঝে আমরা এগুলোকে বেশি দামে বিক্রি করে দেব’ বলে মন্তব্য করেননিরুহুল কবির রিজভী
মিথ্যা
৫ অক্টোবর ২০২৬

‘বিশ্বব্যাপী যখন বোয়িংয়ের সঙ্কট শুরু হবে, তখন সুযোগ বুঝে আমরা এগুলোকে বেশি দামে বিক্রি করে দেব’ বলে মন্তব্য করেননিরুহুল কবির রিজভী


দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার ভিডিওটি ২০১৯ সালের
বিভ্রান্তিকর
৪ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার ভিডিওটি ২০১৯ সালের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবিটি আসল
সত্য
৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবিটি আসল

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



শিরোনামে ‘ভারতের কৃতিত্ব’ যোগ করে তারেক রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে ভারতীয় গণমাধ্যমের অপপ্রচার

ফ্যাক্ট চেক

শিরোনামে ‘ভারতের কৃতিত্ব’ যোগ করে তারেক রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে ভারতীয় গণমাধ্যমের অপপ্রচার

৯ অক্টোবর ২০২৬

<p><span style="font-size: 24px;">শিরোনামে ‘ভারতের কৃতিত্ব’ যোগ করে তারেক রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে ভারতীয় গণমাধ্যমের অপপ্রচার</span> <br /></p>


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য ভারতকে কৃতিত্ব দিয়েছেন- এমন দাবি করে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ফার্স্টপোস্ট। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট (ডিইউএফ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এমন কথা বলেছেন বলে উল্লেখ আছে প্রতিবেদনটিতে। 


তবে যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে, তারেক রহমান গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট (ডিইউএফ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এমন কোনো মন্তব্য করেননি। বরং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথে বলেছিলেন। 


গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) তারেক রহমানের সঙ্গে ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট (ডিইউএফ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে সেদিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ও দৈনিক ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। 


সাক্ষাৎকালে ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্টের (ডিইউএফ) নেতাদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না।’


তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে একসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’


জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে হবে।’ 


পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্টের (ডিইউএফ) নেতারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তবে এসব প্রতিবেদনে ভারত নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, দেশের অন্যান্য গণমাধ্যম সূত্রেও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। 


তাছাড়া, ফার্স্টপোস্ট তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতকে জড়িয়ে এই প্রতিবেদনের শিরোনাম লিখলেও পুরো সংবাদে এই বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেনি। এমনকি সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ে এর শিরোনাম ছাড়া অন্য কোনো অংশে ‘ভারত’ শব্দই উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য ভারতকে কৃতিত্ব দিয়েছেন- এমন দাবি করে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ফার্স্টপোস্টে প্রকাশিত তথ্যটি মিথ্যা। 


তথ্যসূত্র