| ফ্যাক্ট চেক | ধর্মীয়

অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার

৩০ মার্চ ২০২৬


অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার
মিথ্যা

বাংলাদেশের এক হিন্দু মা জিহাদিদের হামলা থেকে তাঁর শিশু সন্তানকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করছেন- এমন দাবি করে ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে।


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, এটি কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীর ওপর জিহাদিদের হামলার দৃশ্য নয়। বরং, ভিডিওতে থাকা নারী মুসলিম। গত ২৫ মার্চ সুনামঞ্জের ছাতকে চুরির অভিযোগে তারেক মিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে স্থানীয়রা হামলা করলে শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে সেই হামলা থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার চেষ্টা করে তার স্ত্রী। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।  


অনুসন্ধানে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। ভিডিও থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে স্থানীয় গ্রামবাসীরা।


এসব তথ্যসূত্র গুগলে সার্চ করলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ২৫ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ থেকে জানা যায়, সুনামঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামের কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করে এই পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিল গ্রামবাসী। দেড় মাস আগে এলাকার আটজন চোরকে চিহ্নিত করে ‘তাঁরা আর চুরি করবেন না’ বলে মুচলেকা দেয়। কিন্তু গত ২৪ মার্চ রাতে উত্তর কুরশি গ্রামের দোলন মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির সময়ে সাইফুল ইসলাম (২৫) আটক হন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সাইফুল স্বীকারোক্তি দেন তাঁর সঙ্গে আবু হানিফা, আলী হোসেন ও তারেক মিয়া ছিলেন। এই ঘটনায় গত ২৫ মার্চ এক বৈঠকের পর উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে উত্তেজিত গ্রামবাসী আলী হোসেন ও তারেক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। প্রথম আলো আরও জানায়, শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে হামলা থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার চেষ্টা করা নারী তারেক মিয়ার স্ত্রী।  


অর্থাৎ, নামানুসারে ভিডিওর ব্যক্তি হিন্দু ধর্মাবলম্বী নন, তিনি মুসলিম। 


বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিত হতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জে দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার খলিল রহমানের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই নারী অভিযুক্ত তারেক মিয়ার স্ত্রী। তিনি মুসলিম।’ 


দৈনিক আমাদের সময়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়। 


সুতরাং, বাংলাদেশের এক হিন্দু মা জিহাদিদের হামলা থেকে তাঁর শিশু সন্তানকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করছেন- এমন দাবিটি মিথ্যা এবং ভিডিওটির নারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নন বরং, তিনি মুসলিম।


তথ্যসূত্র

  • চ্যানেল টুয়েন্টিফোর

  • প্রথম আলো




Topics:

মিথ্যা Bangla Fact বাংলা ফ্যাক্ট

অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার
মিথ্যা
৩০ মার্চ ২০২৬

অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার

বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি্র ঘটনাকে ‘জিজিয়া কর’ হিসেবে প্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে
বিভ্রান্তিকর
২ মার্চ ২০২৬

বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি্র ঘটনাকে ‘জিজিয়া কর’ হিসেবে প্রচার ভারতীয় গণমাধ্যমে

গফরগাঁওয়ে মসজিদে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার
বিভ্রান্তিকর
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গফরগাঁওয়ে মসজিদে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ বলে প্রচার

গয়েশ্বর রায়কে একমাত্র হিন্দু সংসদ সদস্য বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার
বিভ্রান্তিকর
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গয়েশ্বর রায়কে একমাত্র হিন্দু সংসদ সদস্য বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে ‘হিন্দু নিধন’ নিয়ে কোনো প্রশ্নই করা হয়নি; ভারতীয় মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার
বিভ্রান্তিকর
২৮ জানুয়ারী ২০২৬

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে ‘হিন্দু নিধন’ নিয়ে কোনো প্রশ্নই করা হয়নি; ভারতীয় মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার

ফ্যাক্ট চেক

অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার

৩০ মার্চ ২০২৬

<p>অভিযুক্ত চোরের বাড়িতে স্থানীয়দের হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে প্রচার<br /></p>

বাংলাদেশের এক হিন্দু মা জিহাদিদের হামলা থেকে তাঁর শিশু সন্তানকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করছেন- এমন দাবি করে ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে।


তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, এটি কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীর ওপর জিহাদিদের হামলার দৃশ্য নয়। বরং, ভিডিওতে থাকা নারী মুসলিম। গত ২৫ মার্চ সুনামঞ্জের ছাতকে চুরির অভিযোগে তারেক মিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে স্থানীয়রা হামলা করলে শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে সেই হামলা থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার চেষ্টা করে তার স্ত্রী। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।  


অনুসন্ধানে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। ভিডিও থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে স্থানীয় গ্রামবাসীরা।


এসব তথ্যসূত্র গুগলে সার্চ করলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ২৫ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ থেকে জানা যায়, সুনামঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামের কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করে এই পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিল গ্রামবাসী। দেড় মাস আগে এলাকার আটজন চোরকে চিহ্নিত করে ‘তাঁরা আর চুরি করবেন না’ বলে মুচলেকা দেয়। কিন্তু গত ২৪ মার্চ রাতে উত্তর কুরশি গ্রামের দোলন মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির সময়ে সাইফুল ইসলাম (২৫) আটক হন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সাইফুল স্বীকারোক্তি দেন তাঁর সঙ্গে আবু হানিফা, আলী হোসেন ও তারেক মিয়া ছিলেন। এই ঘটনায় গত ২৫ মার্চ এক বৈঠকের পর উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে উত্তেজিত গ্রামবাসী আলী হোসেন ও তারেক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। প্রথম আলো আরও জানায়, শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে হামলা থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার চেষ্টা করা নারী তারেক মিয়ার স্ত্রী।  


অর্থাৎ, নামানুসারে ভিডিওর ব্যক্তি হিন্দু ধর্মাবলম্বী নন, তিনি মুসলিম। 


বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিত হতে বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জে দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার খলিল রহমানের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওই নারী অভিযুক্ত তারেক মিয়ার স্ত্রী। তিনি মুসলিম।’ 


দৈনিক আমাদের সময়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়। 


সুতরাং, বাংলাদেশের এক হিন্দু মা জিহাদিদের হামলা থেকে তাঁর শিশু সন্তানকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করছেন- এমন দাবিটি মিথ্যা এবং ভিডিওটির নারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নন বরং, তিনি মুসলিম।


তথ্যসূত্র

  • চ্যানেল টুয়েন্টিফোর

  • প্রথম আলো