| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়
এবার ব্র্যাক শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড জালিয়াতি করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে মিথ্যা বয়ান প্রচার
২ জুন ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অনুশোচনামূলক পোস্টদাতা ‘Niave Sarae’-র দাবি সত্য নয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর আইডি কার্ডের নম্বর ও ছবির সাথে পোস্টে দেওয়া তরুণীর ছবির এবং নামের কোনো মিল নাই। এমনকি একাউন্টটি খোলা হয়ে ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলে। মূল আইডি কার্ড যাচাই এবং তার মালিকের সাথে কথা বলে বাংলাফ্যাক্ট এই ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে।
সম্প্রতি ‘Niave Sarae’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অনুশোচনামূলক পোস্ট করা হয়| পোস্টদাতার পরিচয়, সংযুক্ত আইডি কার্ডের ছবি সম্পূর্ণ ভুয়া হওয়া সত্বেও অনেকে তা শেয়ার দিচ্ছেন। অথচ মূল আইডি কার্ডের নম্বর ও ছবির সাথে পোস্টে যে তরুণীর ছবি দেওয়া হয়েছে তার কোনো মিল নাই। মূল আইডি কার্ড এবং তার স্বত্বাধিকারীর সাথে কথা বলে এবং মূল ছবির সাথে তুলনা করে বাংলা ফ্যাক্ট এই ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে। এমনকি কথিত ‘Niave Sarae’ একাউন্টটিও জুলাইয়ের সময়কার নয়। এমনকি এটি খোলা হয়ে ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্রীর আইডি কার্ডের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তার সাথে পোস্টদাতার নামের কোনো মিল নাই। পোস্টদাতা নিজেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এলএলবি) ব্যাচেলর অব ল'-এর শিক্ষার্থী দাবি করলেও আইডি কার্ডের নম্বরধারী ছাত্রী ভিন্ন একজন ব্যক্তি, ‘Niave Sarae’র নন। এমনকি একাধিক এআই যাচাইকরণ টুল ব্যবহার করে দেখা যায়, পতাকা হাতে জুলাইয়ের তরুণী বলে চালানো ছবি দুটিও এআই দিয়ে মডিফায়েড।
পোস্টে থাকা আইডি কার্ডটির বিষয়ে অনুসন্ধান চালায় ‘বাংলাফ্যাক্ট’। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রী মূল আইডি কার্ডের ছবিটি পোস্ট করেছিলেন। বাংলা ফ্যাক্টকে তিনি জানান, গত ১৪ মে তারিখে তাঁর এক সহকর্মী রাস্তায় আইডি কার্ডটি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। কার্ডটি প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিউনিটি গ্রুপে তিনি কার্ডটির ছবি পোস্ট করেন। আইডিকার্ডের মালিকের সন্ধান পাওয়ার পর তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দেন।
বাংলাফ্যাক্ট মূল আইডি কার্ডের ছবিটি সংগ্রহ করে। মেটাডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছবিটি ১৪ মে তারিখেই তোলা হয়েছিল। তবে, ভাইরাল হওয়া পোস্টের ছবির সাথে মূল ছবির কিছু তথ্যের মিল থাকলেও, কার্ডে থাকা নামটি ‘Niave Sarae’ নয়। অর্থাৎ ভিন্ন একজন তরুণীর কার্ডের ছবি বিকৃত করে ভাইরাল পোস্টটি বানানো হয়েছে।
সুতরাং, নকল পরিচয়ে ভুল ছবি দিয়ে জুলাই বিরোধী বয়ানটিও কোনো জুলাই আন্দোলনকারীর নয়।
Topics:
Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট
সীতাকুণ্ডে মহিলা মাদরাসায় সন্ত্রাসী হামলার দাবিটি মিথ্যা, ভিডিওটি ইয়েমেনের
শিক্ষার্থী ধর্ষণের দাবিতে ছড়ানো ছবিগুলো ভিন্ন ঘটনার ও পুরোনো
সেন্টমার্টিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি দাবি করে ছড়ানো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়ায় এক পুলিশ সদস্যকে আটক করার দাবিটি অসত্য
খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ধর্ষণকারীসহ দুজন নিহতের দাবিটি মিথ্যা, ভিডিওটি গতবছরের
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের গণগ্রেপ্তারের দাবিতে অপপ্রচার
বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির প্রতিবাদে পাম্পে অগ্নিসংযোগ দাবি করে পুরনো ভিডিও প্রচার
সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ও পুরোনো ভিডিও প্রচার
গণভোটের গাণিতিক বিশ্লেষণের দাবিতে
আব্দুর নূর তুষারের ভুল তথ্য প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
এবার ব্র্যাক শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড জালিয়াতি করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে মিথ্যা বয়ান প্রচার
২ জুন ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অনুশোচনামূলক পোস্টদাতা ‘Niave Sarae’-র দাবি সত্য নয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর আইডি কার্ডের নম্বর ও ছবির সাথে পোস্টে দেওয়া তরুণীর ছবির এবং নামের কোনো মিল নাই। এমনকি একাউন্টটি খোলা হয়ে ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলে। মূল আইডি কার্ড যাচাই এবং তার মালিকের সাথে কথা বলে বাংলাফ্যাক্ট এই ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে।
সম্প্রতি ‘Niave Sarae’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অনুশোচনামূলক পোস্ট করা হয়| পোস্টদাতার পরিচয়, সংযুক্ত আইডি কার্ডের ছবি সম্পূর্ণ ভুয়া হওয়া সত্বেও অনেকে তা শেয়ার দিচ্ছেন। অথচ মূল আইডি কার্ডের নম্বর ও ছবির সাথে পোস্টে যে তরুণীর ছবি দেওয়া হয়েছে তার কোনো মিল নাই। মূল আইডি কার্ড এবং তার স্বত্বাধিকারীর সাথে কথা বলে এবং মূল ছবির সাথে তুলনা করে বাংলা ফ্যাক্ট এই ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে। এমনকি কথিত ‘Niave Sarae’ একাউন্টটিও জুলাইয়ের সময়কার নয়। এমনকি এটি খোলা হয়ে ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্রীর আইডি কার্ডের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তার সাথে পোস্টদাতার নামের কোনো মিল নাই। পোস্টদাতা নিজেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এলএলবি) ব্যাচেলর অব ল'-এর শিক্ষার্থী দাবি করলেও আইডি কার্ডের নম্বরধারী ছাত্রী ভিন্ন একজন ব্যক্তি, ‘Niave Sarae’র নন। এমনকি একাধিক এআই যাচাইকরণ টুল ব্যবহার করে দেখা যায়, পতাকা হাতে জুলাইয়ের তরুণী বলে চালানো ছবি দুটিও এআই দিয়ে মডিফায়েড।
পোস্টে থাকা আইডি কার্ডটির বিষয়ে অনুসন্ধান চালায় ‘বাংলাফ্যাক্ট’। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রী মূল আইডি কার্ডের ছবিটি পোস্ট করেছিলেন। বাংলা ফ্যাক্টকে তিনি জানান, গত ১৪ মে তারিখে তাঁর এক সহকর্মী রাস্তায় আইডি কার্ডটি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। কার্ডটি প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিউনিটি গ্রুপে তিনি কার্ডটির ছবি পোস্ট করেন। আইডিকার্ডের মালিকের সন্ধান পাওয়ার পর তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দেন।
বাংলাফ্যাক্ট মূল আইডি কার্ডের ছবিটি সংগ্রহ করে। মেটাডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছবিটি ১৪ মে তারিখেই তোলা হয়েছিল। তবে, ভাইরাল হওয়া পোস্টের ছবির সাথে মূল ছবির কিছু তথ্যের মিল থাকলেও, কার্ডে থাকা নামটি ‘Niave Sarae’ নয়। অর্থাৎ ভিন্ন একজন তরুণীর কার্ডের ছবি বিকৃত করে ভাইরাল পোস্টটি বানানো হয়েছে।
সুতরাং, নকল পরিচয়ে ভুল ছবি দিয়ে জুলাই বিরোধী বয়ানটিও কোনো জুলাই আন্দোলনকারীর নয়।