| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
মাদারীপুরে মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করায় তিন যুবলীগ কর্মী হত্যার দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো
১৮ আগস্ট ২০২৫
মাদারীপুরে গত ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে তিন যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরিহিত তিনজনের উপস্থিতিতে দুটি ভ্যানে করে মানবদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভ্যানের পেছনে বেশ কয়েকজন হেঁটে যাচ্ছিল।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ১৫ আগস্টের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ৮ মার্চ মাদারীপুরে অবৈধ বালু ব্যবসার দখল এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরে আপন দুই ভাই এবং তাদের এক চাচাতো ভাইকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে হত্যা করে। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
আলোচিত ভিডিওটি থেকে কিছু স্থিরচিত্র নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ৮ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন মাদারীপুরে অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং বাড়িঘরে আগুন দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তখন দুজনকে আটক করে।
এসব তথ্যসূত্রে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে চলতি বছরের ৮ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের সরদার বাড়িতে ৮ মার্চ বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন দুই ভাই ও তাদের চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেন। নিহত তিন ভাই হলেন আতাউর রহমান সরদার ওরফে আতাবুর (৩৫), সাইফুল ইসলাম ওরফে হিটার সাইফুল (৩০) এবং তাঁদের চাচাতো ভাই পলাশ সরদার। সাইফুল খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
তাছাড়া, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে মাদারীপুরে গত ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করায় তিন যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট মাদারীপুর জেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গণভোজের আয়োজন করলে সেখান থেকে দুই নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করার তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে।
অর্থাৎ, ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিওকে গত ১৫ আগস্ট মাদারীপুরে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করায় সন্ত্রাসীরা প্রকশ্যে তিন যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার দৃশ্য দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র: এখানে, এখানে
Topics:
যশোরে ঈদে ছাত্রলীগ নেতা বাড়িতে ফিরলে বিএনপি কর্মীরা মারধর করে- এই দাবিটি অসত্য, ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
এডিটেড ছবি দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার
বৈছাআ সমন্বয়ক নীলিমার ওপর যুবদলের হামলার দাবিটি মিথ্যা, ভিডিওটি ভারতের
চুরির অভিযোগে ভিন্ন নারীর চুল কাটার ঘটনায় বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার
মাশরাফি গ্রেফতার হননি, ছবিটি এআই-সৃষ্ট
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সামরিক ও জুনিয়র অফিসারবৃন্দ” নামে একটি কথিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক নয়, শেখ হাসিনার এই ভিডিওটি ২০১৬ সালের
Election Watch Bangladesh কোনো সরকারি ওয়েবসাইট নয়
‘দ্রুতই আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম সচল করা হবে’ বলে মন্তব্য করেননি মির্জা ফখরুল
ফ্যাক্ট চেক
মাদারীপুরে মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করায় তিন যুবলীগ কর্মী হত্যার দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো
১৮ আগস্ট ২০২৫
মাদারীপুরে গত ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে তিন যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরিহিত তিনজনের উপস্থিতিতে দুটি ভ্যানে করে মানবদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভ্যানের পেছনে বেশ কয়েকজন হেঁটে যাচ্ছিল।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ১৫ আগস্টের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ৮ মার্চ মাদারীপুরে অবৈধ বালু ব্যবসার দখল এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরে আপন দুই ভাই এবং তাদের এক চাচাতো ভাইকে প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে হত্যা করে। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
আলোচিত ভিডিওটি থেকে কিছু স্থিরচিত্র নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ৮ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন মাদারীপুরে অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং বাড়িঘরে আগুন দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তখন দুজনকে আটক করে।
এসব তথ্যসূত্রে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে চলতি বছরের ৮ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের সরদার বাড়িতে ৮ মার্চ বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন দুই ভাই ও তাদের চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেন। নিহত তিন ভাই হলেন আতাউর রহমান সরদার ওরফে আতাবুর (৩৫), সাইফুল ইসলাম ওরফে হিটার সাইফুল (৩০) এবং তাঁদের চাচাতো ভাই পলাশ সরদার। সাইফুল খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
তাছাড়া, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে মাদারীপুরে গত ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করায় তিন যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট মাদারীপুর জেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গণভোজের আয়োজন করলে সেখান থেকে দুই নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করার তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে।
অর্থাৎ, ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিওকে গত ১৫ আগস্ট মাদারীপুরে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করায় সন্ত্রাসীরা প্রকশ্যে তিন যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার দৃশ্য দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র: এখানে, এখানে