| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
ডিপফেইক ভিডিও তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে আওয়ামী লীগের অপপ্রচার
১৩ নভেম্বর ২০২৫
সহিংস কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি, আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা পেজগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির সাফল্য ও জনসম্পৃক্ততা প্রমাণে সক্রিয়। তারা উসকানি দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ভিডিও এবং এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বিকৃত করে তৈরি করা ভুয়া কনটেন্ট ব্যাপকভাবে প্রচার করছে। এসব প্রোপাগান্ডায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ডিপফেইক ভিডিও তৈরি করেও প্রচার করা হয়েছে। এমন তিনটি ডিপফেইক ভিডিও 'বাংলাফ্যাক্ট'- দেখতে পেয়েছে।
যেমন, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলীর একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, “আমরা বিএনপির একজনকে বাসে আগুন দেওয়ার সময় আটক করেছি। তারা আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর জন্য এইসব করছে। সকল বাস ও ট্রাক সমিতির মালিকদের অনুরোধ করছি, দয়া করে তেরো তারিখে আপনাদের যানবাহন বন্ধ রাখুন।”
আর একটি ভিডিওত একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শুনা যায়, “ আমাদের কাছে খবর আছে এখন পর্যন্ত পঞ্চাশ জনেরও বেশি সমন্বয়ক পদত্যাগ করেছে এবং তারা আওয়ামী লীগের লকডাউন সমর্থন জানিয়েছে। আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছি, আগামীকাল ১৩ তারিখ বিএনপি এবং শিবির যানবাহনে আগুন দেবে এবং এর দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর চাপাবে।”
অপর একটি ভিডিওতে একজন র্যাবের সদস্যকে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান একাত্তর টিভিতে সাক্ষাৎকার দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে সেই র্যাব সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘১০টার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা বিএনপি ও শিবিরে কর্মীদের আমরা গাড়িতে আগুন লাগানোর সময় গ্রেপ্তার করেছি, তারা দুইটা বাসে আগুন দিয়েছে…”
তবে যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওটিগুলো আসল নয়, এআই এর সাহায্যে সম্পাদিত। এগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার ভিডিও থেকে এআই এর সাহায্যে বিকৃত করে তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।
প্রথম ভিডিও যাচাই:
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলীর এমন কোনো মন্তব্য মূল ধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, পর্যবেক্ষণে ভিডিওটিতে ডিএমপি কমিশনারের মুখমণ্ডল ও অভিব্যক্তিতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। এগুলো সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিবর্তিত বা তৈরি ভিডিওতে দেখা যায়।
এছাড়াও, ভিডিওটিতে ‘Veo’ জলছাপ দেখতে পাওয়া যায়। ভিও হলো একটি এআই প্রযুক্তির ভিডিও তৈরির একটি মডেল।
তবে চ্যানেল ২৪ (Channel 24)-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১১ নভেম্বর ‘বাসে আগুন দেওয়া অবস্থায় গ্রেপ্তার; ব্যাগে মিলল যা’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির সাথে ডিএমপি কমিশনারের কথিত ভিডিওর উপাদানের সাদৃশ্য লক্ষ করা গেলেও, আলোচিত ভিডিওতে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ডিএমপি কমিশনারের কণ্ঠের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওতে থাকা কণ্ঠের মিল নেই। এছাড়া, চ্যানেল ২৪-এর লোগোও বিকৃত দেখতে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, এটা নিশ্চিত যে আলোচিত ভিডিওটি ডিএমপি কমিশনারের ভিন্ন একটি ভিডিও থেকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে তৈরি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ভিডিও যাচাই:
এই ভিডিওটি সম্পর্কেও কোনো তথ্য মূল ধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পর্যবেক্ষণে এই ভিডিওটিতেও পুলিশের মুখমণ্ডল ও অভিব্যক্তিতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। এগুলো সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিবর্তিত বা তৈরি ভিডিওতে দেখা যায়।
তবে, আলোচিত ভিডিওটির ফুটেজের সাথে মিল আছে এমন একটি ভিডিও মূল ধারার গণমাধ্যম একুশে টিভির ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ‘ঢাকা-রাজশাহী বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সাভার থেকে ৩ জন গ্রেপ্তার’ শিরোনামে খুঁজে পাওয়া যায়।
এই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাভার থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য জানাচ্ছেন। কিন্তু মূল ভিডিওটিতে আলোচিত মন্তব্যটি পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, এটা নিশ্চিত যে আলোচিত ভিডিওটি পুরোনো ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিও বা ছবি থেকে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বিকৃত করে তৈরি করা হয়েছে।
তৃতীয় ভিডিও যাচাই:
ভিডিওতে থাকা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘একাত্তর টিভি’র লোগোর সূত্রে অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটিরর ফেসবুক পেজে গতকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ৫৬ সেকেন্ড টাইমস্ট্যাম্পে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে র্যাবের ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘তথ্য ছিল বেশ কিছু দুর্বৃত্তরা আজ রাতে মোহাম্মদপুরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল এলাকায় তারা নাশকতা চেষ্টা করার পরিকল্পনা করছে। এখানে কিছু দুর্বৃত্ত ছিল। সেই খবর পেয়ে এখানে আসা। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা এখান থেকে ৩-৪ জন পালিয়ে যায়। পরে আমরা ঘটনাস্থল থেকে ৬টি পেট্রোল বোমা ও ৪টি ককটেল বোমা উদ্ধার করি।’
তবে এই প্রতিবেদনের কোথাও র্যাব সদস্যকে ‘১০টার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা বিএনপি ও শিবিরে কর্মীদের আমরা গাড়িতে আগুন লাগানোর সময় গ্রেপ্তার করেছি, তারা দুইটা বাসে আগুন দিয়েছে…” এমন মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতেও র্যাবের মুখমণ্ডল ও অভিব্যক্তি এবং পেছনের দুই ব্যাক্তির অঙ্গভঙ্গির সঙ্গের এই প্রতিবেদনের দৃশ্যের একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। এসব অসঙ্গতি দেখে ধারণা করা যাচ্ছে এই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই- এর সাহায্যে পরিবর্তন করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে র্যাব সদস্যের এমন কোনো মন্তব্য মূল ধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন বক্তব্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই- এর সাহায্যে বিকৃত করে ভিন্ন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যা মিথ্যা।
Topics:
ফটোকার্ড নকল করে ঢাকায় নিযুক্ত বর্তমান জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
এনসিপি নেত্রী মাহমুদা মিতুকে জড়িয়ে কালের কণ্ঠের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার
একাত্তর টিভির ফটোকার্ড নকল করে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
বাংলাদেশের ভূমিকম্পের ঘটনায় পুরোনো ও এআই-সৃষ্ট দৃশ্যের প্রচার
হাসিনা-জয়ের মন্তব্যকে রয়টার্সের বলে প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
ফ্যাক্ট চেক
ডিপফেইক ভিডিও তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে আওয়ামী লীগের অপপ্রচার
১৩ নভেম্বর ২০২৫
সহিংস কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি, আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা পেজগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির সাফল্য ও জনসম্পৃক্ততা প্রমাণে সক্রিয়। তারা উসকানি দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ভিডিও এবং এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বিকৃত করে তৈরি করা ভুয়া কনটেন্ট ব্যাপকভাবে প্রচার করছে। এসব প্রোপাগান্ডায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ডিপফেইক ভিডিও তৈরি করেও প্রচার করা হয়েছে। এমন তিনটি ডিপফেইক ভিডিও 'বাংলাফ্যাক্ট'- দেখতে পেয়েছে।
যেমন, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলীর একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, “আমরা বিএনপির একজনকে বাসে আগুন দেওয়ার সময় আটক করেছি। তারা আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর জন্য এইসব করছে। সকল বাস ও ট্রাক সমিতির মালিকদের অনুরোধ করছি, দয়া করে তেরো তারিখে আপনাদের যানবাহন বন্ধ রাখুন।”
আর একটি ভিডিওত একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শুনা যায়, “ আমাদের কাছে খবর আছে এখন পর্যন্ত পঞ্চাশ জনেরও বেশি সমন্বয়ক পদত্যাগ করেছে এবং তারা আওয়ামী লীগের লকডাউন সমর্থন জানিয়েছে। আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছি, আগামীকাল ১৩ তারিখ বিএনপি এবং শিবির যানবাহনে আগুন দেবে এবং এর দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর চাপাবে।”
অপর একটি ভিডিওতে একজন র্যাবের সদস্যকে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান একাত্তর টিভিতে সাক্ষাৎকার দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে সেই র্যাব সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘১০টার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা বিএনপি ও শিবিরে কর্মীদের আমরা গাড়িতে আগুন লাগানোর সময় গ্রেপ্তার করেছি, তারা দুইটা বাসে আগুন দিয়েছে…”
তবে যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওটিগুলো আসল নয়, এআই এর সাহায্যে সম্পাদিত। এগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার ভিডিও থেকে এআই এর সাহায্যে বিকৃত করে তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।
প্রথম ভিডিও যাচাই:
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলীর এমন কোনো মন্তব্য মূল ধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, পর্যবেক্ষণে ভিডিওটিতে ডিএমপি কমিশনারের মুখমণ্ডল ও অভিব্যক্তিতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। এগুলো সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিবর্তিত বা তৈরি ভিডিওতে দেখা যায়।
এছাড়াও, ভিডিওটিতে ‘Veo’ জলছাপ দেখতে পাওয়া যায়। ভিও হলো একটি এআই প্রযুক্তির ভিডিও তৈরির একটি মডেল।
তবে চ্যানেল ২৪ (Channel 24)-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১১ নভেম্বর ‘বাসে আগুন দেওয়া অবস্থায় গ্রেপ্তার; ব্যাগে মিলল যা’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির সাথে ডিএমপি কমিশনারের কথিত ভিডিওর উপাদানের সাদৃশ্য লক্ষ করা গেলেও, আলোচিত ভিডিওতে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ডিএমপি কমিশনারের কণ্ঠের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওতে থাকা কণ্ঠের মিল নেই। এছাড়া, চ্যানেল ২৪-এর লোগোও বিকৃত দেখতে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, এটা নিশ্চিত যে আলোচিত ভিডিওটি ডিএমপি কমিশনারের ভিন্ন একটি ভিডিও থেকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে তৈরি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ভিডিও যাচাই:
এই ভিডিওটি সম্পর্কেও কোনো তথ্য মূল ধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পর্যবেক্ষণে এই ভিডিওটিতেও পুলিশের মুখমণ্ডল ও অভিব্যক্তিতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। এগুলো সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিবর্তিত বা তৈরি ভিডিওতে দেখা যায়।
তবে, আলোচিত ভিডিওটির ফুটেজের সাথে মিল আছে এমন একটি ভিডিও মূল ধারার গণমাধ্যম একুশে টিভির ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ‘ঢাকা-রাজশাহী বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সাভার থেকে ৩ জন গ্রেপ্তার’ শিরোনামে খুঁজে পাওয়া যায়।
এই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাভার থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য জানাচ্ছেন। কিন্তু মূল ভিডিওটিতে আলোচিত মন্তব্যটি পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, এটা নিশ্চিত যে আলোচিত ভিডিওটি পুরোনো ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিও বা ছবি থেকে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বিকৃত করে তৈরি করা হয়েছে।
তৃতীয় ভিডিও যাচাই:
ভিডিওতে থাকা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘একাত্তর টিভি’র লোগোর সূত্রে অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটিরর ফেসবুক পেজে গতকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ৫৬ সেকেন্ড টাইমস্ট্যাম্পে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে র্যাবের ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘তথ্য ছিল বেশ কিছু দুর্বৃত্তরা আজ রাতে মোহাম্মদপুরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল এলাকায় তারা নাশকতা চেষ্টা করার পরিকল্পনা করছে। এখানে কিছু দুর্বৃত্ত ছিল। সেই খবর পেয়ে এখানে আসা। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা এখান থেকে ৩-৪ জন পালিয়ে যায়। পরে আমরা ঘটনাস্থল থেকে ৬টি পেট্রোল বোমা ও ৪টি ককটেল বোমা উদ্ধার করি।’
তবে এই প্রতিবেদনের কোথাও র্যাব সদস্যকে ‘১০টার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা বিএনপি ও শিবিরে কর্মীদের আমরা গাড়িতে আগুন লাগানোর সময় গ্রেপ্তার করেছি, তারা দুইটা বাসে আগুন দিয়েছে…” এমন মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতেও র্যাবের মুখমণ্ডল ও অভিব্যক্তি এবং পেছনের দুই ব্যাক্তির অঙ্গভঙ্গির সঙ্গের এই প্রতিবেদনের দৃশ্যের একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। এসব অসঙ্গতি দেখে ধারণা করা যাচ্ছে এই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই- এর সাহায্যে পরিবর্তন করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে র্যাব সদস্যের এমন কোনো মন্তব্য মূল ধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন বক্তব্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই- এর সাহায্যে বিকৃত করে ভিন্ন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যা মিথ্যা।