| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের গণগ্রেপ্তারের দাবিতে অপপ্রচার

১৮ এপ্রিল ২০২৫


সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের গণগ্রেপ্তারের দাবিতে অপপ্রচার
মিথ্যা

গত ১২ এপ্রিল ঢাকায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত হয় ‘মার্চ ফর গাজা’। কর্মসূচিতে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘শক্ত অবস্থান না নেওয়া’র অভিযোগ তুলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন তাঁর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করেন এবং ব্যঙ্গ করে অভিনয়ও করেন।

এই ঘটনার সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে সৌদি যুবরাজকে অবমাননার জেরে সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, সৌদি আরবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান নতুন নয়। ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচির অনেক আগেই দেশটি নিয়মিতভাবে এমন অভিযান চালিয়ে আসছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এ ধরনের অভিযানের সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অভিযানে শুধু বাংলাদেশিই নয়, বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরাও আটক হচ্ছেন। মূলত আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়—ওই এক সপ্তাহে মোট ২১,৫৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১৪,৬১০ জন আবাসন আইন, ২,৪৭০ জন শ্রম আইন এবং ৪,৪৫৭ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হন। একই সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক হন ৯৬৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ৩৮ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়—ওই এক সপ্তাহে সৌদি আরবে মোট ১৮,৬৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১,৮১৩ জন আবাসন আইন, ২,৪৯০ জন শ্রম আইন এবং ৪,৩৬৬ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হন। একই সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক হন ১,৪৯৭ জন, যাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ২৭ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক।

অর্থাৎ, সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের ‘গণগ্রেপ্তার’ করা হচ্ছে বলে প্রচারিত দাবিটি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।



Topics:



জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে হেয় করতে এআই-সৃষ্ট ছবি ব্যবহার
মিথ্যা
২২ জুন ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে হেয় করতে এআই-সৃষ্ট ছবি ব্যবহার

ইয়ামাহা শোরুমে হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের
বিভ্রান্তিকর
১৭ জুন ২০২৬

ইয়ামাহা শোরুমে হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের

নারী নির্যাতনলেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয়
মিথ্যা
১৭ জুন ২০২৬

নারী নির্যাতন
লেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয়

খুলনায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলি: দুইজন আহতের তথ্যকে নিহত বলে প্রচার করেছে ডেলটা লেন্স
বিভ্রান্তিকর
১৬ জুন ২০২৬

খুলনায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলি: 
দুইজন আহতের তথ্যকে নিহত বলে প্রচার করেছে ডেলটা লেন্স

কাশ্মীরের দৃশ্যকে ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যার ভিডিও বলে প্রচার
মিথ্যা
১৬ জুন ২০২৬

কাশ্মীরের দৃশ্যকে ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যার ভিডিও বলে প্রচার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের গণগ্রেপ্তারের দাবিতে অপপ্রচার

ফ্যাক্ট চেক

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের গণগ্রেপ্তারের দাবিতে অপপ্রচার

১৮ এপ্রিল ২০২৫

সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের গণগ্রেপ্তারের দাবিতে অপপ্রচার

গত ১২ এপ্রিল ঢাকায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত হয় ‘মার্চ ফর গাজা’। কর্মসূচিতে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘শক্ত অবস্থান না নেওয়া’র অভিযোগ তুলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন তাঁর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করেন এবং ব্যঙ্গ করে অভিনয়ও করেন।

এই ঘটনার সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে সৌদি যুবরাজকে অবমাননার জেরে সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, সৌদি আরবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান নতুন নয়। ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচির অনেক আগেই দেশটি নিয়মিতভাবে এমন অভিযান চালিয়ে আসছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এ ধরনের অভিযানের সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অভিযানে শুধু বাংলাদেশিই নয়, বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরাও আটক হচ্ছেন। মূলত আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়—ওই এক সপ্তাহে মোট ২১,৫৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১৪,৬১০ জন আবাসন আইন, ২,৪৭০ জন শ্রম আইন এবং ৪,৪৫৭ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হন। একই সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক হন ৯৬৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ৩৮ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়—ওই এক সপ্তাহে সৌদি আরবে মোট ১৮,৬৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১,৮১৩ জন আবাসন আইন, ২,৪৯০ জন শ্রম আইন এবং ৪,৩৬৬ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হন। একই সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক হন ১,৪৯৭ জন, যাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ২৭ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক।

অর্থাৎ, সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের ‘গণগ্রেপ্তার’ করা হচ্ছে বলে প্রচারিত দাবিটি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।