| ফ্যাক্ট চেক | জাতীয়

চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

২৩ এপ্রিল ২০২৬


চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার
মিথ্যা

'রাস্তায় চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করলে সাইবার আইনে হবে দ্রুত বিচার' - ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমন মন্তব্য করেছেন দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়ানো হচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এমন কোনো মন্তব্য করেননি। তাঁর ভিন্ন একটি মন্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, গত ২১ এপ্রিল সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।


মূলধারার গণমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে গত ২১ এপ্রিল ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে সাধারণ মানুষের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অপসংস্কৃতি রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নবপ্রণীত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী জানান, এই আইনের আওতায় যেকোনো অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে উল্লেখ করেছিলেন যে, বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে অনেকেই সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণ করে কুরুচিপূর্ণ শিরোনামে প্রচার করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিডিওর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এই ধরনের হয়রানি বন্ধে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বর্তমান আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 


মন্ত্রী জানান, গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর ২৫(১) ধারা মোতাবেক ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী যদি কোনো নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তবে সাজার পরিমাণ বেড়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ভিডিওর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করাকে ‘সাইবার প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করে ৫ বছরের জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


অনলাইনে ক্ষতিকর বা আপত্তিকর কন্টেন্ট দ্রুত অপসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালককে যেকোনো ক্ষতিকর তথ্য ব্লক বা সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিটিআরসির মাধ্যমে এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি চালানো এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তারের বিশেষ ক্ষমতাও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধীদের রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করতে ‘সোয়ার’ এবং ‘ইডিআর’-এর মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে বলে সংসদকে জানান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। এর ফলে ভিডিওর মূল উৎস এবং অপরাধীর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া যারা দেশের বাইরে অবস্থান করে এই ধরনের সাইবার অপরাধে লিপ্ত রয়েছেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২’ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা নেওয়া হবে।’

এছাড়া অন্যান্য গণমাধ্যম থেকেও এ বিষয়ে একই তথ্য জানা যায়। 


অর্থাৎ, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।







Topics:

ভুয়া

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে হেয় করতে এআই-সৃষ্ট ছবি ব্যবহার
মিথ্যা
২২ জুন ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে হেয় করতে এআই-সৃষ্ট ছবি ব্যবহার

ইয়ামাহা শোরুমে হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের
বিভ্রান্তিকর
১৭ জুন ২০২৬

ইয়ামাহা শোরুমে হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের

নারী নির্যাতনলেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয়
মিথ্যা
১৭ জুন ২০২৬

নারী নির্যাতন
লেনদেন নিয়ে মারধর, আ লীগ করা নিয়ে নয়

খুলনায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলি: দুইজন আহতের তথ্যকে নিহত বলে প্রচার করেছে ডেলটা লেন্স
বিভ্রান্তিকর
১৬ জুন ২০২৬

খুলনায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলি: 
দুইজন আহতের তথ্যকে নিহত বলে প্রচার করেছে ডেলটা লেন্স

কাশ্মীরের দৃশ্যকে ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যার ভিডিও বলে প্রচার
মিথ্যা
১৬ জুন ২০২৬

কাশ্মীরের দৃশ্যকে ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যার ভিডিও বলে প্রচার

আপনার মতামত দিন

এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?

এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!

0%

0%

আপনার মতামত শেয়ার করুন:

| মন্তব্য সমূহ:

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!



চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

ফ্যাক্ট চেক

চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

২৩ এপ্রিল ২০২৬

<p>চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার<br /></p>

'রাস্তায় চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করলে সাইবার আইনে হবে দ্রুত বিচার' - ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমন মন্তব্য করেছেন দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়ানো হচ্ছে। তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এমন কোনো মন্তব্য করেননি। তাঁর ভিন্ন একটি মন্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, গত ২১ এপ্রিল সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।


মূলধারার গণমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে গত ২১ এপ্রিল ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে সাধারণ মানুষের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অপসংস্কৃতি রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নবপ্রণীত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী জানান, এই আইনের আওতায় যেকোনো অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে উল্লেখ করেছিলেন যে, বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে অনেকেই সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণ করে কুরুচিপূর্ণ শিরোনামে প্রচার করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিডিওর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এই ধরনের হয়রানি বন্ধে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বর্তমান আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 


মন্ত্রী জানান, গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর ২৫(১) ধারা মোতাবেক ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী যদি কোনো নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তবে সাজার পরিমাণ বেড়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ভিডিওর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করাকে ‘সাইবার প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করে ৫ বছরের জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


অনলাইনে ক্ষতিকর বা আপত্তিকর কন্টেন্ট দ্রুত অপসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালককে যেকোনো ক্ষতিকর তথ্য ব্লক বা সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিটিআরসির মাধ্যমে এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি চালানো এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তারের বিশেষ ক্ষমতাও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধীদের রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করতে ‘সোয়ার’ এবং ‘ইডিআর’-এর মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে বলে সংসদকে জানান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। এর ফলে ভিডিওর মূল উৎস এবং অপরাধীর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া যারা দেশের বাইরে অবস্থান করে এই ধরনের সাইবার অপরাধে লিপ্ত রয়েছেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২’ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা নেওয়া হবে।’

এছাড়া অন্যান্য গণমাধ্যম থেকেও এ বিষয়ে একই তথ্য জানা যায়। 


অর্থাৎ, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।