| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
নাহিদ ইসলামের নামে ছড়ানো ডোমিনিকান পাসপোর্টের ছবিটি ভুয়া
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে গতকাল রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) একই আসনের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ রিট করেছেন।
রিটে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে রাতারাতি কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি তা গোপন করেন, যা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(গ) সরাসরি লঙ্ঘন। সংবিধানের ৬৬(২) (গ) অনুযায়ী তিনি নির্বাচনের অযোগ্য। তাই বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। নাহিদ ইসলাম ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাসপোর্টের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, নাহিদ ইসলাম ডোমিনিকান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন দাবি করে ছড়ানো পাসপোর্টের ছবিটি ভুয়া। আসলে প্রযুক্তির সাহায্যে ডোমিনিকান একটি নমুনা পাসপোর্ট সম্পাদনা করে সেখানে নাহিদ ইসলামের ছবি ও ভিন্ন স্বাক্ষর যুক্ত করে ছড়িয়ে পড়া পাসপোর্টটি বানানো হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণ:
পাসপোর্টের নিচের দিকের দুই লাইনের কোডকে বলা হয় MRZ। এই কোডের দ্বিতীয় লাইনে পাসপোর্ট নম্বর, চেক ডিজিট, জাতীয়তা, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ এবং পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে থাকে।
ছড়িয়ে পড়া পাসপোর্টের ছবিতে MRZ এর দ্বিতীয় লাইনটি হলো: RA015308<0DMA5623019M6530185<<<<<<<<<<<<<<32
কিন্তু বিশ্লেষণে এই দ্বিতীয় লাইনে দুটি বড় ভুল বা অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন, পাসপোর্টের মূল অংশে জন্ম তারিখ দেওয়া আছে ২৮ এপ্রিল ১৯৯৮। নিয়ম অনুযায়ী এটি হওয়ার কথা ছিল 980428 (বছর-মাস-দিন)। কিন্তু ভাইরাল ছবিটিতে সেখানে লেখা আছে 562301।
এছাড়াও, পাসপোর্ট অনুযায়ী এর মেয়াদ শেষ হবে ২০৩৫ সালের ০৯ এপ্রিল। নিয়ম মেনে নিচের কোডে এটি হওয়ার কথা ছিল 350409। কিন্তু সেখানে অদ্ভূতভাবে লেখা আছে 653018।
ছবিটি যেভাবে তৈরি:
ছড়িয়ে পড়া এই পাসপোর্টটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে সে বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Paulo Travels’ নামক একটি ওয়েবসাইটে ডোমিনিকার একটি পাসপোর্টের নমুনা ছবি দেখতে পাওয়া যায়। ছবিটিতে ক্লিক করলে ‘pretempl’ নামক একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়, যেখানে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্রের এডিটযোগ্য টেমপ্লেট (PSD ফাইল) বিক্রি করতে দেখা যায়। ওয়েবসাইটটিতে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের এমন অসংখ্য টেম্পলেট রয়েছে। এ ছাড়াও, ‘uruperu’ নামক ওয়েবসাইটে নমুনা পাসপোর্টির আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। ওই নমুনা পাসপোর্টে ডোমিনিকার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার যে স্বাক্ষরটি রয়েছে, নাহিদ ইসলামের নামে ছড়ানো পাসপোর্টটিতেও হুবহু একই স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে।
অর্থাৎ, এটিও নিশ্চিত যে ছড়ানো ছবিটি নমুনা পাসপোর্ট সম্পদানা বা এডিটযোগ্য টেমপ্লেট (PSD ফাইল) নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
অতএব, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।
Topics:
ভারতের স্কুলের ভিডিওকে কুমিল্লার দাবি করে বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার
ভারতের ঘটনাকে দোকানদারের ওপরে চাঁদার দাবিতে যুবদল নেতার হামলা দাবি করে প্রচার
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংঘর্ষ দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটি পাকিস্তানের
‘নতুন করে দেশ সংস্কারে শেখ হাসিনাকে দরকার’- এমন মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করেননি
ভারতের বিহারে মেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধারের ভিডিওকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এক শিশুকে ধর্ষণের পর
গলা কেটে হত্যার দাবি করে প্রচার
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
| আরও পড়ুন
বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ ভোটারের আওয়ামী লীগকে পছন্দ করার দাবিটি মিথ্যা
রায় প্রত্যাখ্যান করে ১০০১ শিক্ষকের বিবৃতি
অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই বিবৃতিতে নাম ব্যবহারের অভিযোগ
বিজয় দিবসে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা জানানোর ভিডিওটি ২০২১ সালের
আওয়ামী লীগ রাজপথে নেমে গেছে দাবি করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিডিও প্রচার
ফ্যাক্ট চেক
নাহিদ ইসলামের নামে ছড়ানো ডোমিনিকান পাসপোর্টের ছবিটি ভুয়া
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে গতকাল রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) একই আসনের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ রিট করেছেন।
রিটে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে রাতারাতি কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি তা গোপন করেন, যা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(গ) সরাসরি লঙ্ঘন। সংবিধানের ৬৬(২) (গ) অনুযায়ী তিনি নির্বাচনের অযোগ্য। তাই বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। নাহিদ ইসলাম ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাসপোর্টের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, নাহিদ ইসলাম ডোমিনিকান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন দাবি করে ছড়ানো পাসপোর্টের ছবিটি ভুয়া। আসলে প্রযুক্তির সাহায্যে ডোমিনিকান একটি নমুনা পাসপোর্ট সম্পাদনা করে সেখানে নাহিদ ইসলামের ছবি ও ভিন্ন স্বাক্ষর যুক্ত করে ছড়িয়ে পড়া পাসপোর্টটি বানানো হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণ:
পাসপোর্টের নিচের দিকের দুই লাইনের কোডকে বলা হয় MRZ। এই কোডের দ্বিতীয় লাইনে পাসপোর্ট নম্বর, চেক ডিজিট, জাতীয়তা, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ এবং পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে থাকে।
ছড়িয়ে পড়া পাসপোর্টের ছবিতে MRZ এর দ্বিতীয় লাইনটি হলো: RA015308<0DMA5623019M6530185<<<<<<<<<<<<<<32
কিন্তু বিশ্লেষণে এই দ্বিতীয় লাইনে দুটি বড় ভুল বা অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন, পাসপোর্টের মূল অংশে জন্ম তারিখ দেওয়া আছে ২৮ এপ্রিল ১৯৯৮। নিয়ম অনুযায়ী এটি হওয়ার কথা ছিল 980428 (বছর-মাস-দিন)। কিন্তু ভাইরাল ছবিটিতে সেখানে লেখা আছে 562301।
এছাড়াও, পাসপোর্ট অনুযায়ী এর মেয়াদ শেষ হবে ২০৩৫ সালের ০৯ এপ্রিল। নিয়ম মেনে নিচের কোডে এটি হওয়ার কথা ছিল 350409। কিন্তু সেখানে অদ্ভূতভাবে লেখা আছে 653018।
ছবিটি যেভাবে তৈরি:
ছড়িয়ে পড়া এই পাসপোর্টটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে সে বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Paulo Travels’ নামক একটি ওয়েবসাইটে ডোমিনিকার একটি পাসপোর্টের নমুনা ছবি দেখতে পাওয়া যায়। ছবিটিতে ক্লিক করলে ‘pretempl’ নামক একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়, যেখানে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্রের এডিটযোগ্য টেমপ্লেট (PSD ফাইল) বিক্রি করতে দেখা যায়। ওয়েবসাইটটিতে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের এমন অসংখ্য টেম্পলেট রয়েছে। এ ছাড়াও, ‘uruperu’ নামক ওয়েবসাইটে নমুনা পাসপোর্টির আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। ওই নমুনা পাসপোর্টে ডোমিনিকার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার যে স্বাক্ষরটি রয়েছে, নাহিদ ইসলামের নামে ছড়ানো পাসপোর্টটিতেও হুবহু একই স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে।
অর্থাৎ, এটিও নিশ্চিত যে ছড়ানো ছবিটি নমুনা পাসপোর্ট সম্পদানা বা এডিটযোগ্য টেমপ্লেট (PSD ফাইল) নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
অতএব, আলোচিত দাবিটি মিথ্যা।