| ফ্যাক্ট চেক | রাজনীতি
ঢাকায় মার্কিন কূটনীতিকের বাসায় হাসিনার ‘রেজিম চেঞ্জের’ পরিকল্পনা তৈরির ভুয়া দাবি
১৯ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন কূটনীতিকের ঢাকার বাসভবনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের রেজিম চেঞ্জের পরিকল্পনার অংশ তৈরি করা হয়েছিল- এমন দাবি করে একটি তথ্য ‘দিনপত্র (ফেসবুক)’ ও ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে দুইটি কথিত পোর্টালের ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ছবিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ এশিয়ার সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু-এর ছবি রয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সত্য নয়। মূলত, কোনো প্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ও প্রমাণ ছাড়াই এই দাবিটি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রোপাগান্ডা ও বয়ান প্রচারের হাতিয়ার ‘দিনপত্র’ ও ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে দুইটি কথিত পোর্টাল এবং ভারতীয় গণমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’ থেকে প্রচার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলো পড়ে দেখা যায়, এতে বিশ্বাসযোগ্য কিংবা যাচাইযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি। তবে কিছু জায়গায় ‘নর্থইস্ট নিউজের হাতে আসা নথি’ বা ‘জানা যায়’-এর মতো কিছু অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেশিয় ও আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমেও এসব তথ্য ও দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দিনপত্রের নিউজটিতে রিপোর্টারের নাম ‘এনায়েত কবীর’ লেখা আছে। এর সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড গুগলে সার্চ করে ভারতীয় গণমাধ্যম নর্থ ইস্ট নিউজের ওয়েবসাইটে ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত একই তথ্যে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এটির লেখকও এনায়েত কবীর। এই প্রতিবেদনটিতেও বিশ্বাসযোগ্য কিংবা যাচাইযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি। আদতে, দিনপত্র ও নর্থ ইস্ট নিউজের লেখা একই।
এর আগেও ভারতীয় গণমাধ্যম নর্থ ইস্ট নিউজে কোনোরকম সূত্রের বরাত ছাড়া অসত্য প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তা শনাক্ট করে বাংলাফ্যাক্ট। গত বছর জুনের ১৯ তারিখ চন্দন নন্দী নর্থ ইস্ট নিউজে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করেন, বাংলাদেশের সাবেক সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ‘ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য চলতি মাসের ৬ থেকে ১৭ জুন চীন সফর করেছেন’। এই প্রতিবেদনেও কোনোরকম সূত্রের বরাত উল্লেখ করা হয়নি। রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী তখন দৈনিক আমার দেশকে জানিয়েছিলেন, মুক্তি পাওয়ার পর তিনি অন্য কোনো দেশে ভ্রমণই করেননি।
অপরদিকে ‘দিনপত্র’ ও ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে দুইটি কথিত পোর্টালকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রোপাগান্ডা ও বয়ান প্রচারের হাতিয়ার হিসেবেও চিহ্নিত করে বাংলাফ্যাক্ট। দুটি পোর্টাল থেকে নিয়মিত ছড়ানো ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করে তা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বাংলাফ্যাক্ট। প্রতিবেদনগুলো পড়ুন এখানে ও এখানে।
অর্থাৎ, মার্কিন কূটনীতিকের ঢাকার বাসভবনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের রেজিম চেঞ্জের পরিকল্পনার অংশ তৈরি করা হয়েছিল- এমন দাবি করে ‘দিনপত্র (ফেসবুক)’ ও ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে দুইটি কথিত পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য ও দাবিটি অসত্য।
তথ্যসূত্র
BanglaFact’s own analysis
Topics:
Bangla Fact banglafact বাংলা ফ্যাক্ট
হাসিনা-পুতিনের বৈঠকের ছবিটি সাম্প্রতিক নয়, ২০১৩ সালের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয়ে ছাত্রদের প্রবেশের দাবিটি মিথ্যা, ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৫ সালের
‘বিশ্বব্যাপী যখন বোয়িংয়ের সঙ্কট শুরু হবে, তখন সুযোগ বুঝে আমরা এগুলোকে বেশি দামে বিক্রি করে দেব’ বলে মন্তব্য করেননিরুহুল কবির রিজভী
দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার ভিডিওটি ২০১৯ সালের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ছবিটি আসল
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
ফ্যাক্ট চেক
ঢাকায় মার্কিন কূটনীতিকের বাসায় হাসিনার ‘রেজিম চেঞ্জের’ পরিকল্পনা তৈরির ভুয়া দাবি
১৯ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন কূটনীতিকের ঢাকার বাসভবনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের রেজিম চেঞ্জের পরিকল্পনার অংশ তৈরি করা হয়েছিল- এমন দাবি করে একটি তথ্য ‘দিনপত্র (ফেসবুক)’ ও ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে দুইটি কথিত পোর্টালের ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ছবিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ এশিয়ার সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু-এর ছবি রয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সত্য নয়। মূলত, কোনো প্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ও প্রমাণ ছাড়াই এই দাবিটি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রোপাগান্ডা ও বয়ান প্রচারের হাতিয়ার ‘দিনপত্র’ ও ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে দুইটি কথিত পোর্টাল এবং ভারতীয় গণমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’ থেকে প্রচার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলো পড়ে দেখা যায়, এতে বিশ্বাসযোগ্য কিংবা যাচাইযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি। তবে কিছু জায়গায় ‘নর্থইস্ট নিউজের হাতে আসা নথি’ বা ‘জানা যায়’-এর মতো কিছু অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেশিয় ও আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমেও এসব তথ্য ও দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দিনপত্রের নিউজটিতে রিপোর্টারের নাম ‘এনায়েত কবীর’ লেখা আছে। এর সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড গুগলে সার্চ করে ভারতীয় গণমাধ্যম নর্থ ইস্ট নিউজের ওয়েবসাইটে ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত একই তথ্যে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এটির লেখকও এনায়েত কবীর। এই প্রতিবেদনটিতেও বিশ্বাসযোগ্য কিংবা যাচাইযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি। আদতে, দিনপত্র ও নর্থ ইস্ট নিউজের লেখা একই।
এর আগেও ভারতীয় গণমাধ্যম নর্থ ইস্ট নিউজে কোনোরকম সূত্রের বরাত ছাড়া অসত্য প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তা শনাক্ট করে বাংলাফ্যাক্ট। গত বছর জুনের ১৯ তারিখ চন্দন নন্দী নর্থ ইস্ট নিউজে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করেন, বাংলাদেশের সাবেক সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ‘ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য চলতি মাসের ৬ থেকে ১৭ জুন চীন সফর করেছেন’। এই প্রতিবেদনেও কোনোরকম সূত্রের বরাত উল্লেখ করা হয়নি। রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী তখন দৈনিক আমার দেশকে জানিয়েছিলেন, মুক্তি পাওয়ার পর তিনি অন্য কোনো দেশে ভ্রমণই করেননি।
অপরদিকে ‘দিনপত্র’ ও ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে দুইটি কথিত পোর্টালকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রোপাগান্ডা ও বয়ান প্রচারের হাতিয়ার হিসেবেও চিহ্নিত করে বাংলাফ্যাক্ট। দুটি পোর্টাল থেকে নিয়মিত ছড়ানো ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করে তা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বাংলাফ্যাক্ট। প্রতিবেদনগুলো পড়ুন এখানে ও এখানে।
অর্থাৎ, মার্কিন কূটনীতিকের ঢাকার বাসভবনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের রেজিম চেঞ্জের পরিকল্পনার অংশ তৈরি করা হয়েছিল- এমন দাবি করে ‘দিনপত্র (ফেসবুক)’ ও ‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামে দুইটি কথিত পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য ও দাবিটি অসত্য।
তথ্যসূত্র
BanglaFact’s own analysis