| এক্সপ্লেইনার | এক্সপ্লেইন
১/১১ এর পরিকল্পনা: গবেষণা প্রতিবেদনের সাক্ষ্য
জেনারেল মাসুদ শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ হেলালসহ
গুলশানে গোপন বৈঠক করেছিলেন
১৩ এপ্রিল ২০২৬
১/১১ নামে পরিচিত ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা জারি এবং মাইনাস টু-য়ের রাজনীতি ছিল বাংলাদেশের পরবর্তী দেড় যুগ ধরে চলা রাজনৈতিক ও মানবিক বিপর্য়ের চালিকাবিন্দু। সম্প্রতি লেফটেন্যান্ট মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.) মানবপাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরে বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে। উল্লেখ্য যে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগসহ মোট ১১ টি মামলা রয়েছে। ১/১১ ঘটানোয় বিতর্কিত এই জেনারেলের ভূমিকা নতুন করে উঠে এসেছে ইউনিভার্সটি অব লন্ডনের সোয়াসের গবেষণা প্রকাশনায়। প্রকাশনাটির শিরোনাম, ‘‘The 1-11 government and the consequences of ‘big bang’ anti-corruption in Bangladesh 2007–2009’’।
গবেষণায় আরো অনেক বিষয়ের পাশাপাশি উঠে আসে জেনারেল মাসুদের সাথে পতিত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ গুরুত্বপুর্ণ কুশীলবের নাম। গবেষণাপত্রের ৩৭-৩৮ পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে যে, ‘২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অনুরোধে একটি খসড়া নথি তৈরির মাধ্যমেই এই জরুরি অবস্থা জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বাংলাফাক্টের পক্ষ থেকে এখানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদের (অব.) ভূমিকার অংশটি হুবহু অনুবাদ করে দেওয়া হলো:
‘‘এটি সবাই স্বীকার করেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১/১১ ছিল অন্যতম এক বাঁক। তবে সে সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে ঘটেছিল, তা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। তর্কের মূল জায়গাটা হলো, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কি কেবল নির্বাচনী সংকট মেটানোই লক্ষ্য ছিল? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল। অনেকেই দাবি করেছেন, কিছু বিশেষ পক্ষ বিভিন্ন ঘটনায় জনসমক্ষে যে ভূমিকা রেখেছেন বলে দেখা গিয়েছিল, পর্দার আড়ালে তাদের ভূমিকা ছিল তার চেয়েও বেশি। অর্থাৎ তারা নিজেদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করেছিল। কারও কারও মতে, এই ঘটনাগুলো ছিল ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্যে সাজানো এক চক্রান্ত। আবার কারো বিশ্বাস, শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনের চেয়েও বড় কিছু অর্জনের লক্ষ্যে ভারতের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কেউ কেউ পশ্চিমা দূতাবাস এবং দাতাগোষ্ঠীদের কথিত 'মঙ্গলবার ক্লাব' (Tuesday Club)-এর মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবের ওপরও জোর দিয়েছেন।’’
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর মতে, ওয়ান ইলেভেন আসলে আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। তাঁর দাবি পরিকল্পনার বিষয়টা তিনি সরাসরিই জানতেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অনুরোধে একটি খসড়া নথি তৈরির মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছিল। তাঁর (ব্যবসায়ীর) সেই বিবরণটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হলো:
‘‘জেনারেল মাসুদ একদিন আমাকে তাঁর সাথে দেখা করতে বলেন। সেটা ছিল ২০০৬ সাল। দেশের অবনতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন, এবং কিছু একটা করা দরকার বলে তিনি জানালেন ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ম্যাডামের (বেগম খালেদা জিয়া) সাথে এটা নিয়ে কথা বলব।’
তিনি এ নিয়ে ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন কি না তা জানতে কয়েকদিন পর আমি আবার তাঁর সাথে দেখা করতে চাইলাম। তিনি (জেনারেল মাসুদ) নিশ্চিত করলেন, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান—উভয়ের সাথেই তিনি কথা বলেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ম্যাডামের প্রতিক্রিয়া কী ছিল। তিনি অস্পষ্টভাবে একটা উত্তর দিলেন। পরে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হয়ে থাকলেও, সম্ভবত কোনো পদক্ষেপের ব্যাপারে তাঁরা একমত হতে পারেননি। পরে একদিন তিনি আমাকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার একটা খসড়া তৈরি করতে বললেন এবং আমি সেটি তৈরি করে দিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল, খালেদা জিয়া জানতেন যে জেনারেল মাসুদ জরুরি অবস্থা জারি করতে চেয়েছিলেন... এটি ছিল ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবরের ঘটনা।’’
পরের ঘটনা বিষয়ে গবেষণাপত্রে ওই ব্যবসায়ীর জবানিতে বলা হচ্ছে,
‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করল এবং ইয়াজউদ্দীন প্রধান উপদেষ্টা হলেন, তিনি (মাাসুদ) আমাকে গুলশানের একটি জায়গায় দেখা করতে বললেন। আমি বুঝতে পারছিলাম না কেন তিনি আমাকে সেখানে যেতে বলছেন। তখন তিনি বুঝিয়ে বললেন যে, সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) একজন সদস্য থাকবেন... এটি ওয়ান-ইলেভেনের এক বা দুই দিন আগের ঘটনা। ওই সময়ের মধ্যেই ওয়ান-ইলেভেনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর, আলোচনার জন্য শেখ হাসিনা এলেন এবং তাঁর সাথে শেখ রেহানা ও শেখ হেলালও ছিলেন... কয়েক দিন পর জেনারেল মাসুদ আমাকে একটি বার্তা (টেক্সট) পাঠিয়ে লিখলেন ‘ডিক্লেয়ারড’ (ঘোষিত), এবং আমি বুঝে গেলাম তিনি আসলে কী ঘোষণা করেছেন। বিএনপি’র কাছ থেকে সবকিছু আড়ালে রেখে ওয়ান ইলেভেনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো, এবং তখন আমি বুঝলাম যে তিনি এটি আওয়ামী লীগেকে জানিয়েই করেছিলেন…’’
ব্যবসায়ী ব্যক্তি আরো জানাচ্ছেন,
‘‘জেনারেল মাসুদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সই করা কাগজপত্রগুলো আমাকে দেখাতে বললেন। তাঁরা ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবরের তারিখটি বদলে সেখানে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বসিয়ে দিয়েছিলেন। আমি জানি না এই ঘটনার সাথে বারি কীভাবে জড়িত হয়েছিলেন। তবে বারি বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি যখন ঘোষণাপত্রে সই করেন, তখন তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালকও সেখানে ছিলেন।’’
গবেষণাপত্রের লিংক: https://ace.soas.ac.uk/wp-content/uploads/2026/04/ACE-WorkingPaper056-BigBang-Final.pdf
Topics:
মামলা হয়নি, অথচ সাওদা সুমির মামলা প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের মহিলা বিভাগের
গণভোট বাতিল হয়নি, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ
ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে আটক
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য গণনাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভাবে উপস্থাপন
জাতিসংঘ কখন কোন অবস্থায় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়
আপনার মতামত দিন
এই পোস্টটি কি আপনার জন্য সহায়ক ছিল?
এখনো কেউ ভোট দেয়নি। আপনিই প্রথম হোন!
0%
0%
আপনার মতামত শেয়ার করুন:
| মন্তব্য সমূহ:
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!
এক্সপ্লেইনার
১/১১ এর পরিকল্পনা: গবেষণা প্রতিবেদনের সাক্ষ্য
জেনারেল মাসুদ শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ হেলালসহ
গুলশানে গোপন বৈঠক করেছিলেন
১৩ এপ্রিল ২০২৬
১/১১ নামে পরিচিত ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা জারি এবং মাইনাস টু-য়ের রাজনীতি ছিল বাংলাদেশের পরবর্তী দেড় যুগ ধরে চলা রাজনৈতিক ও মানবিক বিপর্য়ের চালিকাবিন্দু। সম্প্রতি লেফটেন্যান্ট মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.) মানবপাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরে বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে। উল্লেখ্য যে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগসহ মোট ১১ টি মামলা রয়েছে। ১/১১ ঘটানোয় বিতর্কিত এই জেনারেলের ভূমিকা নতুন করে উঠে এসেছে ইউনিভার্সটি অব লন্ডনের সোয়াসের গবেষণা প্রকাশনায়। প্রকাশনাটির শিরোনাম, ‘‘The 1-11 government and the consequences of ‘big bang’ anti-corruption in Bangladesh 2007–2009’’।
গবেষণায় আরো অনেক বিষয়ের পাশাপাশি উঠে আসে জেনারেল মাসুদের সাথে পতিত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ গুরুত্বপুর্ণ কুশীলবের নাম। গবেষণাপত্রের ৩৭-৩৮ পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে যে, ‘২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অনুরোধে একটি খসড়া নথি তৈরির মাধ্যমেই এই জরুরি অবস্থা জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বাংলাফাক্টের পক্ষ থেকে এখানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদের (অব.) ভূমিকার অংশটি হুবহু অনুবাদ করে দেওয়া হলো:
‘‘এটি সবাই স্বীকার করেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১/১১ ছিল অন্যতম এক বাঁক। তবে সে সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে ঘটেছিল, তা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। তর্কের মূল জায়গাটা হলো, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কি কেবল নির্বাচনী সংকট মেটানোই লক্ষ্য ছিল? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল। অনেকেই দাবি করেছেন, কিছু বিশেষ পক্ষ বিভিন্ন ঘটনায় জনসমক্ষে যে ভূমিকা রেখেছেন বলে দেখা গিয়েছিল, পর্দার আড়ালে তাদের ভূমিকা ছিল তার চেয়েও বেশি। অর্থাৎ তারা নিজেদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করেছিল। কারও কারও মতে, এই ঘটনাগুলো ছিল ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্যে সাজানো এক চক্রান্ত। আবার কারো বিশ্বাস, শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনের চেয়েও বড় কিছু অর্জনের লক্ষ্যে ভারতের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কেউ কেউ পশ্চিমা দূতাবাস এবং দাতাগোষ্ঠীদের কথিত 'মঙ্গলবার ক্লাব' (Tuesday Club)-এর মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবের ওপরও জোর দিয়েছেন।’’
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর মতে, ওয়ান ইলেভেন আসলে আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। তাঁর দাবি পরিকল্পনার বিষয়টা তিনি সরাসরিই জানতেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অনুরোধে একটি খসড়া নথি তৈরির মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছিল। তাঁর (ব্যবসায়ীর) সেই বিবরণটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হলো:
‘‘জেনারেল মাসুদ একদিন আমাকে তাঁর সাথে দেখা করতে বলেন। সেটা ছিল ২০০৬ সাল। দেশের অবনতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন, এবং কিছু একটা করা দরকার বলে তিনি জানালেন ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ম্যাডামের (বেগম খালেদা জিয়া) সাথে এটা নিয়ে কথা বলব।’
তিনি এ নিয়ে ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন কি না তা জানতে কয়েকদিন পর আমি আবার তাঁর সাথে দেখা করতে চাইলাম। তিনি (জেনারেল মাসুদ) নিশ্চিত করলেন, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান—উভয়ের সাথেই তিনি কথা বলেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ম্যাডামের প্রতিক্রিয়া কী ছিল। তিনি অস্পষ্টভাবে একটা উত্তর দিলেন। পরে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হয়ে থাকলেও, সম্ভবত কোনো পদক্ষেপের ব্যাপারে তাঁরা একমত হতে পারেননি। পরে একদিন তিনি আমাকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার একটা খসড়া তৈরি করতে বললেন এবং আমি সেটি তৈরি করে দিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল, খালেদা জিয়া জানতেন যে জেনারেল মাসুদ জরুরি অবস্থা জারি করতে চেয়েছিলেন... এটি ছিল ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবরের ঘটনা।’’
পরের ঘটনা বিষয়ে গবেষণাপত্রে ওই ব্যবসায়ীর জবানিতে বলা হচ্ছে,
‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করল এবং ইয়াজউদ্দীন প্রধান উপদেষ্টা হলেন, তিনি (মাাসুদ) আমাকে গুলশানের একটি জায়গায় দেখা করতে বললেন। আমি বুঝতে পারছিলাম না কেন তিনি আমাকে সেখানে যেতে বলছেন। তখন তিনি বুঝিয়ে বললেন যে, সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) একজন সদস্য থাকবেন... এটি ওয়ান-ইলেভেনের এক বা দুই দিন আগের ঘটনা। ওই সময়ের মধ্যেই ওয়ান-ইলেভেনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর, আলোচনার জন্য শেখ হাসিনা এলেন এবং তাঁর সাথে শেখ রেহানা ও শেখ হেলালও ছিলেন... কয়েক দিন পর জেনারেল মাসুদ আমাকে একটি বার্তা (টেক্সট) পাঠিয়ে লিখলেন ‘ডিক্লেয়ারড’ (ঘোষিত), এবং আমি বুঝে গেলাম তিনি আসলে কী ঘোষণা করেছেন। বিএনপি’র কাছ থেকে সবকিছু আড়ালে রেখে ওয়ান ইলেভেনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো, এবং তখন আমি বুঝলাম যে তিনি এটি আওয়ামী লীগেকে জানিয়েই করেছিলেন…’’
ব্যবসায়ী ব্যক্তি আরো জানাচ্ছেন,
‘‘জেনারেল মাসুদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সই করা কাগজপত্রগুলো আমাকে দেখাতে বললেন। তাঁরা ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবরের তারিখটি বদলে সেখানে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বসিয়ে দিয়েছিলেন। আমি জানি না এই ঘটনার সাথে বারি কীভাবে জড়িত হয়েছিলেন। তবে বারি বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি যখন ঘোষণাপত্রে সই করেন, তখন তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালকও সেখানে ছিলেন।’’
গবেষণাপত্রের লিংক: https://ace.soas.ac.uk/wp-content/uploads/2026/04/ACE-WorkingPaper056-BigBang-Final.pdf